রনির বয়স তখন মাত্র ১৬ বছর। তার মাঝে ব্যক্তিত্বের পূর্ণবিকাশ তখনও ঘটেনি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল। এরই মাঝে জানা গেল বহিঃশত্রু কর্তৃক দেশ আক্রান্ত হয়েছে। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে এবং স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার প্রচণ্ড ইচ্ছায় সে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। দীর্ঘদিন সশস্ত্র সংগ্রাম ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু রনি আর তার মায়ের কাছে ফিরে আসেনি। কিন্তু তার মা এজন্য গর্বিত যে তিনি ছেলেকে পাননি কিন্তু জাতি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে।
দেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে রনির অবদান অবিস্মরণীয়। তার অবদানকে জাতি কোনোদিন ভুলবে না।
জন্মসূত্রে জন্মভূমির সাথে গড়ে ওঠে মানুষের নাড়ির যোগ। জন্মভূমির জন্য তার মনে জন্ম নেয় নিবিড় ভালোবাসা। প্রত্যেক মানুষেরই জন্মভূমির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সাথে গড়ে ওঠে শেকড়ের বন্ধন। মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার আবেগময় প্রকাশ ঘটে দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে। এজন্যইকবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর স্বদেশ-বন্দনায় বলেছেন, 'সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম মা'গো, তোমায় ভালবেসে।' অথবা,
ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা, তোমাতে বিশ্বময়ী, তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা।'
উদ্দীপকের রনির মাঝে দেশপ্রেমের এ মহান বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। যার কারণে কিশোর বয়সে সে দেশের প্রতি ভালোবাসার টান অনুভব করেছে। নিজের জীবনের চেয়ে দেশের মাটি আর মানুষকে আপন করতে শিখেছে। যে বয়সে একজন কিশোরের খেলাধুলা আর আমোদ প্রমোদের প্রতি টান অনুভূত হয়, সে বয়সে রনি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। প্রাণের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, দেশকে নিজের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন করেছে।
শুধু রনি নয় দেশের প্রতি ভালোবাসার চরম নজির স্থাপন করতে যেসব সূর্যসন্তানেরা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কোনো জাতি তাদের এ বীর সন্তানদের কোনো দিনও ভুলবে না। তাদের আত্মদান না থাকলে স্বাধীন দেশ কোনোদিনও পেতাম না-
এ আত্মোপোলব্ধি থেকে দেশের প্রতিটি মানুষ এ সাহসী মানুষদের আজীবন স্মরণ করবে পরম শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?