Academy

লোকমান সাহেবের ঢাকায় আজ পাঁচতলা বাড়ি। রমিজউদ্দিন বিপদে পড়ে লোকমান সাহেবের কাছ থেকে একবার টাকা ধার নিয়েছিল। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লোকমান সাহেব তার সব জায়গা-জমি টিপসই দিয়ে নিজের করে নেয়। রমিজউদ্দিনের থাকবার মতো ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর ছিল ঝড়ে তাও উড়িয়ে নিয়ে গেল। তাই খোদার কাছে আক্ষেপ করে বলছেন, “যে আমাকে ঠকিয়ে দালান করেছে, তার তো কোনো ক্ষতি হয় না। আর আমার এই মাথা গোঁজার মতো সামান্য কুঁড়েঘর তাও তুমি কেড়ে নিলে।"

উদ্দীপকের সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Created: 4 months ago | Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago
Ans :

উদ্দীপকের সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার গরিবের ভাগ্য বিপর্যয়ের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

অসহায় দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি মজবুত হয় না। তাই একটু হাওয়াতেই সেগুলো নড়বড় করে। জোরে ঝড়ো বাতাস বইলে সেগুলো ভেঙে যায়। তারা অত্যন্ত অভাবী এবং অতি কষ্টে তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়।

উদ্দীপকের রমিজউদ্দিনের জমি কৌশলে লোকমান সাহেব লিখে নিয়েছে। সব হারিয়ে তার থাকার মতো শুধু একটা কুঁড়েঘর ছিল। তাও ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। তাই খোদার কাছে আক্ষেপ করে সে বলেছে, যারা আমাকে ঠকিয়ে দালান করেছে তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। আর আমার মাথা গোঁজার মতো সামান্য কুঁড়েঘর ছিল তাও তুমি কেড়ে নিলে। 'বোশেখ' কবিতায় কবি গরিব-দুঃখী মানুষের বিপর্যয় সৃষ্টিতে বোশেখের রুদ্ররূপ দেখিয়েছেন। তাদের ঘরের খুঁটি, ভিটে গুঁড়িয়ে যায় ঝড়ে অথচ ধনীর দালানের একটা ইটও খসে না। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার গরিবের ভাগ্য বিপর্যয়ের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

4 months ago

বোশেখ

যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়

জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে

নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে

নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।

 

সেই পবনের কাছে আমার এই মিনতি

তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী,

গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?

কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?

 

বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে টুনটুনিদের

উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি

হে দেবতা, বলো তোমার কী আনন্দ,

কী মজা পাও বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে?

 

রামায়ণে পড়েছি যার কীর্তিগাথা

সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি ?

কালিদাসের মেঘদূতে যার কথা আছে

তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী ?

 

তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস

উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি

কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে

তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো। 

 

হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি,

তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের

যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা

অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতো।

 

কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ

তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন করজোড়ে

যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি

কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।

 

ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান

ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের

পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান

বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।
 

Content added || updated By

Related Question

View More

কবি পবনের কাছে মিনতি করেছেন যেন গরিব-দুঃখীদের দুর্দশার মাত্রা আর না বাড়ে।

কবি পবন অর্থাৎ বাতাসের কাছে মিনতি করেছেন স্থির হওয়ার জন্য। কারণ বৈশাখের মহাপ্রতাপশালী বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়। এতে তার জীবিকা অর্জনও থমকে যায়। চাষির নড়বড়ে ঘরটি বৈশাখের ঝড়ের প্রতাপে গুঁড়িয়ে গেলে সে নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। এসব কারণে কবি গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহমর্মী হয়ে পবনের কাছে স্থির হওয়ার জন্য মিনতি করেছেন।

উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সঙ্গে রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্যে 'বোশেখ' কবিতায় প্রকাশিত শ্রমজীবী মানুষের অসহায়ত্ব এবং তাদের ওপর শোষকদের নিষ্পেষণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

'আমাদের এ সমাজব্যবস্থা এমন এক ধারার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে যেখানে দরিদ্ররা সব জায়গায়ই বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের ওপর নিষ্পেষণ ও বঞ্চনার স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে। মানুষ কিংবা প্রকৃতি- সবকিছুই তাদের বিরুদ্ধে। সমাজের ধনীরা গরিবের শ্রমে অর্জিত সম্পদ ভোগ করছে, তাদেরকে ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত করছে।

উদ্দীপকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের বঞ্চনার শিকার হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি বন্যার্তদের ওপর রিলিফ কমিটির আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তাদের বরাদ্দের চেয়ে কম ত্রাণ দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। অথচ ধনীদের বরাদ্দের অতিরিক্ত ত্রাণ পৌছে দেওয়া হয়। এ বিষয়টি 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। কালবৈশাখি ঝড় বয়ে গেলে দরিদ্র মানুষের বেশি ক্ষতি হয়। তাদের বহু কষ্টের ফসল, আশ্রয় ধ্বংস হয়। অথচ ধনীদের প্রাসাদ ঠিকই অক্ষত থাকে। উদ্দীপকের বিষয়টি কবিতার এই ভাবকেই প্রতিকায়িত করেছে।

"উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার একটা খন্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।

বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌছেছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে দরিদ্র ও শ্রমজীবীরা শোষণের শিকার হচ্ছে। শোষকরা ছলে, বলে, কৌশলে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখছে। সামাজিক বৈষম্য কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সবখানেই দরিদ্র মানুষের জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করছে।

উদ্দীপকে দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্ব ও শোষণের চিত্র উঠে এসেছে। বন্যার কারণে বাস্তুহারা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ সমাজের প্রভাবশালীরা আত্মসাৎ করে গরিবদের বঞ্চিত করে ধনীদের কাছে পৌছে দেয়। দরিদ্র মানুষের এই দুর্দশা ও অসহায়ত্বের চিত্র 'বোশেখ' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। তবে এ ভাবই কবিতার একমাত্র দিক নয়। এ দিকটি ছাড়াও কবিতায় নানাবিধ বিষয় ও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে।

'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী ঝড়কে মহাপ্রতাপশালী আখ্যা দিয়ে তাকে দরিদ্র মানুষের সর্বনাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি হিংস্র থাবায় গরিবের বাসস্থান, দরিদ্র মাঝির পালের দড়ি, অসহায় পাখিদের বাসা ধ্বংস না করতে বলেছেন। যারা শ্রমজীবীদের শোষণ করে অট্টালিকা গড়ে তুলেছে সেই অট্টালিকা যেন কালবৈশাখি ঝড়ে গুঁড়িয়ে যায়। মূলত এ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। কবিতার এসব বিষয় ও ভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।

যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে বাতাস তাদের প্রাসাদের ইট খসাতে পারে না।

'বোশেখ' কবিতায় বৈশাখী বাতাস মহাপ্রতাপশালী।

'বোশেখ' কবিতায় কবি বলেছেন, বৈশাখী বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়। এছাড়া কালবৈশাখি বাতাস গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে ফেলে। চাষির ভিটে গুঁড়িয়ে দেয়। টুনটুনিদের বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে ফেলে। দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উলটে ফেলে দেয়। বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। গরিব চাষির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও রাখে বৈশাখী বাতাস। মূলত 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখী বাতাসের ধ্বংসাত্মক রূপ তুলে ধরেছেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...