Academy

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান পাট উৎপাদন ও রপ্তানিকারী দেশ ছিল। এককালে বাংলাদেশের পাটকে 'স্বর্ণসূত্র' বলা হতো। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী পাটের বিকল্প আবিষ্কার ও কৃত্রিম আঁশের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের চাহিদা ও মূল্য দিন দিন হ্রাস পেতে থাকে। সরকার পাটের অতীত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে জাতীয় পাটনীতি-২০১১ প্রণয়ন করে। সরকার কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধকরণ, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বর্তমানে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তোমার কি মনে হয় পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে 8 পাবে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago
Ans :

হ্যাঁ, আমার মনে হয় পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। পাট শিল্প নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হলেও এ শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একেবারে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। পাট শিল্পের বিরাজমান সমস্যাগুলো দূর করতে পারলে পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে। এ লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। উদ্দীপকের আলোকে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

⇨ কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধকরণ: পাট উৎপাদন ও
পাটজাত পণ্যের প্রসার ঘটাতে হলে কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও স্বল্পমূল্যে ইউটিলিটি সেবা প্রদান করতে হবে।
⇒ পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ: আমাদের দেশে পাটচাষিরা যাতে পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে পাটচাষিরা পাট উৎপাদনে আরও বেশি আগ্রহী হবে।
⇨ বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুকরণ: লোকসানের অজুহাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো যদি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া যায় তাহলে দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে পাট শিল্প আবার চাঙা হয়ে উঠবে। এর ফলে পাট শিল্প
তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
⇨ বেসরকারি বিনিয়োগ: পাট শিল্প একটি বৃহৎ শিল্প। এ,শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হলে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার, যা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মূলধন গঠন করে পাট শিল্পের প্রসার ঘটানো যাবে।

সর্বোপরি বলা যায়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যদি উক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

2 months ago

বাংলাদেশের শিল্প

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

1 কুটির শিল্প কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago

অল্প শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণবিহীন সদস্যরা জীবনধারণের তাগিদে পরিবারের স্বল্প মূলধন ও সহজলভ্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ঘরে বসে বিভিন্ন দ্রব্য উৎপাদন করে তা-ই কুটির শিল্প।

কোনো একটি দেশ যে সব দ্রব্য আমদানি করে থাকে, তা যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন করা হয় তাকে আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ইত্যাদি কারণে আমদানি বিকল্পন শিল্প স্থাপন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ সাধারণত গাড়ি আমদানি করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি আমদানি না করে দেশের অভ্যন্তরেই গাড়ি তৈরির কলাকৌশল ব্যবহার করে গাড়ি তৈরি করতে পারে তাহলে তা আমদানি বিকল্পন শিল্প বলে গণ্য হবে।

উদ্দীপকে উল্লেখিত শিল্পটি হলো চা শিল্প। নিচে চা শিল্পের সমস্যাগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-

বাংলাদেশের চা শিল্প প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কোনো বছর বৃষ্টি কম হলে চা উৎপাদন কম হয়, কারণ চা উৎপাদনের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। পাহাড়ি অঞ্চলে চা বাগান হওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সাথে চা বাগানে যাওয়ার ভালো সড়ক নেই, এমনকি টেলিফোন লাইন, মোবাইল নেটওয়ার্ক বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও অনেক স্থানে অপ্রতুল। চা শিল্পে দক্ষ শ্রমিকের খুব অভাব, যেখানে ঐতিহাসিক কিছু অবাঙালি পরিবার চা উৎপাদনে নিয়োজিত। তারা শুধু দেখে দেখে কাজ শিখেছে। চায়ের বিকল্প হিসেবে কফির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।
পুরাতন পদ্ধতিতে চা চাষের ফলে বিশ্বমানের চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। চা বাগানগুলোতে প্রায়ই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যার ফলে নিরাপত্তার অভাবে অনেক দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাগান এলাকায় বসবাস করতে চান না। ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন এদের চা অপেক্ষাকৃত উন্নত হওয়ায় রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ এদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ে। চা বাগান তৈরি, পাতা প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে বড় মূলধন প্রয়োজন, যা সহজে ফেরত আসে না।
তাই এ ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোক্তা, নতুন মূলধন দেখা যায় না। উল্লিখিত এসব সমস্যা বাংলাদেশের চা শিল্পে বিদ্যমান।

চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নিচে উক্ত সমস্যার সমাধান সম্পর্কে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-

চা উৎপাদনে আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। পুরনো পদ্ধতির পরিবর্তে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ করে একরপ্রতি উৎপাদন বাড়াতে হবে। অনাবৃষ্টি ও খরার সময় চা বাগানে পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। অদক্ষ, অশিক্ষিত শ্রমিক-কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে বাগানের পরিচর্যা ও পাতা সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন বাড়বে। চা বাগান এলাকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। চা বাগানের সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক স্থাপন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত করতে হবে। বিদেশে চা রপ্তানি বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাপক প্রচারণা, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রদর্শনী মেলায় অংশগ্রহণ রপ্তানি বাজার বৃদ্ধির সহায়ক। চা বাগানগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধাসহ সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অবশ্যই চায়ের গুণগত মান বাড়াতে হবে। চা শিল্পের উন্নয়নে নিবিড় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা একান্ত প্রয়োজন। গুণগত মান বজায় রাখার জন্য চায়ের উত্তম গুদামজাতকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্যাকেটিং প্রয়োজন। চা বাগান, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, চা রপ্তানির সাথে জড়িত বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লিখিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চা শিল্পের সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভম্ব বলে আমি মনে করি।

5 অতি ক্ষুদ্র শিল্প কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago

প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা, তা-ই অতি ক্ষুদ্র শিল্প।'

বাংলাদেশে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্প এই দুই চরম বিপরীতধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে রয়েছে ক্ষুদ্র শিল্প।
ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানাভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লাখ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে।
ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাবান শিল্প, দিয়াশলাই শিল্প, কাঠশিল্প, হোসিয়ারি শিল্প, লবণ শিল্প ইত্যাদি।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...