কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে বাঙালি নারীদের যিনি অন্ধকারের ব্যূহ ভেদ করে আলোর পথে উদাত্ত আহ্বান জানান, তিনি হলেন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যেই তিনি কলম ধরেছিলেন। সংস্কারের সে চেষ্টাই তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করেছে তীক্ষ্ণ ঋজু গদ্য লেখক এবং সমাজসচেতন সাহসী সাহিত্যিক হিসেবে। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর কৃতকর্মের জন্য আজও আমরা তাঁকে স্মরণ করি।
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হলো সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা-
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা ৷৷
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা-
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা ॥
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসী-মাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা-
এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা ৷৷
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে!
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে ।
ভরা পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু ধারে-
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে ৷।
ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে?
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যারে খুশি তারে দাও -
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে ॥
যত চাও তত লও তরণী-পরে ।
আর আছে— আর নাই, দিয়েছি ভরে ॥
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে-
এখন আমারে লহো করুণা করে ৷৷
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি-
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী ।।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?