Academy

প্রাণ থাকলেই প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না।

(ভাবসম্প্রসারণ করুন)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

প্রাণ থাকলেই প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না

মূলভাব: কেবল প্রাণের অধিকারী হওয়াই মনুষ্যত্বের লক্ষণ নয়। প্রাণের অস্তিত্বের নিরিখে বিচার করলে মানুষ সব কীটপতঙ্গ ও জীবজন্তুর সমগোত্রীয়। পক্ষান্তরে, বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন সংবেদনশীল মনের অধিকারী হতে পারলে মানুষ ইতর প্রাণীগোত্রের সীমা ছাড়িয়ে মানুষের মর্যাদায় অভিষিক্ত হতে পারে।

সম্প্রসারিত ভাব: মানুষ প্রাণিকুলের সদস্য হলেও অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা। অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে পার্থক্যের মূলে রয়েছে মানুষের মনোজগতের বৈশিষ্ট্য। মানুষ প্রাণী হিসেবে সহজাত কিছু গুণ নিয়ে জন্মায়। সেই সহজাত গুণে আবদ্ধ থাকলে মানুষ প্রাণিজগতের গণ্ডি পার হতে পারে না। শিক্ষা, সাধনা ও অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ পারে সে গণ্ডি পার হতে। মানবিক গুণাবলি আয়ত্ত করেই একজন সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে পারে। তখন অন্যান্য প্রাণী থেকে সে হয়ে যায় আলাদা। সত্যিকারের মানুষ চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান-বুদ্ধি, আবেগ-অনুভূতির অধিকারী ও বিবেকবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়। যে মানুষের আকৃতি নিয়ে পশুর মতো কাজ করে, যার মধ্যে মানবতাবোধ, বিবেচনাবোধ ও বিবেকবুদ্ধি নেই-তাকে সত্যিকার অর্থে মানুষ বলা যায় না। মানুষ কেবল প্রাণের অধিকারী নয়, মনেরও অধিকারী। মানুষের মন অন্যকে ভালোবাসে, অন্যের ভালোবাসা পেতে চায়।

মন্তব্য: মানুষ হতে হলে কেবল প্রাণ থাকলে চলবে না, তাকে হতে হবে সুন্দর, সুস্থ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মনের অধিকারী।

8 months ago

পাঠ্যবই বহির্ভূত কতিপয় ভাবসম্প্রসারণের নমুনা

✍️ বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – সপ্তম শ্রেণি | NCTB অনুমোদিত ২০২৫

বাংলা ব্যাকরণ শেখা কি কঠিন মনে হয়?
এসো, SATT Academy–তে শিখি ব্যাকরণ ও ভাষা নির্মাণ–কে সহজ ও আনন্দময় উপায়ে!
এখানে তুমি পাবে NCTB অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী সাজানো প্রতিটি অধ্যায়ের সহজ ব্যাখ্যা, প্রশ্ন–উত্তর, লাইভ টেস্ট, ভিডিও সহ শিক্ষা, এবং PDF ডাউনলোড সুবিধা – সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে।


✅ এখানে যা থাকছে:

  • প্রতিটি অধ্যায়ের সহজ ভাষায় সংজ্ঞা, উদাহরণ ও ব্যাখ্যা
  • বর্ণ, শব্দ, বাক্য, পদ, কারক, বিভক্তি, ক্রিয়া, সন্ধি, সমাস ইত্যাদি বিষয়ের পরিষ্কার ধারণা
  • সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন–উত্তর
  • লাইভ টেস্ট ও কুইজ – নিজেকে যাচাই করার সুযোগ
  • ভিডিও লেকচার ও অডিও পাঠ – ব্যাকরণে দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে
  • কমিউনিটি ফিচার – শিক্ষার্থীরা নিজের মতো ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন যোগ করতে পারবে

📥 NCTB PDF ডাউনলোড লিংক (২০২৫):

🔗 বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – সপ্তম শ্রেণি PDF ডাউনলোড
(সরকারি সাইট থেকে ডাউনলোড বা অনলাইনে পড়তে পারবেন)


👨‍🏫 এই কনটেন্ট কার জন্য উপকারী?

