কম্পিউটার গেমস বিনোদনের জগতে এক নতুন সূচনা করেছে। এটি বিনোদনের খোরাক জোগায়। কিন্তু যদি কম্পিউটার গেম খেলা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায় তবে তা নানারকম ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমার একজন বন্ধু আছে, সে প্রায় সব সময়েই কম্পিউটারে গেমস খেলে। সে জানে না কম্পিউটার গেমকে বিনোদনের খোরাক হিসেবে মাত্রার ভিতরে থেকে ব্যবহার করতে হয়। ফলে গেম খেলা তার আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ আসক্তির কারণে অন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাজে তার মন বসে না, পড়ালেখায় মন বসে না, কারও সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। এতে করে তার পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে, সামাজিকতা নষ্ট হতে পারে, মানুষের সাথে সম্পর্কে চির ধরতে পারে। একটা সময় ব্যবহারকারী মানসিক অশান্তিতে ভোগে। এছাড়া কম্পিউটারের ব্যবহার করে নানা ধরনের গেম খেলায় সারাক্ষণ গেমের কথা মাথায় ঘুরতে থাকে। অন্য ধরনের চিন্তাশক্তির ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া কম্পিউটার গেম খেলার কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন মাথা ব্যথা, চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, . কোমর ব্যথা, হাতের কব্জি ব্যথা ইত্যাদি। এক গবেষণায় দেখা যায় কোন একটা কম্পিউটার গেমে তীব্রভাবে আসক্ত একজন মানুষের মস্তিষ্কে বিশেষ উত্তেজক রাসায়নিক দ্রব্যের আবির্ভাব হয়। শুধু তাই নয় যারা সপ্তাহে অন্তত ছয়দিন টানা দশ ঘণ্টা করে কম্পিউটার ব্যবহার করে তাদের মস্তিষ্কের গঠনেও এক ধরনের পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই কাম্পিউটার গেম খেলায় পরিমিতি বজায় না রাখলে কম্পিউটারে গেম খেলা আমার বন্ধুর আরও নানারকম ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কম্পিউটার যারা ব্যবহার করেন অর্থাৎ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা প্রায়ই নানা রকম সমস্যায় পড়েন কম্পিউটার ব্যবহারে কাজ করতে গিয়ে। সমস্যাগুলো কোনটা খুব সহজ আবার কোনটা খুব জটিল। সাধারণ সমস্যাগুলো ব্যবহারকারী সহজে ঠিক করতে পারেন। জটিল সমস্যার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কারও সাহায্য নিতে হয়। আর এ সমস্যার উৎস বা উৎপত্তিস্থল নির্ণয়ের প্রক্রিয়া হলো ট্রাবলশুটিং। মূলত টাবলশুটিং হলো এমন কিছু যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্য থেকে করতে হয়। অন্য যেকোনো আইসিটি যন্ত্রের তুলনায় কম্পিউটারের ট্রাবলশুটিং একটু বেশিই প্রয়োজন হয়। ট্রাবলশুটিং সাধারণত হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত ও প্রয়োজন হয়। কম্পিউটারের কিছু সাধারণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার Hang হয়ে যাওয়া, মনিটরের পাওয়ার অন না হওয়া, উইন্ডোজ বা অপারেটিং সিস্টেম রান করার সময় Hang হয়ে যাওয়া, কম্পিউটার ঘন ঘন reboot বা restart করা, কম্পিউটারের Hard disk না পাওয়া, Computer এর মনিটরে out of memory দেখানো, কীবোর্ড ও মাউস কাজ না করা, বায়োসে কোনো সমস্যা হওয়া, প্রিন্টারে প্রিন্ট না হওয়া, system অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া প্রভৃতি। এসব সমস্যা যেকোনো সময় হতে পারে। খুব প্রয়োজনের সময় অভিজ্ঞ কাউকে পাওয়া যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার যেসব সমস্যার সমাধান সামান্য ট্রাবলশুটিং জানলেই করা যায় তার জন্য সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ারও কোনো মানে নেই।
প্রয়োজনের সময় এসব ট্রাবলশুটিং জানা থাকলে অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই এসব সমস্যার সমাধান সঠিকভাবে এবং সাবধানতার সাথে করতে হবে। যে যন্ত্রটি আমাদের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গী তার ছোট খাট সমস্যার জন্য ট্রাবলশুটিং জানাটা তাই অত্যন্ত জরুরি।
কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রের ভাইরাসের প্রতিষেধক হলো এন্টিভাইরাস। সিস্টেম ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এটি নির্মূল করতে হয়। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এন্টিভাইরাস ইউটিলিটি ব্যবহার করা হয়। এই ইউটিলিটিগুলো প্রথমে আক্রান্ত কম্পিউটারে ভাইরাসের চিহ্নের সাথে পরিচিত ভাইরাসের চিহ্নগুলোর মিলকরণ করে। অতঃপর এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি তার পূর্বজ্ঞান ব্যবহার করে সংক্রমিত অবস্থান থেকে আসল প্রোগ্রামকে ঠিক করে। একটি ভালো এন্টিভাইরাস সাধারণভাবে প্রায় সব ধরনের ভাইরাস নির্মূল করতে পারে। নতুন ভাইরাস আবিষ্কৃত হওয়ার সাথে সাথে এন্টিভাইরাস Update করলে এর শক্তি ও কর্মক্ষমতা প্রতিনিয়ত উন্নত হয়। ফলে নতুন নতুন ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। বর্তমানে অনেক এন্টিভাইরাস রয়েছে যেগুলো ভাইরাস চিহ্নিত করে, নির্মূল করে এবং প্রতিহত করে। আজকাল প্রায় প্রত্যেক অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার দেওয়া থাকে। এছাড়াও একনকার এন্টিভাইরাসগুলো ভাইরাস আক্রমণ করার পূর্বেই তা ধ্বংস করে অথবা ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে। ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আজকাল বিনামূল্যে ইন্টারনেট থেকে এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার ডাউনলোড এবং ইনস্টল করে আইসিটি যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা অনেকাংশে নিশ্চিত করা যায়। উল্লেখযোগ্য কিছু এন্টিভাইরাস প্রোগ্রামের নাম হলো- ১. এভিজি এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার ২. এভিরা এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার ৩. এভাস্ট এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার
কম্পিউটার বা আমাদের আইসিটি যন্ত্রগুলোকে ভাইরাসমুক্ত রেখে ব্যবহার করতে আমরা নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারি। ১. অন্য যন্ত্রে ব্যবহৃত সিডি, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ইত্যাদি নিজের যন্ত্রে ব্যবহারের পূর্বে ভাইরাস মুক্ত করে নেয়া। ২. অন্য কম্পিউটার থেকে কপিকৃত সফ্টওয়্যার নিজের কম্পিউটারে ব্যবহারের আগে সফ্টওয়্যারটিকে ভাইরাসমুক্ত করা। ৩. অন্য যন্ত্রে কোনো ফাইল নিজের যন্ত্রে ব্যবহারের পূর্বে ফাইলটিকে ভাইরাস মুক্ত করা প্রি ৪. ইন্টারনেট থেকে কোনো সফ্টওয়্যার নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে ইনস্টল করার সময়ে সতর্ক থাকা। কারণ, ডাউনলোডকৃত সফ্টওয়্যারে ভাইরাস থাকলে তা থেকে কম্পিউটারটিও ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারে।
৫. অন্যান্য কম্পিউটারে বা যন্ত্রে ব্যবহৃত সফ্টওয়্যার কপি করে ব্যবহার না করা। ৬. কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করলে সতর্কতামূলক বার্তা প্রদর্শন করার জন্য এন্টিভাইরাস সফ্টওয়্যারটিকে হালনাগাদ করে রাখা প্রয়োজন। ৭. প্রতিেিদনর ব্যবহৃত তথ্য বা ফাইলসমূহ আলাদা কোনো ডিস্ক বা পেনড্রাইভে ব্যাকআপ রাখা, তবে এক্ষেত্রে ডিস্ক বা পেনড্রাইভটি অবশ্যই ভাইরাস মুক্ত হতে হবে। ৮. ই-মেইল আদান-প্রদানে সতর্কতা অবলম্বন করা। যেমন : সন্দেহজনক সোর্স থেকে আগত ই-মেইল open না করা। করলেও ভাইরাসমুক্ত করে তা খোলা উচিত। ৯. গেম ফাইল ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভাইরাস চেক করতে হবে।
VIRUS শব্দের পূর্ণরূপ হলো Vital Information and Resources Under Siege, যার অর্থ দাঁড়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ দখলে নেওয়া বা ক্ষতি সাধন করা। ১৯৮৩ সালে এ নামকরণ করেছেন প্রখ্যাত গবেষক 'University of New Haven'-এর অধ্যাপক ফ্রেড কোহেন (Fred Cohen) |
