Academy

একেক মানুষের শখ একেক রকম। কারো শখের সঙ্গে মিশে থাকে মমত্ববোধ আর ভালোবাসা। শখের বশে করা কাজ অনেক সময় অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে। কেউ-বা শখের বশে করা কাজের মাঝে খুঁজে ফেরেন মানসিক প্রশান্তি। পাবনার পাখিপ্রেমী সমর কুমার ঘোষ তেমনই একজন। প্রতিদিন ভোরে শালিক পাখিদের চানাচুর দিয়ে আপ্যায়ন করেন। আর এ কাজটি তিনি করেছেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে। শালিকের এমন আপ্যায়নের দৃশ্য নজর কাড়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া মানুষের। শালিক ও সমরের এই সখ্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সুধীজনরা।

"উদ্দীপকের সমর কুমার ঘোষ 'পাখি' গল্পের লেখিকার চেতনাকে ধারণ করেছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

"উদ্দীপকের সমর কুমার ঘোষ 'পাখি' গল্পের লেখিকার চেতনাকে ধারণ করেছে"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)


Earn by adding a description for the above question! 🏆✨ Provide correct answer/description to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'

পাখি

ডান পাটা মাটি থেকে এক বিঘত ওঠে, তার বেশি ওঠে না। কুমু তা হলে চলে কী করে?
মাসিরা মাকে বললেন- "কিচ্ছু ভাবিসনে, রোগ তো সেরেই গেছে, এখন ওকে ঝাড়া তিন মাস সোনাঝুরিতে মার কাছে রেখে দে, দেখিস কেমন চাঙ্গা হয়ে উঠবে।"
বাবাও তাই বললেন, "বাঃ, তবে আর ভাবনা কী, কুমু? তা ছাড়া ওখানে ওই লাটু বলে মজার ছেলেটা আছে, হেসে খেলে তোর দিন কেটে যাবে।"
কিন্তু পড়া? কুমু যে পড়ায় বড়ো ভালো ছিল। তা তিন মাস গেছে শুয়ে শুয়ে, তিন মাস গেছে পায়ে লোহার ফ্রেম বেঁধে হাঁটতে শিখে। আরও তিন মাস যদি যায় দিদিমার বাড়িতে, তবে পড়া সব ভুলে যাবে না?
মা বললেন, "পড়ার জন্য অত ভাবনা কীসের? লাটুর বাড়ির মাস্টার তোমাকেও পড়াবেন।"
মাসিরা বললেন, "বেঁচে উঠেছিস এই যথেষ্ট, তা না হয় একটা বছর ক্ষতিই হলো, তাতে কী এমন অসুবিধেটা হবে শুনি?"
হাসি, রত্না সবাই ওপরের ক্লাসে উঠে যাবে, কুমু পড়ে থাকবে, ভাবলেও কান্না পায়। কুমুর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।
সোনাঝুরিতে দিম্মার বাড়ির দোতলার বড়ো ঘরে, মস্ত জানালার ধারে আরামচেয়ারে বসে বসে চেয়ে দেখে দূরে একটা বিল, সেখানে হাজার হাজার বৃষ্টির জলের ফোঁটা পড়ছে আর অমনি বিলের জলে মিশে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে পাটা আবার একটু তুলতে চেষ্টা করে কুমু।
সন্ধে হয়ে আসছে, বৃষ্টি থেমে গেছে, বিলের জল সাদা চকচক করছে।

আকাশ থেকে হঠাৎ ছায়ার মতো কী বিলের ওপর নেমে এল। কুমু দেখে ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা ফিকে ছাই রঙের বুনো হাঁস ঝুপঝাপ করে জলে নামছে।

এক ছড়া কী যেন সাদা ফুল হাতে নিয়ে লাটু এসে বলল, "ওই দেখ, বুনোহাঁসরা আবার এসেছে।
শিকারিদের কী মজা! ইস, আমার যদি একটা এয়ারগান থাকত।"
কুমু বলল, "বন্দুক নেই ভালোই হয়েছে। অমন সুন্দর পাখিও মারতে ইচ্ছে করে!"
দিম্মাও তখন ঘরে এসে বললেন, "হ্যাঁ, ওদের ওই এক চিন্তা!"
কুমু বলল, "কোথেকে এসেছে ওরা?"
"যেই শীত পড়ে অমনি উত্তরের ঠান্ডা দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসে, বাঁধের কাছে দু-তিন দিন বিশ্রাম করে, তারপর আবার দক্ষিণ দিকে উড়ে যায়, শোনা যায় নাকি সমুদ্রের ওপর দিয়ে আন্দামান অবধি উড়ে যায় কেউ কেউ।”