  • শিক্ষার্থীদের জন্য: ঘরে বসেই সহজভাবে ব্যাকরণ শেখার সুযোগ
  • শিক্ষকদের জন্য: ক্লাসে শেখানোর জন্য সাজানো উপকরণ
  • অভিভাবকদের জন্য: সন্তানকে গাইড করার উপযোগী রিসোর্স
  • প্রাইভেট টিউটরদের জন্য: টপিক ভিত্তিক সাজানো কনটেন্ট প্রস্তুত

⚙️ কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  1. “বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – সপ্তম শ্রেণি” সিলেক্ট করুন
  2. অধ্যায় নির্বাচন করে ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন–উত্তর পড়ুন
  3. প্রয়োজন হলে বুকমার্ক করুন বা PDF ডাউনলোড করুন
  4. লাইভ কুইজে অংশগ্রহণ করে প্রস্তুতি যাচাই করুন
  5. আপনার মতামত বা ব্যাখ্যাও কমেন্টে শেয়ার করুন

✨ কেন SATT Academy?

  • ✅ বাংলা ব্যাকরণ শেখা এখন সহজ
  • ✅ ১০০% সিলেবাস কাভারেজ – NCTB ২০২৫ অনুসারে
  • ✅ ইন্টার‍্যাক্টিভ ফিচার: ভিডিও, কুইজ, নোটস
  • ✅ কমিউনিটি-সম্পাদিত কনটেন্ট
  • ✅ ফ্রি + প্রিমিয়াম সুবিধা, মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন

🔍 সার্চ-সহায়ক কীওয়ার্ড:

  • বাংলা ব্যাকরণ সপ্তম শ্রেণি PDF
  • Bangla Grammar and Nirmiti Class 6
  • বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি প্রশ্ন উত্তর
  • NCTB Class 6 Grammar 2025
  • SATT Academy Bangla Grammar Class 6

🚀 আজই শুরু হোক ব্যাকরণ শেখার যাত্রা

SATT Academy–র সাথে ব্যাকরণ ও নির্মিতি শেখা হবে মজাদার, সহজ এবং পরীক্ষার জন্য একদম উপযোগী।
শুরু করুন বাক্য গঠন থেকে ভাষা নির্মাণ–এর রোমাঞ্চকর পথচলা আজ থেকেই।

🎓 SATT Academy – ভাষা শেখার স্মার্ট সঙ্গী।

Related Question

View More

যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ।

মূলভাব: সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রতিটি মানুষের। এমনকি মৃত্যুপথযাত্রী মানুষও জীবনের আশা একেবারে পরিত্যাগ করে না। ক্ষণস্থায়ী জীবনটাকে মানুষ অনেক আশা নিয়ে চিরদিন ধরে রাখতে চায়।

সম্প্রসারিত ভাব: পৃথিবীতে মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন তার চাওয়া-পাওয়ার শেষ থাকে না। প্রতিনিয়ত সে ব্যস্ত থাকে ধনসম্পদ, যশ-খ্যাতি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভের দুর্বার আকাঙ্ক্ষা পূরণে। কারণ, পৃথিবীতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা অসীম। একটি চাহিদা পূরণ হলে অন্য একটি চাহিদা পূরণের জন্য সে অস্থির হয়ে ওঠে। এ সবকিছুর মূলেই রয়েছে আশা। আশাই মানুষকে তাড়িত করে, বাঁচিয়ে রাখে। মানুষ আশা নিয়েই বেঁচে থাকে, সংগ্রাম করে। ব্যর্থতা এলেও আশার কারণে মানুষ হতাশায় ভোগে না বরং আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে শক্ত হাতে হাল ধরে। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষের দেহে প্রাণ থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তার আশারও শেষ নেই। কারণ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ প্রত্যাশা করে বৈচিত্র্যে ভরপুর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার। তাই তো কবি বলেছেন-'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।' অর্থাৎ সুন্দর ভুবনে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার দুর্বার আকাঙ্ক্ষা সব মানুষের। শতায়ু লাভ করা ব্যক্তিও মৃত্যু কামনা করে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে আরও কিছুদিন বাঁচার ইচ্ছা পোষণ করে। তাই দুঃখকষ্ট ও পরাজয়ের মাঝে আশাই মানুষের একমাত্র অবলম্বন।

