Academy

অপরূপ সৌন্দর্য খচিত আজ-জাহরা প্রাসাদটি স্পেনের উমাইয়া খলিফা তৃতীয় আব্দুর রহমান নির্মাণ করেন। তিনি প্রিয়তমা পত্নী আজ-জাহরার প্রতি তার অত্যুজ্জ্বল ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সুদীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এর নির্মাণ কাজ চলে। আলজেরিয়া ও তারাগোনা থেকে এর প্রস্তরখণ্ড সংগৃহীত হয়। তাছাড়া মূল্যবান দ্রব্যও সরঞ্জামাদি কনস্টান্টিনোপল, রোম, কার্থেজ, স্যাফেক্স, নারবোন ও এ্যাটিকা প্রভৃতি শহর হতে আমদানী করা হয়। প্রিয়তমা পত্নীর প্রতি শ্বাশত প্রেমের এক নিদর্শন হিসেবে এটির ভগ্নাবশেষ এখনও বিদ্যমান রয়েছে।

উদ্দীপকের স্থাপত্যের সঙ্গে তোমার বইয়ের কোন বিখ্যাত স্থাপত্যের মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago
Ans :

উদ্দীপকের স্থাপত্যের সংগে আমার পঠিত মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত অনন্য স্থাপত্য 'তাজমহল' এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
সম্রাট শাহজাহানের অনবদ্য, অমর ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো যমুনা নদীর তীরে আগ্রায় নির্মিত তাজমহল। এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম। ওস্তাদ ঈশা খাঁ ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত তাজমহলের স্থপতি। ঐতিহাসিক হামিদ লাহোরর মতে, সম্রাট শাহজাহান ৫০ লক্ষ মুদ্রা ব্যয়ে দীর্ঘ বারো বছরে এবং ঐতিহাসিক ট্যাভানিয়ারের মতে, ২০ হাজার শিল্পী ও কারিগরের ২২ বছর পরিশ্রমে ৩ কোটি মুদ্রা ব্যয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিই ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।

উদ্দীপকের স্পেনের উমাইয়া খলিফা তৃতীয় আব্দুর রহমান তার স্ত্রীর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রয়াসে একটি অনিন্দ্য সুন্দর প্রাসাদ নির্মাণ করেন। ঠিক একইভাবে সম্রাট শাহজাহানও তার স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতি ধরে রাখার উদ্দেশ্যে তার সমাধির উপর একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন যা ইতিহাসে তাকে অমরত্ব দান করেছে। হ্যাভেল বলেন, 'দেশি এবং বিদেশি শিল্পীগণ এ সমাধিসৌধটি নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছিলেন।' তিনি তাজমহলকে 'ভেনাস দ্য মিলো' বলে আখ্যায়িত করেন। ড. স্মিথের মতে, ইউরোপীয় ও এশিয় শিল্প রীতিতে, পার্সি ব্রাউনের মতে, ইন্দো-পারসিক রীতির সংমিশ্রণে এটি তৈরি হয়। অপরাজেয় ও অনিন্দ্য সৌন্দর্যের আধার তাজমহলকে মধ্যযুগীয় পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য বস্তুসমূহের অন্যতম বলে পরিগণিত করে। আগ্রার এই তাজমহলের সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'শাহজাহান' কবিতায় তাজমহল সম্পর্কে লিখতে গিয়ে তাজমহলকে হীরা মুক্তা মাণিক্যের ঘটা উল্লেখ করেছেন। ওপরের আলোচনার আলোকে বলা যায় উদ্দীপকের স্থাপত্য তথা আজ-জাহরা প্রাসাদের সাথে তাজমহলের মিল রয়েছে।

1 month ago

ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন (১৫২৬-১৮৫৮ খ্রি.)

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।

উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...