Academy

আমি ভালোবাসি আমার 

নদীর বালুচর,

শরৎকালে যে নির্জনে 

চকাচকির ঘর 

যেথায় ফুটে কাশ 

তটের চারি পাশ, 

শীতের দিনে বিদেশি সব 

হাঁসের বসবাস

উদ্দীপকের সঙ্গে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার কোন দিকটির মিল রয়েছে? (প্রয়োগ)

Created: 8 months ago | Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago
Ans :

বালকের কল্পনাপ্রবণতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার সাদৃশ্য রয়েছে।

কল্পনায় মানুষ অনেক কিছু ভাবে, চিন্তা করে। আর প্রকৃতি মানুষকে কল্পনাপ্রবণ করে তোলে। এ কারণেই প্রকৃতি মানুষের পরম বন্ধু।

• উদ্দীপকে একধরনের কল্পনা প্রকাশ পেয়েছে। যে কল্পনায় নদীর বালুচর ও শরৎকালের নির্জন চকাচকির ঘরের কথা বলা হয়েছে। যেখানে কাশফুল থাকবে নদীর তীরে, আর থাকবে শীতের দিনের বিদেশি হাঁস। মূলত এখানে প্রকৃতি সংক্রান্ত কল্পনা প্রাধান্য পেয়েছে। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার অমলও কল্পনায় দইওয়ালার গ্রাম দেখেছে। দইওয়ালার গ্রাম আর অমলের কল্পনার গ্রামের প্রকৃতি একই রকম। তাই বলা যায়, বালকের কল্পনাপ্রবণতার দিক দিয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার মিল রয়েছে।

8 months ago

অমল ও দইওয়ালা (নাটিকা)

দইওয়ালা : দই-দই-ভালো দই!
অমল : দইওয়ালা, দইওয়ালা, ও দইওয়ালা!
দইওয়ালা : ডাকছ কেন? দই কিনবে?
অমল : কেমন করে কিনব! আমার তো পয়সা নেই।
দইওয়ালা : কেমন ছেলে তুমি। কিনবে না তো আমার বেলা বইয়ে দাও কেন?
অমল : আমি যদি তোমার সঙ্গে চলে যেতে পারতুম তো যেতুম।
দইওয়ালা : আমার সঙ্গে!
অমল : হাঁ। তুমি যে কত দূর থেকে হাঁকতে হাঁকতে চলে যাচ্ছ, শুনে আমার মন কেমন করছে।
দইওয়ালা : (দধির বাঁক নামাইয়া) বাবা, তুমি এখানে বসে কী করছ?
অমল : কবিরাজ আমাকে বেরোতে বারণ করেছে, তাই আমি সারা দিন এইখানেই বসে থাকি।
দইওয়ালা : আহা, বাছা তোমার কী হয়েছে?
অমল : আমি জানি নে। আমি তো কিচ্ছু পড়িনি, তাই আমি জানি নে আমার কী হয়েছে। দইওয়ালা তুমি কোথা থেকে আসছ?
দইওয়ালা : আমাদের গ্রাম থেকে আসছি।
অমল : তোমাদের গ্রাম? অনে-ক দূরে তোমাদের গ্রাম?
দইওয়ালা : আমাদের গ্রাম সেই পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায়। শামলী নদীর ধারে।
অমল : পাঁচমুড়া পাহাড়-শামলী নদী-কী জানি, হয়তো তোমাদের গ্রাম দেখেছি-কবে সে আমার মনে পড়ে না।
দইওয়ালা : তুমি দেখেছ? পাহাড়তলায় কোনোদিন গিয়েছিলে নাকি?
অমল : না, কোনোদিন যাইনি। কিন্তু আমার মনে হয় যেন আমি দেখেছি। অনেক পুরোনো কালের খুব বড়ো বড়ো গাছের তলায় তোমাদের গ্রাম- একটি লালরঙের রাস্তার ধারে।
দইওয়ালা : ঠিক বলেছ বাবা।
অমল : সেখানে পাহাড়ের গাঁয়ে সব গরু চরে বেড়াচ্ছে।
দইওয়ালা : কী আশ্চর্য! ঠিক বলছ। আমাদের গ্রামে গরু চরে বইকি, খুব চরে।
অমল : মেয়েরা সব নদী থেকে জল তুলে মাথায় কলসি নিয়ে যায়-তাদের লাল শাড়ি পরা।
দইওয়ালা : বা! বা! ঠিক কথা। আমাদের সব গয়লাপাড়ার মেয়েরা নদী থেকে জল তুলে তো নিয়ে যায়ই। তবে কিনা তারা সবাই যে লাল শাড়ি পরে তা নয়- কিন্তু বাবা, তুমি নিশ্চয় কোনোদিন সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলে!
অমল : সত্যি বলছি দইওয়ালা, আমি একদিনও যাইনি। কবিরাজ যেদিন আমাকে বাইরে যেতে বলবে সেদিন তুমি নিয়ে যাবে তোমাদের গ্রামে?
দইওয়ালা : যাব বইকি বাবা, খুব নিয়ে যাব!
অমল : আমাকে তোমার মতো ওইরকম দই বেচতে শিখিয়ে দিয়ো। ওইরকম বাঁক কাঁধে নিয়ে- ওইরকম খুব দূরের রাস্তা দিয়ে।
দইওয়ালা : মরে যাই! দই বেচতে যাবে কেন বাবা? এত এত পুঁথি পড়ে তুমি পণ্ডিত হয়ে উঠবে।
অমল : না, না, আমি কক্ষনো পণ্ডিত হবো না। আমি তোমাদের রাঙা রাস্তার ধারে তোমাদের বুড়ো বটের তলায় গোয়ালপাড়া থেকে দই নিয়ে এসে দূরে দূরে গ্রামে গ্রামে বেচে বেচে বেড়াব। কী রকম করে তুমি বল, দই, দই, দই-ভালো দই।
আমাকে সুরটা শিখিয়ে দাও।
দইওয়ালা : হায় পোড়াকপাল! এ সুরও কি শেখবার সুর!
অমল : না, না, ও আমার শুনতে খুব ভালো লাগে। আকাশের খুব শেষ থেকে যেমন পাখির ডাক শুনলে মন উদাস হয়ে যায়- তেমনি ওই রাস্তার মোড় থেকে ওই গাছের সারির মধ্যে দিয়ে যখন তোমার ডাক আসছিল, আমার মনে হচ্ছিল- কী জানি কী মনে হচ্ছিল!
দইওয়ালা : বাবা, এক ভাঁড় দই তুমি খাও।
অমল : আমার তো পয়সা নেই।
দইওয়ালা : না না না না- পয়সার কথা বোলো না। তুমি আমার দই খেলে আমি কতো খুশি হব।
অমল : তোমার কি অনেক দেরি হয়ে গেল?
দইওয়ালা : কিচ্ছু দেরি হয়নি বাবা, আমার কোনো লোকসান হয়নি। দই বেচতে যে কতো সুখ সে তোমার কাছে শিখে নিলুম।
[প্রস্থান]

