Academy

সংক্ষিপ্ত- প্রশ্নোত্তর সমাধান

Ans :

মুসলিম শাসনে মধ্যযুগে বাংলায় যেখানে উচ্চ শিক্ষা প্রদানকরা হতো তাকে টোল বলা হয়।

5 months ago

মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস

সেন বংশের পতন এবং ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের মাধ্যমে বাংলার রাজক্ষমতা মুসলমানদের অধিকারে আসে । ফলে বাংলায় মধ্যযুগের সূচনা ঘটে। মুসলমানদের আগমনের পূর্বে বাংলায় বাস করত হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষ । এগারো শতক থেকে বাংলায় ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য সুফি সাধকগণ আসতে থাকেন । বাংলার সাধারণ হিন্দু ও বৌদ্ধদের অনেকে এ সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে । এভাবে ধীরে ধীরে বাংলায় একটি মুসলমান সমাজ কাঠামো গড়ে উঠতে থাকে । এ যুগে বাংলায় হিন্দু আর মুসলমান পাশাপাশি বাস করছিল । ফলে একে অন্যের চিন্তা-ভাবনা ও আচার-আচরণের মিশ্রণ ঘটতে থাকে । এভাবে বাংলায় যে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল, তাকেই বলা হয় বাঙালি সংস্কৃতি ।

 

এই অধ্যায় শেষে আমরা-

  •  মধ্যযুগে বাংলার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে সুলতান ও মুঘল শাসকগণের অবদান ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • মধ্যযুগে বাংলার ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার এবং স্থাপত্য ও চিত্রকলার বিকাশে সুলতান ও মুঘল শাসকগণের অবদান মূল্যায়ন করতে পারব;
  • মধ্যযুগে সুলতানি ও মুঘল শাসনামলে বাংলার ধর্মীয় অবস্থা বর্ণনা করতে পারব;
  • মধ্যযুগে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উদ্ভব ও বিকাশে সুলতান ও মুঘল শাসকগণের অবদান চিহ্নিত করতে পারব;
  • মধ্যযুগে বাংলায় মুসলমানদের আগমনের ফলে বাঙালি জীবনপ্রণালি ও চিন্তাধারার ইতিবাচক পরিবর্তনসমূহ উপলব্ধিতে সক্ষম হব;
  • সুলতানি ও মুঘল আমলের অবদান ও স্থাপত্য নিদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে পরিদর্শনে আগ্রহী হব।
     
Content added By

Related Question

View More

বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। বাংলার কৃষিভূমি অস্বাভাবিক উর্বর হওয়ায় এখানে ধান, গম, পাট, আদা, পিঁয়াজ, তেল, সরিষা, পান, সুপারি, রেশম, ডাল, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। ফলে উদ্বৃত্ত বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এর ফলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল।

রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বাংলার সুলতানি আমলের মিল রয়েছে।

সুলতানি আমলে বাংলার অভিজাতরা ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল মাছ, মাংস, শাক, সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের খাদ্য তালিকায় আচারের নামও পাওয়া যায়। এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয়। খাদ্য হিসেবে রুটির কথাও পাওয়া যায়। খিচুড়ি ছিল তখনকার সমাজের প্রধান খাদ্য।

উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রেজা সাহেব গত সপ্তাহে তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিষ্টির আয়োজন করেন। এ খাবারগুলোর সাথে বাংলার সুলতানি আমলের খাওয়া-দাওয়ার মিল বিদ্যমান।

রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা সুলতানি আমলের চেয়ে সমৃদ্ধ ছিল না বলে আমি মনে করি।

সুলতানি আমলে বাংলায় অনেক কৃষিপণ্য উৎপন্ন হতো। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ধান, গম, পাট, রেশম, হলুদ, শশা, পিঁয়াজ, তুলা, আদা, জোয়ার, তিল, পান, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি। ফলে উদ্বৃত্ত দ্রব্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়াও বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানকার নির্মিত বস্ত্রগুলো গুণ ও মানের বিচারে যথেষ্ট উন্নত ছিল বিধায় বিদেশে এগুলোর প্রচুর চাহিদা ছিল। এদেশের মসলিন কাপড়ের প্রচুর চাহিদা ছিল ইউরোপের বাজারে।

এছাড়া সুলতানি আমলে বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সুতি কাপড়, রেশমি বস্ত্র, চিনি, গুড়, আদা, লঙ্কা, লবণ, নানা প্রকার মসলা, আফিম, ঔষধ ইত্যাদি। বাংলায় আমদানি করা হতো স্বর্ণ, রৌপ্য ও মূল্যবান পাথর। ফলে রপ্তানি বেশি হওয়ার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য বজায় ছিল সুলতানি আমলে।

উদ্দীপকের রেজা সাহেবের আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের পরিমাণ খুবই স্বল্প। তাই একথা বলা যায় যে, রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থার চেয়ে সুলতানি আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সমৃদ্ধ ছিল।

বাংলার বহু স্থানে আজও মুঘল শাসকদের শিল্প প্রীতির নিদর্শন রয়েছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু সংখ্যক মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। ফলে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য মধ্য যুগকে মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...