অসহায় ও দুর্গত মানুষজনের মধ্যে ত্রাণ-বিতরণ দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা বিস্তার এবং আশ্রয়জনিত পুনর্বাসনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা (NGO) এবং দাতা সংস্থা কাজ করে। এর মধ্যে ব্র্যাক, প্রশিকার মতো দেশীয় এনজিও, কারিতাসের মতো বিদেশি এনজিও এবং জাইকার মতো দাতা সংস্থা কাজ করে থাকে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশীয় সংস্থা অর্থাৎ ব্র্যাক, আশা ও প্রশিকার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই ব্র্যাকের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচিতে কিছুসংখ্যক কেন্দ্রের সুগঠিত দলের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা দল উভয়ই রয়েছে। গ্রুপ গঠনের প্রক্রিয়া অন্যান্য সংস্থাগুলোর মতোই হয়ে থাকে। আর এই গ্রুপের মাধ্যমেই তাদের ঋণ দেওয়া হয়। গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক প্রকল্প হচ্ছে আড়ং। গ্রামীণ মহিলাদের তৈরি কাপড় কিনে আড়ং-এর মাধ্যমে শহরে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
ব্র্যাকের শিক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবনীমূলক ও কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। এ কার্যক্রম দেশব্যাপী অল্প সময়ে শিক্ষা বিস্তার লাভে সাহায্য করেছে। শিক্ষা কর্মসূচির অধীনে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ব্র্যাক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেসব বিদ্যালয়ে কয়েক লক্ষ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে থাকে। সম্প্রতি ঢাকায় ব্র্যাকের পরিচালনায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির অধীনে খাবার স্যালাইন, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ১৯৭৮ সালে আশা প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ১৯৯২ সালে স্পেশালাইজড ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ NGO কার্যক্রম শুরু করে। এটি বর্তমানে সর্ববৃহৎ আত্মনির্ভর, দ্রুত বিকাশমান ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থা-হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এর ইনোভেটিভ স্বল্প ব্যয় ও টেকসই ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
১৯৭৫ সলে ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে প্রশিকার কার্যক্রম সূচিত হয়েছিল। পরে ১৯৭৬ সালে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহত্তর পরিসরে কাজ শুরু করে। বর্তমানে প্রশিকা দেশের ৫৯টি জেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?