ক' রাষ্ট্রটিতে রাজতন্ত্র এবং 'খ' রাষ্ট্রটিতে গণতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে। 'ক' রাষ্ট্রটিতে নির্বাচনব্যবস্থা নেই। কিন্তু 'খ' রাষ্ট্রটিতে গণতান্ত্রিক ভাবধারা ও কাঠামো সচল করার লক্ষ্যে নির্বাচনব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন কাজ সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণই সরকার পরিচালনা করেন।
প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য যারা প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদেরকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে। নির্বাচকমণ্ডলী বা ভোটাররাই হচ্ছে প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য যোগ্য বিচারক। বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স্ক যারা ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদেরকে ভোটার বা নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এদেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার বেশকিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বাংলাদেশে সর্বজনীন প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম থাকা আবশ্যক। এদেশে সকল নাগরিকের জন্য 'এক ব্যক্তি এক ভোট' নীতি প্রচলিত। প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা থাকে। বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহ এবং জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। আর বাকি ৫০ টি সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্যগণ পরোক্ষভাবে ৩০০ জন সংসদ সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সকল নির্বাচন গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ পদ্ধতিতে ভোটারগণ প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের পাশে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্ধারিত সীলমোহর ব্যবহার করেন। এতে ভোট গণনার কাজে সুবিধা হয়। এদেশের নির্বাচনে সমগ্রদেশকে জনসংখ্যার সমতার ভিত্তিতে ৩০০টি একক প্রতিনিধি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়। এছাড়া সকল জন প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় একক নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন রয়েছে। এই কমিশনই নির্বাচনি সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এদেশের সংবিধানে নিয়মিতভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় EVM ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর সাহায্যে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনার কাজ করা হয়।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় নাগরিকদের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সরকার নয়, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ দেশের জনগণ নির্বাচনে সঠিক মাত্রায় অংশগ্রহণ করে বলেই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তাদের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত আছে। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখছে।বাংলাদেশের নাগরিকগণ জেনে, বুঝে সকল প্রভাবমুক্ত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। আর এভাবে ভোট প্রয়োগের ফলে সৎ যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। আর এমন জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারলে দেশে আইনের শাসন কায়েম হবে, দুর্নীতি দূর হবে। কেবল নিজের ভোটদানের মাধ্যমেই একজন নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয় না। অন্যকে ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে ভোটদানে উৎসাহিত করাও নাগরিকের কর্তব্য। নির্বাচনি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা কেবল সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সকল প্রকার সন্ত্রাসী অপতৎপরতা বন্ধে নাগরিক সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা। এক্ষেত্রে নাগরিকগণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করে থাকে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে সরকারি সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তা সত্ত্বেও নির্বাচনকে অর্থবহ, ফলপ্রসূ ও প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন পরিচালিত। নাগরিকগণ তাদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিবার্চন করে আইন প্রণয়ন এবং সরকার পরিচালনায় অংশ্রহণ করে থাকে। আর প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণ তথা নাগরিকদের পক্ষেই শাসন পরিচালনা করে থাকে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সফলতার পূর্বশর্তই হচ্ছে নির্বাচন। এজন্যই বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনে নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।