জনসংখ্যা সম্পর্কিত আলোচনা অতি প্রাচীন। তবে বর্তমানে এ সম্পর্কিত দুটি তত্ত্ব বহুল প্রচলিত। এ তত্ত্বদ্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও করা হয়।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের তত্ত্বদ্বয়ের আলোকে আমি বাংলাদেশকে জনাধিক্যের দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করব। নিচে যুক্তিসহ আমার মতামত দেওয়া হলো- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। ২০১৭ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী এদেশের জনসংখ্যা ১৫৮.৯ মিলিয়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%। এদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১০৭৭ জন। এত ছোট দেশে এত জনসংখ্যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। ম্যালথাসের তত্ত্বে দেখা যায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে। বাংলাদেশে ১৯০১ সালে জনসংখ্যা ছিল ২.৯ কোটি। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তা প্রায় ১৫ কোটি হয়েছে। অর্থাৎ ১১০ বছরে জনসংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্প আয়তনের এদেশে বর্তমানে বিপুল জনসংখ্যা বিরাজমান।
আবার, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী একটি দেশে যে জনসংখ্যায় উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয় তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যার যে আয়তন দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয় সেই জনসংখ্যার আয়তনকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। বাংলাদেশে বর্তমানে উৎপাদন যে পর্যায়ে রয়েছে তা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু তবুও অনেক বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছে। এ পর্যায়ে তাদেরকে কাজের সংস্থানের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ব হলেও এর বিপরীত অবস্থাও হতে পারে। তাই বলা যায়, এদেশে কাম্য জনসংখ্যা অপেক্ষা অধিক জনসংখ্যা বিদ্যমান।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?