Academy

মফস্বল এলাকার তরুণ সাফওয়ান। শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে C 
পড়া যুবসমাজকে নিয়ে তার যত চিন্তাভাবনা। আর চিন্তাচেতনা থেকেই সে এলাকার তরুণদেরকে নিয়ে গড়ে তোলে একটি যুব সংগঠন। এ সংগঠনের আওতায় সে একটি পাঠাগারও প্রতিষ্ঠা করে। সাফওয়ানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা যুব সংগঠন ও পাঠাগারটি এলাকার যুবসমাজকে যে আশার আলো দেখিয়েছে, তা সকলের নিকট প্রশংসাযোগ্য। সাফওয়ানের নেতৃত্ব যুবসমাজের জন্য যেন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। 

নেতৃত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

প্রাচীন সমাজব্যবস্থায় নেতৃত্বের গুরুত্ব ছিল অত্যধিক প্রবল। বর্তমানকালেও নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অধিকতর বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক জীবনব্যবস্থায় যৌথ কর্মপ্রচেষ্টাকে সার্থক করতে হলে নেতৃত্বের গুরুত্ব অত্যধিক। উদ্দীপকের আলোকে নেতৃত্বের গুরুত্বসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-

১. আধুনিককালের সমস্যাসঙ্কুল ও জরাজীর্ণ জীবনব্যবস্থায় সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সার্বক্ষণিক। খানিক সময়ের জন্য নেতৃত্বের অভাব হলে গোটা মানবজাতির জন্য তা অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

২. দক্ষ, যোগ্য ও সুনিপুণ নেতৃত্ব ব্যতিরেকে কোনো জাতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না।

৩. পরিবর্তনশীল সমাজ জীবনে জনসাধারণের আচার-আচরণকে সুনিয়ন্ত্রিত রাখার একমাত্র মাধ্যম হলো নৈতিক ক্ষমতাধর সুযোগ্য নেতৃত্বের।

৪. প্রতিভাবান, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, সৃজনশীল নেতৃত্ব ব্যতিরেকে জাতীয় একাত্মতার সংকট দূরীভূত করা সম্ভব নয়।

৫. জাতীয় সংকট নিরসন করে জাতীয় সংহতি সৃষ্টিতে যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

৬. নেতৃত্বের গুণেই সৃষ্টি হয় জনগণের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা, সৃজনশীল মানসিকতা ও প্রগতিশীল চিন্তাচেতনা। আবার নেতৃত্বের গুণেই সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জোয়ার। ফলে কোনো জাতির ভাগ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নেতৃত্বের গুরুত্বকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, মানবজাতির বৃহৎ স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার প্রয়োজনে এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গোষ্ঠী স্বার্থসমূহ সমন্বিত করার অপরিহার্য প্রয়োজনে সাফওয়ানের মতো সুযোগ্য নেতৃত্ব সমাজের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ও অতি প্রয়োজনীয়।

10 months ago

রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

2 নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

সাধারণ অর্থে নেতৃত্ব বলতে নেতার গুণাবলিকে বোঝায়। পৌরনীতিতে নেতৃত্ব বলতে বোঝানো হয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নেতা কতখানি গুণের অধিকারী এবং তা অন্যকে কতটুকু প্রভাবিত করতে পারে তাকে। সমাজবিজ্ঞানী কিম্বল ইয়ং-এর মতে, “নেতৃত্ব হলো এক ধরনের আধিপত্য যাতে অনুসারীরা তাকে সানন্দে মেনে চলে।” অর্থাৎ এটি এমন এক কৌশল, যা তার অনুসারীদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে তাদেরকে উদ্দীপ্ত করে।

উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।

গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক ও পরোক্ষ ব্যবস্থা। বর্তমানকালের বিশাল জনসংখ্যা বিশিষ্ট জাতীয় রাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য গড়ে উঠেছে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের পরোক্ষভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। এজন্য পরোক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারকে 'দলীয় সরকার' বলা হয়। রাজনৈতিক দলের মূলভিত্তিই হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 'আর রাজনৈতিক দল বলতে এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানের পন্থা জনসম্মুখে = প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে। জনসমর্থন পেলে - নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে এবং সরকার গঠন করে = থাকে। এর বিশেষ দিক হলো-

১. জনগণকে সংঘবদ্ধ করবে একটি আদর্শের ভিত্তিতে

২. তাদের আদর্শ ও নীতি প্রচার করে সমর্থন আদায় করবে;

৩. বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে;

৪. সরকার গঠন করলে দলীয় নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে;

৫. জনকল্যাণে কাজ করবে;

৬. সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।

 

 

এখানে রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ক্ষমতা লাভই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দলের অনেকগুলো উদ্দেশ্যের মধ্যে ক্ষমতা লাভ অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলসমূহ তাদের আদর্শ ও নীতিমালা প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে থাকে। জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠন করে বা করার চেষ্টা করে। জোসেফ সুম্পিটার বলেন, "রাজনৈতিক দল হলো একটি গোষ্ঠী যার সদস্যরা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রামে একযোগে কাজ করে যেতে সম্মত হয়।" আবার অধ্যাপক গ্যাটেল রলেন যে, "রাজনৈতিক দল কমবেশি সংগঠিত নাগরিকদের গোষ্ঠী, যারা রাজনৈতিক একক হিসেবে কাজ করে এবং যারা তাদের ভোটদান ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সাধারণ নীতিমালা কার্যকর করতে চেষ্টা করে।" অন্যদিকে, ম্যাকাইভার মনে করেন যে, রাজনৈতিক দল দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে থাকে।

অর্থাৎ আমরা দেখতে পাই যে, রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রমের মূলভিত্তি হলো জনসমর্থন লাভের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।
নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা গ্রহণ করতে রাজনৈতিক দল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আর সরকার গঠন করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন না পেলে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে থাকে। ক্ষমতা লাভ করার জন্যই রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

"রাজনৈতিক দল আদর্শের প্রচারক হিসেবে কাজ করবে” কথাটি বলেছেন অধ্যাপক ম্যাকাইভার।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত দলীয় শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন আদায়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। গণতন্ত্রে দলীয় সরকার দেশ পরিচালনা করে। দল ব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। এজন্য রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...