লাটু কাছে এসে ফুলটা কুমুর খাটে রেখে বলল-"আবার শীতের শেষে ঝাঁকে ঝাঁকে সব ফিরে আসে, সেকথা তো বললে না ঠাকুরমা?"
লাটুর কথার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দূরে দুম দুম করে বন্দুকের গুলির শব্দ হলো, আর বুনোহাঁসের ঝাঁক জল ছেড়ে আকাশে উড়ে খুব খানিকটা ডাকাডাকি করে আবার জলে নামল।
পরদিন সকালে জানালা খুলে, পর্দা টেনে দিম্মা চলে গেলে, কুমু জানালা দিয়ে চেয়ে দেখে লেবু গাছের পাতার আড়ালে, ডাল ঘেঁষে কোনোমতে আঁকড়ে-পাকড়ে বসে রয়েছে ছোট একটা ছাই রঙের বুনোহাঁস। সরু লম্বা কালো ঠোঁট দুটো একটু হাঁ করে রয়েছে, পা দুটো একসঙ্গে জড়ো করা, বুকের রঙটা প্রায় সাদা, চোখ দুটো একেবারে কুমুর চোখের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রয়েছে, কালো মখমলের মতো দুটো চোখ। একদিকের ডানা একটু ঝুলে রয়েছে, খানিকটা রক্ত জমে রয়েছে, সমস্ত শরীরটা থরথর করে কাঁপছে।
পাখিটাকে দেখে কুমুর গলার ভেতরে টনটন করতে থাকে; হাত বাড়িয়ে বলে, "তোমার কোনো ভয় নেই, কোনো ভয় নেই।" পাখিটা চোখ বন্ধ করে, আবার খোলে। আর একটু ডাল ঘেঁষে বসে।
লাটু কুমুর কাঁধের ওপর দিয়ে উঁকি মেরে পাখিটাকে দেখতে পায়। "ইস! ডানায় গুলি লেগেছে বেচারার। চুন হলুদ দিয়ে বেঁধে দিলে সেরেও যেতে পারে। বলিস তো ধরে আনি।"
কুমু বলল, "কিন্তু দিম্মা কী বলবেন?"

"কী আবার বলবেন? বলবেন ছি, ছি, ছি, নোংরা জিনিস ফেলে দে, ওসব কি বাঁচে!"
কুমু জোর গলায় বলল, "নিশ্চয় বাঁচে, চুন হলুদ দিয়ে ডানা বেঁধে, গরম জায়গায় রাখলে নিশ্চয় বাঁচে।"
লাটু বলল, "কোন গরম জায়গায়?"
"কেন আমার বিছানায়, লেপের মধ্যে।"
"দেখিস, কেউ যেন টের না পায়।"
"কী করে টের পাবে, আমার বিছানা তো আমি নিজে করি। ডাক্তার আমাকে হাত-পা চালাতে বলেছে যে। আচ্ছা, ধরতে গেলে উড়ে পালাবে না তো?"
"তোর যেমন বুদ্ধি। এক ডানায় ওড়া যায় নাকি?"
"কী খাবে ও লাটু?"
লাটু ভেবে পায় না খাটের মধ্যে বিছানার ভিতরে কী খাওয়াবে ওকে। না খেয়ে যদি মরে যায়!
"এক কাজ করলে হয় না রে কুমু? ঝুড়ি দিয়ে, লেবু গাছের ডালে ওর জন্য একটা বাসা বেঁধে দিই, তা হলে ভাঙা ডানা নিয়ে আর পড়ে যাবে না, নিজেই পোকামাকড় ধরে খাবে।"

নিমেষের মধ্যে ঝুড়ি নিয়ে লাটু জানালা গলে একেবারে লেবু গাছের ডালে। ভয়ের চোটে পাখিটা পড়ে যায় আর কী! লাটু তাকে খপ করে ধরে ফেলে, কিন্তু কী তার ডানা ঝটপটানি, ঠুকরে ঠুকরে লাটুর হাত থেকে রক্ত বের করে দিল। লাটু দড়ি দিয়ে শক্ত করে ঝুড়ি বেঁধে পাখিটাকে আস্তে আস্তে তার মধ্যে বসিয়ে দিল। অমনি পাখিটা আধমরার মতো চোখ বুঁজে ভালো ডানাটার মধ্যে ঠোঁট গুঁজে দিল।