মন্তব্য: মানুষ আশার উপর ভর করেই বেঁচে আছে। আশাই মানুষকে প্রেরণা "দেয়, অনুপ্রাণিত করে, বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। আশাই মানুষকে জীবন-সংগ্রামের পথে পরিচালিত করে।

স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা উত্তম।

মূলভাব: স্পষ্ট তিরস্কার মিথ্যা প্রশংসা অপেক্ষা অনেক বেশি ভালো।

সম্প্রসারিত ভাব: 'One can not please all'- একজন মানুষ সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারে না। তাই জীবন চলার পথে বন্ধুর পাশাপাশি শত্রুও থাকবে। প্রকৃত বন্ধুর বৈশিষ্ট্য হলো বিপদাপদে বন্ধুর পাশে থাকা, বিপথ থেকে সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। কিন্তু বন্ধু যদি বন্ধুত্ব রক্ষার জন্য বন্ধুর দোষ ধরিয়ে না দিয়ে প্রশংসা করে অথবা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তাহলে সে শত্রুর চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট। কারণ শত্রু সামনাসামনি দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের দোষ-ত্রুটি বলে দেয়। ফলে সে নিজেকে সংশোধনের সুযোগ পায়। ভুল করার পরও যে বন্ধু নির্বাক থাকে, ভুল সংশোধন করতে বলে না, সে ভুল পথে যাওয়া বন্ধুকে পরোক্ষভাবে উদ্বুদ্ধ করে আরও ভুল করতে। এমন বন্ধুকে প্রকৃত বন্ধু বলা যায় না। কারণ যে সত্যিকারের বন্ধু, সে বন্ধুর মঙ্গল কামনার্থে অবশ্যই নিষেধ করবে খারাপ পথে যেতে। তার ভুল ধরিয়ে দেবে সংশোধনের জন্য। শত্রু সর্বদা ক্ষতি করার সুযোগ খোঁজে আর এটা জেনে সে সর্বদা সতর্ক থাকার চেষ্টা করে। শত্রুর তিরস্কারের কারণে সে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করে। প্রকৃত বন্ধু সে-ই, যে বন্ধুর ভুল হাসিমুখে মেনে না নিয়ে ভুল ধরিয়ে দিয়ে তা সংশোধনে সাহায্য করে।

মন্তব্য: মানবজীবন শুদ্ধ এবং ভুলে আচ্ছন্ন। প্রকৃত বন্ধু ভুল থেকে উত্তরণের পথ দেখায়। বন্ধু যদি ভুল না বলে দেয়, তবে সেই ভালো যে দোষ দেখে তা নিয়ে তিরস্কার করে।

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।

মূলভাব: কোনো কিছু পাওয়া বা অর্জন করার তীব্র আকাঙ্ক্ষাই হলো সেটিকে জয় করার হাতিয়ার। প্রবল আগ্রহ ও চেষ্টা থাকলে কোনো কিছুই অর্জন করা অসম্ভব নয়।