আইসিটি যন্ত্রগুলোকে ভাইরাসমুক্ত রাখার পদ্ধতি: ১. অন্য যন্ত্রে ব্যবহৃত সিডি, ডিস্ক ইত্যাদি নিজের যন্ত্রে ব্যবহারের পূর্বে ভাইরাস মুক্ত করে নেওয়া। ২. অন্য যন্ত্রের কোনো ফাইল নিজের যন্ত্রে ব্যবহারের পূর্বে ফাইলটিকে ভাইরাসমুক্ত করে নেওয়া। ৩. অন্যান্য কম্পিউটারে বা যন্ত্রে ব্যবহৃত সফটওয়্যার কপি করে ব্যবহার না করা। আর কপি করলেও কপিকৃত সফটওয়্যার ভাইরাসমুক্ত করে নেওয়া। ৪. কম্পিউটারে সর্বদা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার Update করে রাখা যাতে সতর্ক থাকা সত্ত্বেও ভাইরাস প্রবেশ না করে আর করতে চাইলেও সতর্কতামূলক বার্তা প্রদর্শন করে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ভাইরাস clean করা যাবে। ৫. ইন্টারনেট থেকে কোনো সফটওয়্যার নিজের কম্পিউটারে download করে ইনস্টল করার সময় সতর্ক থাকা। কেননা ডাউনলোডকৃত সফটওয়্যারে তাইরাস থাকলে তা কম্পিউটারেও ছড়িয়ে যেতে পারে। ৬. ই-মেইল আদান-প্রদানে সতর্কতা অবলম্বন করা। সন্দেহজনক সোর্স থেকে আগত e-mail open না করা বা open করলেও ভাইরাসমুক্ত করে করা। ৭. গেম ফাইল ব্যবহারে সতর্ক থাকা। গেম ফাইল ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ভাইরাস আছে কি-না তা চেক করে নেওয়া। ৮. প্রতিদিনের ব্যবহৃত তথ্য বা ফাইলসমূহ আলাদা কোনো ডিস্ক বা পেনড্রাইভে ব্যাকআপ রাখা। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ডিস্ক বা পেনড্রাইভটি ভাইরাসমুক্ত হতে হবে।
ট্রাবলশুটিং: ট্রাবলশুটিং হচ্ছে সমস্যার উৎস বা উৎপত্তিস্থল নির্ণয়ের প্রক্রিয়া। সাধারণত কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয় এবং পাশাপাশি সমাধান দেওয়া থাকে। ব্যবহারকারী তার সমস্যার প্রকৃতি অনুযায়ী সমাধান অনুসরণের মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যাটি সমাধান করতে পারে। মূলত ট্রাবলশুটিং হচ্ছে এমন কিছু যা, একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকে করতে হয়।
পাঁচটি ট্রাবলশুটিং এর বর্ণনা: নিচে পাঁচটি ট্রাবলশুটিংয়ের বর্ণনা দেওয়া হলো: ১. সমস্যা: সিস্টেম চালু হচ্ছে না। সমাধান কৌশল: ক. মেইন পাওয়ার ক্যাবলের সংযোগটি loose বা ঢিলে কিনা দেখতে হবে। খ. মেইন বোর্ডে পাওয়ার আসছে কিনা দেখতে হবে। গ. মেইন বোর্ডে যদি পাওয়ার না আসে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট পরিবর্তন করতে হবে। ঘ. স্থানীয় কোনো সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে অভিজ্ঞ কাউকে দেখাতে হবে। ২. সমস্যা: উইন্ডোজ রান করার সময় আটকে বা হ্যাং/Hang হয়ে যায়। সমাধান কৌশল: ক. আপগ্রেড এন্টিভাইরাস চালিয়ে হার্ডডিস্কে কোনো প্রকার ভাইরাস আছে কিনা চেক করে ক্লিন করে নিতে হবে। খ. হার্ডডিস্ক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা অন্যত্র ব্যাকআপ নিয়ে হার্ডডিস্কের "C" ড্রাইভ ফরম্যাট করে নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করতে হবে। ৩. সমস্যা: কম্পিউটারের মেটাল অংশে স্পর্শ বা হাত লাগলে শক্ করে। সমাধান কৌশল: কম্পিউটারের গায়ে তথা মেটাল অংশে স্পর্শ করলে যদি শক্ করে তাহলে বুঝতে হবে কম্পিউটারটি আর্থিং করা নেই। সেক্ষেত্রে একদন পারদর্শী ইলেকট্রিশিয়ান দ্বারা যথাযথভাবে আর্থিং করিয়ে নিতে হবে। ৪. সমস্যা: কম্পিউটারের তারিখ এবং সময় ঠিক থাকে না অথবা বায়োসের কোনো অপশন পরিবর্তন করলে তা সেভ হয় না। সমাধান কৌশল: মাদারবোর্ডে সংযুক্ত CMOS এর ব্যাটারিটি কার্যক্ষমতা হারালে এটি ঘটে। এক্ষেত্রে একটি নতুন অনুরূপ ব্যাটারি মাদারবোর্ডে লাগিয়ে দিতে হবে। ৫. সমস্যা: মনিটরের কোনো পাওয়ার নাই। সমাধান কৌশল: ক. পাওয়ার বোতাম (বা সুইচ) চালু আছে কিনা। খ. AC পাওয়ার কার্ড মনিটরের পেছনে এবং পাওয়ার আউটলেটে ভালোভাবে সংযুক্ত আছে কিনা নিশ্চিত হবে হবে।