লাটু সে জায়গাটাতে নিজের পা কাটার সময়কার হলদে মলম লাগিয়ে দিয়ে আবার জানালা গলে ঘরে এল। বলল, "ঠাকুরমার কাছে যেন আবার বলিস না। বলবেন হয়তো, ছুঁস না ওটাকে।"

কুমু হাঁটতে পারে না ভালো করে, পাখিটাও উড়তে পারে না। পারলে নিশ্চয় ওই দূরে বিলে ওর বন্ধুদের কাছে চলে যেত। গাছের ডালে ঝুড়িতে ডানায় মুখ গুঁজে চুপ করে পড়ে থাকত না। কুমুর পা ভালো হলে কুমুও এখানে থাকত না। মার কাছে থাকত, রোজ ইস্কুলে যেত, সন্ধেবেলায় সাঁতার শিখত, দৌড় খেলার জন্য রোজ অভ্যাস করত। আর কোনোদিনও হয়তো কুমু দৌড়াতে পারবে না। কিছুতেই আর পায়ে জোর পায় না, মাটি থেকে ওই এক বিঘতের বেশি তুলতে পারে না। মনে হয় অন্য পাটার চেয়ে একটা একটু ছোটো হয়ে গেছে।

আর একবার জানালার কাছে গিয়ে পাখিটাকে দেখে ভালো করে, ও ডানাটাকে যে নাড়া যায় না সে বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই। পাখিটা ঝুড়িতে বসে আস্তে আস্তে কালো ঠোঁট দিয়ে বুকের পালক পরিষ্কার করছে। তারপর কিছুক্ষণ ঠোঁটে ভর দিয়ে চুপ করে চোখ বুঁজে পড়ে থাকল; তারপর আবার চোখ খুলে গাছের ডাল থেকে কী একটা খুঁটে খেল।

কুমু বালিশের তলা থেকে ছোট্ট বিস্কুটের বাক্স থেকে একটুখানি বিস্কুট ছুড়ে দিল। পাখিটাও অমনি যেন পাথর হয়ে জমে গেল। বিস্কুটের দিকে ফিরেও চাইল না। কুমু আবার খাটে এসে বসল, নতুন গল্পের বইটা পড়তে চেষ্টা করল। পনেরো মিনিট বাদে আর একবার জানালা দিয়ে উঁকি মারল। বুকের পালক পরিষ্কার করতে করতে পাখিটা আবার কী একটা খুঁটে খেল।

গাছের ডালে পাখিটা একটু নড়ছে, একটু শব্দ হচ্ছে, কুমু ভয়ে কাঠ, এই বুঝি দিম্মা দেখতে পেয়ে মঙ্গলকে বলেন, “ফেলে দে ওটাকে, বড়ো নোংরা, ঝুড়ি খুলে আন, ওটা কে বেঁধেছে ওখানে?”

কুমু জানালা দিয়ে চেয়ে দেখে পাখিটা ঘুমিয়ে আছে। কুমুও বই নিয়ে বিছানায় গিয়ে শুল। হঠাৎ জানালার বাইরে শোরগোল। চমকে উঠে দেখে একটা হলদে বেড়াল গাছের ডালে গিয়ে উঠছে। কুমু ভয়ে কাঠ; এই বুঝি বেড়াল পাখিটা খেল। কিন্তু খাবে কী, অত বড়ো পাখি তার তেজ কত! দিলো ঠুকরে ঠেলে ভাগিয়ে। দুটো কাক দূর থেকে মজা দেখল, কাছে ঘেঁষতে সাহস পেল না।

কুমু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে এ মাথা থেকে ও মাথা হেঁটে বেড়াতে লাগল, খোঁড়া তো হয়েছে কী, এইরকম করে হাঁটলেই না পায়ের জোর বাড়বে। দু-বার হেঁটে কুমু এসে যখন খাটে বসল, পা দুটোতে ব্যথা ধরে গেছে কিন্তু মনে হচ্ছে যেন ডান পাটা এক বিঘতের চেয়ে একটু বেশিই তোলা যাচ্ছে।