অমল : (সুর করিয়া) দই, দই, দই, ভালো দই! সেই পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায় শামলী নদীর ধারে গয়লাদের বাড়ির দই। তারা ভোরের বেলায় গাছের তলায় গরু দাঁড় করিয়ে দুধ দোয়, সন্ধ্যাবেলায় মেয়েরা দই পাতে, সেই দই। দই, দই, দই-ই, ভালো দই!

Content added By

Related Question

View More

2 'বা! বা! ঠিক কথা।' বুঝিয়ে লেখ। (অনুধাবন)

Created: 8 months ago | Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago

দইওয়ালার গ্রাম সম্পর্কে অমল বলাতে দইওয়ালা আলোচ্য উক্তিটি করেছে।

অমল দইওয়ালাকে ডেকে কথা বলছিল। এমন সময় দইওয়ালার গ্রামের বাড়ি সম্পর্কে অমল জানতে চায়। দইওয়ালার গ্রামের বাড়িতে অমল কখনো না গেলেও তার বর্ণনার সঙ্গে দইওয়ালার গ্রামের বর্ণনা মিলে যায়। আর এতে করে দইওয়ালা খুবই অবাক হয়। এমনকি দইওয়ালার গ্রামের মেয়েরা নদী থেকে পানি তুলে নিয়ে যায়, তার বর্ণনাও অমল দেয়। অমলের এই বর্ণনা শুনে দইওয়ালা খুবই অবাক হয়ে যায়। আর অবাক হয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।

উদ্দীপকের অমির সঙ্গে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার অমলের মিল পাওয়া যায়।

মাঝে মাঝে মানুষের মন অজানা ও ছোট্ট বিষয়ের জন্য খুব কাতর হয়ে ওঠে। আর তখন সেই ছোট্ট বিষয়টিকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

উদ্দীপকে দেখা গেছে অমি আইসক্রিমওয়ালাকে ডেকেছে। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকাতে অমলও দইওয়ালাকে ডেকেছে। জানালা দিয়ে দইওয়ালার গলা শুনতে পেয়ে সে তাকে ডাক দিয়ে কথা বলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অমির সঙ্গে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার অমলের মিল পাওয়া যায়।

উদ্দীপকটি 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার একটি অংশবিশেষ-মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ যখন নিঃসঙ্গতায় ভোগে, তখন সে তার চারপাশের সব কিছুকেই আশ্রয় করে বাঁচতে চায়। সেটা প্রকৃতিও হতে পারে, আবার মানুষও হতে পারে।

উদ্দীপকের অমি আইসক্রিম খাওয়ার জন্য আইসক্রিমওয়ালাকে ডেকেছে। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকাতে অমলও দইওয়ালাকে, ডেকেছে। তবে দই খাওয়ার জন্য নয়। দইওয়ালার সঙ্গে গল্প করার জন্য। কারণ সে অসুস্থ বলে তার কোথাও যাওয়া নিষেধ। কিন্তু তার মন পড়ে আছে প্রকৃতির মাঝে। তাই দইওয়ালাকে ডেকে নিজের মনের কল্পনার কথা প্রকাশ করেছে সে।

উদ্দীপকে অমি শুধু আইসক্রিমওয়ালাকে ডেকেছে আইসক্রিম খাওয়ার জন্য। আর নাটিকাতে অমল নিজের মনের কথা বলার জন্য দইওয়ালাকে ডেকেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নাটিকার একটি অংশবিশেষ। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

6 অমলের মন কেন উদাস হয়ে যায়? (অনুধাবন)

Created: 8 months ago | Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago

দইওয়ালার ডাক শুনলে সেই সুরে অমলের মন কেমন যেন উদাস হয়ে যায়।'

অসুস্থতার কারণে অমল বাড়ির বাইরে কোথাও যেতে পারে না। সারাক্ষণ বাড়িতে থেকে তাকে ঘিরে ধরেছে বিষণ্ণতা। এজন্য যখন সে দইওয়ালার ডাক শুনতে পায়, তার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। তার মন কেমন যেন উদাস হয়ে যায়। আকাশের খুব শেষ থেকে যেমন পাখির ডাক শুনলে মন উদাস হয়ে যায়, দইওয়ালার ডাক শুনলে অমলের ঠিক তেমনভাবে উদাস লাগে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...