মৌলি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। সে একদিন স্কুল শিক্ষকের কাছে জানতে পারল এই উপমহাদেশে এমনও সাহসী লোকের জন্ম হয়েছিল যিনি অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা স্থাপন করে যুদ্ধ করেছিলেন। সাধারণ মানুষ তখন কৃষক শ্রেণির ওপর যে কোন ধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার।
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত নেতা অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলন-সংগ্রাম বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল।
তিতুমীর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন পরিচালনা করেও ১৮৩১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার এ সংগ্রাম বাংলার স্বাধীনতা অর্জনের পথকে ত্বরান্বিত করেছিল। কেননা তার এ আন্দোলনে সাড়া দিয়েই বাংলার নিরীহ জনগণ পরবর্তীতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। ফলে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে ভারতবর্ষে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটেছিল এবং রানির সরাসরি শাসন কায়েম হয়। আর পরবর্তীতে মুসলমানদের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের কর্ম প্রক্রিয়ায় মুসলমানরা অধিকার আদায়ের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। আর এর ব্যাপকতা আরও লক্ষ করা যায় ১৯০৫ সালের বঙ্গভজোর প্রেক্ষিতে স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন ও বিভিন্ন বিপ্লবী সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যা ভারতের ব্রিটিশ শাসনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তাছাড়া পরবর্তীতে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে নিপতিত করে। এছাড়া তিতুমীর বাংলার নিরীহ দরিদ্র কৃষক সম্প্রদায়ের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করে তাদের সংগঠিত করেছিল যা বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের পথকে রুদ্ধ করেছিল। তাছাড়া জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে তিতুমীরের সংগ্রামে উজ্জীবিত হয়ে বাংলার মানুষ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নেমে পড়েছিল। যা বাংলার স্বাধীনতার সূর্য উদয়নে সাহায্য করেছিল।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?