এমনি করে দিন যায়, বুনো হাঁসের ডানা আস্তে আস্তে সারতে থাকে। দু-দিন পরে পাখির ঝাঁক বিল থেকে দক্ষিণ দিকে উড়ে গেল। গাছের ডালে বসে পাখিটা একটা ডানা ঝাপটাতে লাগল। উড়বার জন্য কী যে তার চেষ্টা! কিন্তু ভাঙা ডানা ভর সইবে কেন, হাঁসটা ঝুড়ি থেকে পিছলে পড়ে নিচের ডালের ফাঁকে আটকে থাকল। লাটু তখনও স্কুল থেকে ফেরেনি, কুমু করে কী! জানালার ধারে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে চেয়ে থাকল, পাখিটা অনেকক্ষণ অসাড় হয়ে ঝুলে থাকার পর আঁচড়ে-পাঁচড়ে নিজেই সেই ডালটার উপর চড়ে বসল। লাটু ফিরে এসে আবার ওকে তুলে ঝুড়িতে বসিয়ে দিল। ঠোকরালও একটু সে, তবে তেমন কিছু নয়, ডানায় আবার ওষুধ লাগিয়ে দিল লাটু।

এমনি করে দিন যায়, রোজ পাখিটা একটু করে সেরে ওঠে, ঝুড়ি থেকে ডালে নামে। আর আনন্দের চোটে কুমুও ঘরময় হেঁটে বেড়ায়, নিজের বিছানা নিজে পাতে, নিজে স্নান করে, জামা কাচে। দুপুরবেলা এক ঘুম দিয়ে উঠে নিজে বসে অঙ্ক কষে। বাড়িতে চিঠি লেখে, "মা-বাবা, তোমরা ভেবো না, আমি রোজ রোজ সেরে উঠছি, রত্নাদের বলো আমি পরীক্ষা দেব।"

এমনি করে এক মাস কাটল। তার মধ্যে একদিন খুব বৃষ্টি হয়েছিল। পাখিটা ঝুড়ির তলার গাছের ডালের আড়ালে গিয়ে লুকাল। তারপর বৃষ্টি থেমে আবার যখন রোদ উঠল, পাখিটা দিব্যি ডানা মেলে পালক শুকোল। কুমু অবাক হয়ে দেখল ডানা সেরে গেছে।

তার দু-দিন পরে দুপুরে মাথার অনেক ওপর দিয়ে মস্ত এক ঝাঁক বুনো হাঁস তীরের মতো নকশা করে উড়ে গেল। কুমুর পাখিও হঠাৎ কী মনে করে ডাল ছেড়ে অনেকখানি উঁচুতে উড়ে গেল, কিন্তু তখুনি আবার নেমে এসে মগডালে বসল। হাঁসরাও নামল। পাখিটা সেই দিকেই চেয়ে থাকল।

সারারাত বুনোহাঁসরা বিশ্রাম করে পরদিন সকালে যখন দল বেঁধে আকাশে উড়ল, কুমুর পাখিও তাদের সঙ্গ নিল। দল থেকে অনেকটা পেছিয়ে থাকল বটে, কিন্তু ক্রমাগত যেরকম উড়তে লাগল, কুমু লাটুর মনে কোনো সন্দেহ রইল না, এখুনি ওদের ধরে ফেলবে।

সে বিকেলে কুমু নিজে হেঁটে নিচে নামল, ডান পা-টা যেন একটু ছোটোই মনে হলো।
কুমু বলল, "দিম্মা, পাটা একটু ছোটো হলেও কিছু হবে না, আমি বেশ ভালো চলতে পারি। বুনো হাঁসটারও একটা ডানা একটু ছোটো হয়ে গেছে।"

শুনে দিম্মা তো অবাক! তখন লাটু আর কুমু দুজনে মিলে দিম্মাকে পাখির গল্প বলল। দিম্মা কুমুর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “ওমা, বলিসনি কেন, আমিও যে পাখি ভালোবাসি।”

Content added By

Related Question

View More

1 হাঁসরা গিয়ে কোথায় নামল? (জ্ঞানমূলক)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

হাঁসরা বিলের পানিতে গিয়ে নামল।

পাখিটিকে ক্রমাগত উড়তে দেখে কুমু আর লাটুর মনে আর কোনো সন্দেহ রইল না যে সে খুব দ্রুতই তার দলের কাছে পৌছে যাবে।