সম্প্রসারিত ভাব: মানুষের ইচ্ছা যখন তীব্র হয়ে ওঠে তখন তা শক্তিতে পরিণত হয়। এই ইচ্ছাশক্তিই তাকে সাহায্য করে অসাধ্য সাধন করতে। ইচ্ছাশক্তির কারণেই গুহাবাসী মানুষ আজ সভ্য সমাজে বাস করছে। গুহা ছেড়ে এসে তারা নির্মাণ করেছে নগর, বন্দর, রাস্তা ইত্যাদি। ইচ্ছাশক্তির জোরেই মানুষ পা রেখেছে চাঁদে, জয় করেছে এভারেস্ট। আজকের সভ্যতার যা কিছু অর্জন সবকিছুই মানুষের ইচ্ছার ফসল। মানুষের মনে এই ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা না থাকলে সভ্যতার অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। চলার পথে বাধাবিপত্তি আসবেই, উত্থান-পতন হবেই, পরাজয়ও আসবে, কিন্তু তা দেখে আশাহত হয়ে বসে থাকলে বা হাল ছেড়ে দিলে জয়লাভ করা সম্ভব হবে না। নিজের জয়লাভের ইচ্ছাকে শক্তিরূপে ব্যবহার করে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হবে। কোনো কাজ কঠিন ভেবে পারব না বলে আশঙ্কা করা, বন্ধুর পথ দেখে সুউচ্চ পাহাড় দেখে চূড়ায় উঠতে ভয় পাওয়াকে জয় করতে হবে প্রবল ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে। ইচ্ছাই মানুষের ভয়কে জয় করতে শেখায়, মনে সাহস দেয়, দেহে শক্তি দেয়। চলার পথে বাধাবিঘ্ন এসে যখন পথ অবরোধ করে, তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য মানুষ অসহায় বোধ করে। তখন ইচ্ছার জোরেই কেবল জয় করা যায় সমস্ত প্রতিকূলতা। জয়ের আকাঙ্ক্ষা না থাকলে মানুষ কেবল নিমজ্জিত হবে নিরাশায়, অন্ধকারে, ব্যর্থতায়।

মন্তব্য: মানবজীবনকে গতিশীল রাখতে, সব বাধা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে এবং নতুন কিছু জয় করতে প্রয়োজন প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা।

আত্মশক্তি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য

মূলভাব: আত্মশক্তি হলো এমন মহৎ গুণ, যার জন্য মানুষ বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে আনতে পারে। প্রকৃত শিক্ষাই কেবল মানুষকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে তুলতে পারে।

সম্প্রসারিত ভাব: শিক্ষাই পারে মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। মানুষের মধ্যে যে মনুষ্যত্ববোধ আছে, যে সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে, তার বিকাশ ঘটানো হলো শিক্ষার উদ্দেশ্য। শিক্ষা মানুষের সুপ্ত গুণগুলোকে বিকশিত করে নিজেকে চিনতে সাহায্য করে। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে যতটা না জ্ঞান দেয়, তার চেয়েও বেশি দেয় সুপ্ত প্রতিভাকে চেনার ও বিকশিত করার সুযোগ। আর এসব সুকুমারবৃত্তি বিকশিত হওয়ার মাধ্যমেই একজন মানুষ প্রকৃত মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। সব মানুষের মাঝেই আছে কিছু সুপ্ত প্রতিভা, পবিত্র চিন্তাভাবনা। শিক্ষার সংস্পর্শে এসেই সেসবের প্রকাশ ঘটে। এতে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত একেই আত্মশক্তি অর্জন বলে। আত্মশক্তি অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ আত্মনির্ভরশীল হয়। আর জাতিগতভাবে হয় উন্নত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উন্নত দেশগুলোর চেয়ে বাঙালিরা শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণেই আমাদের মধ্যে পরনির্ভরশীলতা বেশি। উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশের মানুষের মাঝে সৃজনশীলতা থাকলেও প্রকৃত শিক্ষার অভাবে বা আত্মশক্তি অর্জনের অভাবে সৃজনশীলতা বিকশিত হতে পারে না। শিক্ষাই পারে আত্মশক্তি অর্জনের পথ দেখিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে। তাই প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মশক্তি অর্জনে আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত।

মন্তব্য: আত্মশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিই সমাজে প্রতিষ্ঠিত বা মর্যাদা লাভ করে। প্রকৃত শিক্ষাই তাদের আত্মশক্তি অর্জনের সহায়ক। তাই আমরা বলতে পারি, শিক্ষা ছাড়া আত্মশক্তি অর্জন সম্ভব নয়।

তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?

