Academy

হাসান আলীর মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলে হাসান আলী বলেন, এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর মতামত নিয়েই পরে জানাব। কারণ তিনি মনে করেন যে, সংসারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার রয়েছে।

'কত নারী দিল সিথির সিঁদুর' দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? (অনুধাবন)

Created: 5 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

'কত নারী দিল সিথির সিদুর' দ্বারা কবি বিশ্বের বড় বড় অভিযানে নারীদের স্বামী হারানোকে বোঝাতে চেয়েছেন।

যুদ্ধে অসংখ্য প্রাণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। যুদ্ধে এসব বীরের অবদান যে শুধু তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ তা নয়। এ বীরত্বের ভাগীদার নারীরাও। নারীরা যদি স্বামীদের যুদ্ধে যেতে অনুপ্রাণিত না করত, তবে তারা কখনই বড় বড় জয় অর্জন করতে পারতেন না। প্রশ্নোক্ত লাইনটি দ্বারা কবি মূলত সিথির সিঁদুর বিসর্জনকারী স্বামী হারানো নারীদের অকৃত্রিম ত্যাগকে বোঝাতে চেয়েছেন।

5 months ago

নারী

                                              সাম্যের গান গাই—

আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই।

বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি

অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।

জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান

মাতা ভগ্নি ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।

কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,

কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।

কত মাতা দিল হৃদয় উপাড়ি কত বোন দিল সেবা,

বীরের স্মৃতি স্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?

কোনো কালে একা হয় নি কো জয়ী পুরুষের তরবারি,

প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষ্মী নারী।

 

                                            সে-যুগ হয়েছে বাসি,

যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না কো, নারীরা আছিল দাসী।

বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি,

কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি৷

নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে

আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে

                                             যুগের ধর্ম এই—

পীড়ন করিলে সে-পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই।

                                                              [সংক্ষেপিত]

Content added || updated By

Related Question

View More

'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

মানবসভ্যতার অগ্রগতি সাধনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে কবি বর্তমান সময়কে 'বেদনার যুগ' বলেছেন।

এক সময় নারীরা ছিল অবরোধবাসিনী। নারীদের সঙ্গে দাসীর মতো আচরণ করা হতো। অনেক দিন আগে সে যুগ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সভ্যতার অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এর পেছনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অবদান কম নয়। শিক্ষা ও সচেতনতায় যুগেরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু তবুও নারীসমাজের যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি। বর্তমান সময়কে 'বেদনার যুগ' বলতে কবি এ কথাই বুঝিয়েছেন।

আনোয়ারার কার্যক্রমে 'নারী' কবিতায় বর্ণিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান ও অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে।

পৃথিবীতে মানবসভ্যতা নির্মাণে নারী ও পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি বর্তমানে নারীরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে।

উদ্দীপকের আনোয়ারা জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ কৃতিত্বের সাথে শেষ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে সহযোগিতাও পেয়েছেন পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে। নারী বলে কোথাও তাকে সমস্যায় পড়তে হয়নি। 'নারী' কবিতায় কবি এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন। কবি নারী-পুরুষের সম অধিকারে বিশ্বাসী। পুরুষের অবদানের পেছনে থাকে নারীর ত্যাগ। মানুষ যেন ত্যাগকে সম্মান করে তাই তিনি চান। কারণ কবি মনে করেন নারীকে যে পুরুষ ঠকাবে সেই একদিন ঠকবে। তাই বলা যায় যে, আনোয়ারার কার্যক্রমে 'নারী' কবিতায় বর্ণিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান ও অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে।

"উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও 'নারী' কবিতায় কবি আরও বাত্ময়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

সাম্যের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে নারী আর পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসেই মানবসভ্যতার অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

উদ্দীপকে আনোয়ারা নামে একজন নারীর কৃতিত্বের কথা বলা হয়েছে। তিনি নারী হয়েও জাতিসংঘসহ বিশ্বের নানা দেশে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তিনি অন্য পুরুষ সহকর্মীদের কাছ থেকে যথাযথ সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছেন। অন্যদিকে 'নারী' কবিতার কবি জগতে নর ও নারীর সাম্য বা সমান অধিকারে আস্থাবান। তাঁর মতে, বিশ্বে মানুষের শাশ্বত কল্যাণে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে, তার অর্ধেক করেছে নারী আর অর্ধেক করেছে পুরুষ। আবার বিশ্বে যত পাপ-তাপ ও বেদনার অশ্রুবারি এসেছে, তাতেও নারী-পুরুষের সমান ভাগ রয়েছে।

উদ্দীপকে নারীর মর্যাদা ও পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার কথা প্রকাশ পেয়েছে। এই বিষয়টি আলোচ্য কবিতার কবি প্রত্যাশা করেন। তার প্রত্যাশার প্রতিফলন উদ্দীপকে ঘটলেও নারী কবিতায় আরও বেশি বাঙ্ঘয়। কারণ সেখানে তিনি শুধু নারীর অধিকার নয়, তার অবদান ও সভ্যতায় দৃঢ় অবস্থার কথাও প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও 'নারী' কবিতায় কবি আরও বেশি বাঙ্ময়। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

"বিজয়-লক্ষ্মী নারী' অর্থ হচ্ছে জয়ের নিয়ন্তা যে নারী বা দেবী।

'নারী' কবিতায় কবি সাম্যের গান বলতে মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষের সম-অধিকার ও সম-মর্যাদাকে বুঝিয়েছেন।

পৃথিবীতে সভ্যতার যে বিকাশ ঘটেছে তার নেপথ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কবি এ বিষয়টি উদাহরণসহ 'নারী' কবিতায় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন যে, সমাজের মানুষ নারীদের অবদানকে অস্বীকার করতে চায়। তাদের যোগ্য মর্যাদা না দিয়ে অবহেলা করে। প্রকৃতপক্ষে তা করা অন্যায়। কারণ, পৃথিবীর শুরু থেকেই নারী নানাভাবে পুরুষকে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছে। সমাজ, সভ্যতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। এসব দিক বিচারে কবির কাছে তাই নারী এবং পুরুষের কর্ম, মূল্য ও মর্যাদার মধ্যে কোনো বিভেদ বা পার্থক্য নেই। তারা মানুষ হিসেবে অভিন্ন মর্যাদার অধিকারী। কবি সমঅধিকারের চেতনাকেই এখানে সাম্যের গান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...