কুমু ও লাটু একটি আহত পাখিকে পরিচর্যা করে সুস্থ করে তুলেছিল। সুস্থ হওয়া মাত্রই পাখিটা উড়তে থাকা বুনোহাঁসের দলের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য উড়াল দেয়। উড়তে গিয়ে প্রথমে পাখিটি বুনোহাঁসের দল থেকে শক্তি ও সামর্থ্যে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। কুমু ও লাটুর মনে সন্দেহ জাগে পাখিটা হয়তো উড়ে গিয়ে বুনোহাঁসের দলে মিশতে পারবে না, দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে নিচে নেমে পড়বে। কিন্তু পাখিটা ক্রমাগত উড়তে থাকায় তাদের মনের সেই সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়ে যায়।

শ্রেয়সীর মাধ্যমে 'পাখি' গল্পের মূল চেতনা, পশু পাখির প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধের দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

লীলা মজুমদার রচিত 'পাখি' গল্পে বর্ণিত কুমু ও লাটু একটি আহত পাখির জীবন রক্ষার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। পাখিটিকে তারা যথাসাধ্য সেবা-যত্ন করে। পাখিটির জন্য তারা একটি থাকার জায়গা তৈরি করে দেয়। তাদের সেবায় পাখিটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। প্রায় একমাস পর সুস্থ হয়ে পাখিটি আবার বুনোহাঁসের বহরে ফিরে যায়।

উদ্দীপকের শ্রেয়সী রাস্তার পাশে গর্তে আটকে থাকা একটি বিড়ালছানা খুঁজে পায়। সে ছানাটিকে উদ্ধার করে পরম মমতায় কোলে তুলে নেয়। সেবা-যত্নে বিড়ালটিকে সুস্থ করে তোলে। একইভাবে 'পাখি' গল্পের কুমু ও লাটু আহত পাখিটির প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শন করেছে। উদ্দীপকের শ্রেয়সীর কর্মকান্ডেও এ দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

সুজার মানসিকতা 'পাখি' গল্পের কুমু বা লাটুর মতো মানবিক হলে বিড়ালছানাটিকে শ্রেয়সীর হারাতে হতো না।

'পাখি' গল্পে গল্পকার কুমু ও লাটু চরিত্রের মধ্য দিয়ে পশু-পাখির প্রতি ভালোবাসার দিকটি ফুটিয়ে তুলেছেন। শিকারির বন্দুকের গুলিতে আহত বুনোহাঁসটির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তারা। তাদের উদ্যোগে পাখিটি বিপদ থেকে রক্ষা পায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।

উদ্দীপকে বর্ণিত সুজার মাঝে 'পাখি' গল্পের কুমু ও লাটুর বিপরীতধর্মী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তার বোন শ্রেয়সী একটি আধমরা বিড়ালছানা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসে। শ্রেয়সী পরম মমতায় বিড়ালটির সেবা-যত্ন করে। কিন্তু সুজা বিড়ালটির প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে। সুজা বিনা কারণে বিড়ালছানাটিকে নির্যাতন করে। এ কারণেই শ্রেয়সী বিড়ালছানাটি হারিয়ে ফেলে।

পশু-পাখির প্রতি মমতা প্রদর্শন একটি অন্যতম মানবিক গুণ। 'পাখি' গল্পের কুমু ও লাটু দুজনেই অসহায় বুনোহাঁসটির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রদর্শন করেছে। তাদের এই অকৃত্রিম মমত্ববোধ ও সমবেদনা গল্পটিকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। উদ্দীপকের সুজা শ্রেয়সীর পোষা বিড়ালটিকে গল্পের কুমুও লাটুর মতো মানবিক দৃষ্টিতে দেখলে বিড়ালটির এমন পরিণতি হতো না। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথাযথ।

ললাটু লেবু গাছের ডালে পাখিটির জন্য বাসা বেঁধে দিয়েছিল।

আহত বুনোহাঁসটির প্রতি সমবেদনা অনুভব করায়, এবং তাকে সাহায্য করার বাসনা থেকেই কুমু প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।

শিকারির গুলিতে আহত বুনোহাঁসটির করুণ দশা দেখে কুমুর প্রাণ কেঁদে ওঠে। পাখিটিকে সাহায্য করার জন্য সে আকুল হয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে তার কষ্ট লাঘবের কোনো উপায় কুমু খুঁজে পায় না। তাই মনে মনে পাখিটিকে সমবেদনা জানায়। এ কারণেই সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...