মূলভাব: ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির ভেদ চিরকালের। উত্তম চরিত্রের অনুকরণে কেউ উত্তম ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হতে পারে। তাই বলে অধমের চরিত্র কারো কাছে অনুপ্রেরণার আদর্শ হতে পারে না।

সম্প্রসারিত ভাব: সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। বুদ্ধিবৃত্তি মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য হলেও চারিত্রিক-বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতার বিচারে সব মানুষ এক নয়। মানুষের মধ্যে ভালো ও মন্দ দুই-ই আছে। এর মধ্যে উত্তম স্বভাবের মানুষই সমাজের আদর্শ। মন্দ স্বভাবের মানুষ অধম শ্রেণির। সমাজের মঙ্গল সাধনের চিন্তা কখনো এদের মনে স্থান পায় না। অন্যের অনিষ্ট করতেও এরা কুষ্ঠিত হয় না। অন্যদিকে, উত্তম স্বভাবের মানুষেরা, হন সৎ, নির্লোভ ও পরোপকারী। সামাজিক কল্যাণ সাধনের পাশাপাশি ব্যক্তিমানুষের কল্যাণের জন্য তাঁরা নিজেকে নিয়োজিত করেন। একজন উত্তম স্বভাবের ব্যক্তি চিন্তা ও কর্মে সবসময় ন্যায় ও সততাকে লালন করেন। অধম তথা নিকৃষ্ট শ্রেণির মানুষ কর্তৃক প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সবার সচেতন হওয়া উচিত। কেউ কেউ মানুষের অকল্যাণ ও অনিষ্ট করে তৃপ্ত হতে পারে কিন্তু তাদের ওই মন্দ স্বভাবকে ধারণ ও লালন করাটা বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়। নিজেকে সৎ ও পরোপকারী হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যেই ব্যক্তির কল্যাণ নিহিত।

মন্তব্য: সমাজে চলতে হলে ভালো ও মন্দ সব ধরনের মানুষের সাথেই পরিচয় হবে। কিন্তু কেবল সৎ ও আদর্শবান লোককেই অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত।

সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত

মূলভাব: শিক্ষা মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। স্বশিক্ষার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে শিক্ষিত ও মননশীল করে গড়ে তুলতে পারে।

সম্প্রসারিত ভাব: শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ডস্বরূপ। শিক্ষাই জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দেয়। শিক্ষা ব্যতীত ব্যক্তি তথা জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষার্থী তার মেধা আর পরিশ্রম দ্বারাই শিক্ষিত হতে পারে। এখানে শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেননা, তিনি শিক্ষার্থীকে শিক্ষিত হতে সাহায্য করেন, দিকনির্দেশনা দেন। তবে শিক্ষকের এ সাহায্য একটা পর্যায় পর্যন্ত সীমিত। এ পর্যায় অতিক্রম করার দায়িত্ব একান্তভাবেই শিক্ষার্থীর এবং সে ক্ষেত্রে সফল হয়ে ওঠাই হলো সুশিক্ষিত হয়ে ওঠার নামান্তর। জন্মের পর থেকেই মানুষ তার পরিবার, পরিবেশ, আত্মীয়-পরিজন থেকে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করে এবং একটা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ 'করে সার্টিফিকেট লাভ করে। কিন্তু এই সার্টিফিকেট কিংবা পরীক্ষায় পাশ করাই প্রকৃত শিক্ষা নয়। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা জ্ঞানচর্চার এবং জ্ঞান আহরণের পথকে অনেক সময় সুগম করে তুললেও জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। সত্যিকারের জ্ঞান আত্মস্থ করার জন্য প্রয়োজন আত্মপ্রয়াস। জ্ঞান আত্মস্থ করতে হলে সাধনা করতে হয়। এজন্য দরকার একাগ্রতা ও প্রচুর পরিশ্রম। স্বীয় চেষ্টা দ্বারাই মানুষ তার বুদ্ধিবৃত্তিকে পরিচালিত করে স্বকীয়তা ও মৌলিকতার উন্মেষ ঘটিয়ে শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে বিচরণ করতে পারে। এভাবে মানুষ হয়ে ওঠে সুশিক্ষিত।

মন্তব্য: সুশিক্ষিত ব্যক্তির মন কুসংস্কারমুক্ত ও মুক্তবুদ্ধির আলোকে উদ্ভাসিত। যিনি পরিশীলিত রুচিবোধে নম্র ও উদার- এ সুশিক্ষা তাঁর স্বীয় সাধনার দ্বারা অর্জিত।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...