বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। কিন্তু বিগত দশকে এ খাতের উন্নয়নের জন্য সরকার কৃষকদের মাঝে স্বল্পমূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ওষুধ বিতরণ ও ডিজেলে ভর্তুকি প্রদানসহ কৃষিবান্ধব নানান কর্মসূচি গ্রহণ করায় খাদ্য উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকার বিদেশে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
না, উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে না। উক্ত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি সরকারকে আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়েছে। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো-
⇒চাষাবাদে যান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যবহার: বাংলাদেশে বেশির ভাগ জমি লাঙলবলদ দিয়ে চাষ হলেও অনেক এলাকায় সরকারি সহযোগিতায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও চাষাবাদ শুরু হয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। যা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করছে।
⇒ একাধিক ফসল উৎপাদন: বাংলাদেশের অনেক একফসলি জমিতে এখন কৃষকরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে একাধিক ফসল উৎপাদন করছে। যার ফলে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে।
⇒ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত, তবে এখন ভাতের পাশাপাশি গম ও আলুকেও প্রাধান্য দিচ্ছে। তাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে একধাপ এগিয়েছে।
⇒ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশে জন্মহার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই খুব বেশি খাদ্য ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এর ফলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনেও এগিয়ে যাচ্ছে।
⇒ উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন: বাংলাদেশ সরকার কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ধান ও গমের জাত উদ্ভাবন করেছে, যা খাদ্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
⇒ সমবায় খামার প্রতিষ্ঠা: সরকার নিজ উদ্যোগে অনেক এলাকায় সমবায় খামার স্থাপন করছে, যা কৃষি উৎপাদনের মাত্রা বাড়িয়েছে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সাহায্য করছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?