উচ্চশিক্ষিত হাসনা বেগম গৃহিণী। সকাল থেকে প্রতিদিনি সাংসারিক সকল কাজ নিজেই করেন। তাঁর স্বামী রহমান সাহেব প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে স্ত্রীর বানানো চা খেতে খেতে টেলিভিশন দেখে সময় কাটান। আর কথায় কথায় স্ত্রীকে বলেন তোমার তো কোনো কাজই নেই। সারাদিন ঘরে বসে সময় কাটাও। এমন অবজ্ঞাক কথার জবাবে হাসনা বেগম বলেন, তোমারগুলো কাজ আর আমারগুলো কাজ না। তুমি কাজ করে টাকা পাও কিন্তু আমি পুরো সংসার পরিচালনা করেও আমার কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই।
আলোচ্য অংশটির মধ্য দিয়ে কবি বুঝিয়েছেন যে, পুরুষ যদি নারীকে বন্দি করে রাখে তবে পরবর্তীতে এর ফল ভোগ করতে হবে পুরুষকেই ।
দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় পুরুষ নারীকে চার দেয়ালে বন্দি করে রাখতে চায়। পুরুষ যদি এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে না আসতে পারে তবে সেটা তার জন্যই অমঙ্গলজনক। কারণ নারীরা ধীরে ধীরে অধিকারসচেতন হয়ে উঠছে। তাই যে কারাগারে আজ পুরুষ নারীকে বন্দি করে রাখতে চাইছে সেখানে হয়তো তাদেরই এক সময় পচে মরতে হবে।
সাম্যের গান গাই—
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।
কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপাড়ি কত বোন দিল সেবা,
বীরের স্মৃতি স্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোনো কালে একা হয় নি কো জয়ী পুরুষের তরবারি,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষ্মী নারী।
সে-যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না কো, নারীরা আছিল দাসী।
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি,
কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি৷
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে
যুগের ধর্ম এই—
পীড়ন করিলে সে-পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই।
[সংক্ষেপিত]
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?