লোকমান সাহেবের ঢাকায় আজ পাঁচতলা বাড়ি। রমিজউদ্দিন বিপদে পড়ে লোকমান সাহেবের কাছ থেকে একবার টাকা ধার নিয়েছিল। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লোকমান সাহেব তার সব জায়গা-জমি টিপসই দিয়ে নিজের করে নেয়। রমিজউদ্দিনের থাকবার মতো ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর ছিল ঝড়ে তাও উড়িয়ে নিয়ে গেল। তাই খোদার কাছে আক্ষেপ করে বলছেন, “যে আমাকে ঠকিয়ে দালান করেছে, তার তো কোনো ক্ষতি হয় না। আর আমার এই মাথা গোঁজার মতো সামান্য কুঁড়েঘর তাও তুমি কেড়ে নিলে।"
উদ্দীপকের সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার গরিবের ভাগ্য বিপর্যয়ের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
অসহায় দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি মজবুত হয় না। তাই একটু হাওয়াতেই সেগুলো নড়বড় করে। জোরে ঝড়ো বাতাস বইলে সেগুলো ভেঙে যায়। তারা অত্যন্ত অভাবী এবং অতি কষ্টে তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়।
উদ্দীপকের রমিজউদ্দিনের জমি কৌশলে লোকমান সাহেব লিখে নিয়েছে। সব হারিয়ে তার থাকার মতো শুধু একটা কুঁড়েঘর ছিল। তাও ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। তাই খোদার কাছে আক্ষেপ করে সে বলেছে, যারা আমাকে ঠকিয়ে দালান করেছে তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। আর আমার মাথা গোঁজার মতো সামান্য কুঁড়েঘর ছিল তাও তুমি কেড়ে নিলে। 'বোশেখ' কবিতায় কবি গরিব-দুঃখী মানুষের বিপর্যয় সৃষ্টিতে বোশেখের রুদ্ররূপ দেখিয়েছেন। তাদের ঘরের খুঁটি, ভিটে গুঁড়িয়ে যায় ঝড়ে অথচ ধনীর দালানের একটা ইটও খসে না। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বোশেখ' কবিতার গরিবের ভাগ্য বিপর্যয়ের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়
জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে
নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে
নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।
সেই পবনের কাছে আমার এই মিনতি
তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী,
গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?
কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?
বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে টুনটুনিদের
উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি
হে দেবতা, বলো তোমার কী আনন্দ,
কী মজা পাও বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে?
রামায়ণে পড়েছি যার কীর্তিগাথা
সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি ?
কালিদাসের মেঘদূতে যার কথা আছে
তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী ?
তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস
উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি
কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে
তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো।
হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি,
তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের
যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা
অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতো।
কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ
তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন করজোড়ে
যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি
কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।
ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান
ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান
বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?