Academy

"রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে। সারাটা দিন খেলা,

এ যে বড় বাড়বাড়ি, কাজ আছে যে মেলা।"

"কাজের কথা জানিনে ভাই, লাঙল দিয়ে খেলি

নিড়িয়ে দেই ধানের ক্ষেতের সবুজ রঙের চেলী।

সরষে বালা নুইয়ে গলা হন্দে হাওয়ার সুখে

মটর বোনের ঘোমটা খুলে চুমু দিয়ে যায় মুখে!

ঝাউয়ের ঝাড়ে বাজায় বাঁশী পউষ-পাগল বুড়ী,

আমরা সেথা চষতে লাঙল মুর্শীদা-গান জুড়ি।

খেলা মোদের গান গাওয়া ভাই, খেলা-লাঙল-চষা,

সারাটা দিন খেলতে জানি, জানিই নেক বসা।"

কার নামেতে সব গাঁ নামি হবে? ব্যাখ্যা কর। (অনুধাবন)

Created: 5 months ago | Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
Ans :

রূপাইয়ের নামে একদিন সব গাঁ নামি হবে।

এদেশের কৃষকরা আমাদের গর্ব। তারা সারাদিন মাঠে কাজ করে সোনার ফসল ফলান। 'রূপাই' কবিতার রূপাই এ দেশের কৃষকদের প্রতিনিধি। তার সব বৈশিষ্ট্যই এদেশের কৃষকদের বৈশিষ্ট্য বহন করে। আর আমাদের দেশের কৃষকদের নামে দেশের নাম উজ্জ্বল হবে এই আশা ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি 'রূপাই' কবিতায় প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

5 months ago

রুপাই

এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল,

কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল!

কাঁচা ধানের পাতার মতো কচি-মুখের মায়া,

তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া।

জালি লাউয়ের ডগার মতো বাহু দুখান সরু,

গা খানি তার শাওন মাসের যেমন তমাল তরু।

বাদল-ধোয়া মেঘে কে গো মাখিয়ে দেছে তেল,

বিজলি মেয়ে পিছলে পড়ে ছড়িয়ে আলোর খেল।

কচি ধানের তুলতে চারা হয়তো কোনো চাষি,

মুখে তাহার জড়িয়ে গেছে কতকটা তার হাসি।

 

কালো চোখের তারা দিয়েই সকল ধরা দেখি,

কালো দতের কালি দিয়েই কেতাব কোরান লেখি।

জনম কালো, মরণ কালো, কালো ভুবনময়;

চাষিদের ওই কালো ছেলে সব করেছে জয়।

সোনায় যে-জন সোনা বানায়, কিসের গরব তার

রং পেলে ভাই গড়তে পারি রামধনুকের হার।

কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন,

তারির পদ-রজের লাগি লুটায় বৃন্দাবন।

সোনা নহে, পিতল নহে, নহে সোনার মুখ

কালো-বরন চাষির ছেলে জুড়ায় যেন বুক।

যে কালো তার মাঠের ধান, যে কালো তার গাঁও!

সেই কালোতে সিনান করি উজল তাহার গাও।

 

আখড়াতে তার বাঁশের লাঠি অনেক মানে মানী,

খেলার দলে তারে নিয়েই সবার টানাটানি।

জারির গানে তাহার গলা উঠে সবার আগে,

শাল-সুন্দি-বেত' যেন ও, সকল কাজেই লাগে।

বুড়োরা কয়, ছেলে নয় ও, পাগাল লোহা যেন,

রূপাই যেমন বাপের বেটা কেউ দেখেছ হেন?

যদিও রূপা নয়কো রুপাই, রূপার চেয়ে দামি,

এক কালেতে ওরই নামে সব গাঁ হবে নামি।

Content added || updated By

Related Question

View More

চাষির ছেলের 'গা-খানি' দেখতে শাওন মাসের তমাল তরুর মতো।

আলোচ্য চরণটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন সভ্যতা নির্মাণে চাষির ছেলের কৃতিত্ব।

কৃষক সভ্যতার নির্মাতা। দেশের অর্থনীতির চালক। কালো কৃষকরা সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়ে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যান। চাষির ওই কালো ছেলে রূপাইও তার শ্রম দিয়ে সবকিছু জয় করেছে।

উদ্দীপক ও 'রূপাই' কবিতার আলোকে বলতে পারি আমার দেখা পল্লিগ্রামটি অতি মনোরম।

বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশের মানুষ প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার মাটে-ঘাটে ছড়ানো অবারিত সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে।

'রূপাই' কবিতায় শস্য-শ্যামল বাংলার অপরূপ রূপের প্রকাশ ঘটেছে রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে উদ্দীপকেও গ্রাম বাংলার ছায়াময় মায়াময় অবস্থার কথা প্রকাশ পায় গ্রাম্য বালক ছমির শেখের কাজে-কর্মে ও অবস্থায়। আমার নানাবাড়ির গ্রামটি ঠিক একই রকম। চারদিক সবুজে ঘেরা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। সোনালি ফসল মাঠে বাতাসে দোল খায়। কৃষকরা সারা দিন মাঠে পরিশ্রম করে ফসল ফলান। এককথায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রামটি।

"উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার মূলভাবের খন্ডাংশ মাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।

বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। পেশাজীবীদের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ হচ্ছে কৃষিজীবী। কৃষকরা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তারা এ দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেন।

উদ্দীপকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন দুরন্ত বালকের কর্মতৎপরতা ও মানবিক গুণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'রূপাই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রূপাইয়ের কর্মতৎপরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে তা সব দিক থেকে সমানভাবে নয়। কারণ কবিতায় রূপাইয়ের বাহ্যিক গড়ন ও মানসিক গঠনের যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে অনুরূপ পরিচয় উদ্দীপকের বালকটির বেলায় দেওয়া হয়নি। রুপাইকে নিয়ে খেলার দলে টানাটানির বিষয়টিও অনুপস্থিত। কবিতায় কবি 'কালো' রঙের কৃষকের বিশেষত্বের কথাও প্রকাশ করেছেন যা উদ্দীপকে নেই।

'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা, জালি লাউয়ের ডগার মতো চাষার ছেলের বাহু ইত্যাদি বিষয় আছে, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত বালকটি ফসলের বীজ বোনা ও যাত্রাদলায় অভিনয় করায় দক্ষ। তবে তা কবিতায় বর্ণিত কালো চাষার ছেলের মানবিকতা, পরিশ্রমী মনোভাব ও আখড়ায় লাঠি খেলায় বা জারির গানের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

কর্মদক্ষ এবং সাহসী বলে কবিতায় রূপাইকে 'বাপের বেটা' বলা হয়েছে।

'রূপাই' কবিতায় রূপের বর্ণনাসহ রূপাইয়ের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কৃষকের ছেলে রূপাইয়ের গায়ের রং কালো। সে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে মাঠে সোনার ফসল ফলায়। এ কাজে তার ক্লান্তি নেই। শুধু কৃষিকাজই নয়, রূপাই খেলার মাঠেও দূরন্ত খেলোয়াড়। সবাই তাকে দলে নিতে টানাটানি করে। রূপাই আখড়াতে বাঁশের বাঁশি বাজায়, জারির গান গায়। গাঁয়ের বৃদ্ধরা রূপাইকে অনেক ভালোবাসেন। তারা রূপাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন। রূপাইয়ে কর্মদক্ষতা ও সাহসে তারা মুগ্ধ। এ মুগ্ধতা থেকেই তারা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...