Academy

রনির বয়স তখন মাত্র ১৬ বছর। তার মাঝে ব্যক্তিত্বের পূর্ণবিকাশ তখনও ঘটেনি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল। এরই মাঝে জানা গেল বহিঃশত্রু কর্তৃক দেশ আক্রান্ত হয়েছে। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে এবং স্বাধীন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার প্রচণ্ড ইচ্ছায় সে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। দীর্ঘদিন সশস্ত্র সংগ্রাম ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু রনি আর তার মায়ের কাছে ফিরে আসেনি। কিন্তু তার মা এজন্য গর্বিত যে তিনি ছেলেকে পাননি কিন্তু জাতি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে। 

দেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে রনির অবদানকে তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে? (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

দেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে রনির অবদান অবিস্মরণীয়। তার অবদানকে জাতি কোনোদিন ভুলবে না।

জন্মসূত্রে জন্মভূমির সাথে গড়ে ওঠে মানুষের নাড়ির যোগ। জন্মভূমির জন্য তার মনে জন্ম নেয় নিবিড় ভালোবাসা। প্রত্যেক মানুষেরই জন্মভূমির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সাথে গড়ে ওঠে শেকড়ের বন্ধন। মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার আবেগময় প্রকাশ ঘটে দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে। এজন্যইকবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর স্বদেশ-বন্দনায় বলেছেন, 'সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম মা'গো, তোমায় ভালবেসে।'                      অথবা,   

ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা, তোমাতে বিশ্বময়ী, তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা।'
উদ্দীপকের রনির মাঝে দেশপ্রেমের এ মহান বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। যার কারণে কিশোর বয়সে সে দেশের প্রতি ভালোবাসার টান অনুভব করেছে। নিজের জীবনের চেয়ে দেশের মাটি আর মানুষকে আপন করতে শিখেছে। যে বয়সে একজন কিশোরের খেলাধুলা আর আমোদ প্রমোদের প্রতি টান অনুভূত হয়, সে বয়সে রনি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। প্রাণের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, দেশকে নিজের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন করেছে।

শুধু রনি নয় দেশের প্রতি ভালোবাসার চরম নজির স্থাপন করতে যেসব সূর্যসন্তানেরা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কোনো জাতি তাদের এ বীর সন্তানদের কোনো দিনও ভুলবে না। তাদের আত্মদান না থাকলে স্বাধীন দেশ কোনোদিনও পেতাম না-
এ আত্মোপোলব্ধি থেকে দেশের প্রতিটি মানুষ এ সাহসী মানুষদের আজীবন স্মরণ করবে পরম শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায়।

9 months ago

দেশপ্রেম ও জাতীয়তা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।

জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।

6 জাতি-রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...