Academy

গনি মিয়া একজন কৃষক। বন্যা, লবণাক্ততা ও খরার কারণে তার জমিতে ফলন কমে যাচ্ছে। তাই তিনি চিন্তাগ্রস্ত। এ সমস্যা সমাধানে তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিলেন। কৃষি কর্মকর্তা তাকে একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিলেন। ফলে গনি মিয়ার জমির ফলন বেড়ে গেল। এখন গনি মিয়া বেশ খুশি।

বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কতটুকু যুক্তিযুক্ত? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago
Ans :

উদ্দীপকে গনি মিয়ার জমিতে উফশী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিচে উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-
কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উফশী প্রযুক্তি এক অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। এ দেশে প্রায় ২৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় নিচে অবস্থান করছে। এই বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা মেটানোর জন্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা জরুরি। আবার খাদ্যের পাশাপাশি এই বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের কথাও চিন্তা করতে হয়। এসব কিছু বিবেচনা করে কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়। এর ফলে উন্নত জাতের বীজ, সেচ, সার ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যচাহিদা মেটানো হয়। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে উফশী প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বড় অবদান রাখছে। পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকার জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন জাতের শস্যবীজ উদ্ভাবন করে  উৎপাদন বৃদ্ধি জরুরি। এর ফলে বিরূপ পরিবেশে যেমন উৎপাদন বাড়বে তেমনি বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যারও সমাধান হবে। ক্রমগত কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে জমিতে ব্যবহারের ফলে কৃষকদের কৃষি উৎপাদনের দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। এতে যেমন পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে তেমনি আয় ও জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পাবে। এর সাথে খাদ্য নিরাপত্তার পূর্ণ সমাধানও
জড়িত।

উদ্দীপকের গনি মিয়া বন্যা, লবণাক্ততা ও খরার কারণে জমিতে ফসল কম ফলাতে পারছেন। তাই কৃষি কর্মকর্তা তাকে উফশী প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এর ফলে তার জমির ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়। এভাবে সারা দেশের উৎপাদন যখন বাড়বে তখন উফশী প্রযুক্তি ব্যবহার সার্থক হবে। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে উফশী প্রযুক্তি ব্যবহার যুক্তিযুক্ত।

2 months ago

বাংলাদেশের কৃষি

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

1 সেচ কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago

সেচ হলো কৃত্রিমভাবে কৃষিজমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.১% কৃষি খাতে নিয়োজিত। কিন্তু এ দেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন ও দরিদ্র। ফলে কৃষিকাজের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হয়। তাই কৃষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করে।

উদ্দীপকের ঘটনা অনুসারে আব্দুল করিম কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উৎপাদিত ফসল ভোক্তার নিকট তথা ক্রেতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম বা প্রক্রিয়াকে কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণ বলে। এ ধরনের পেশার লোকদের দালাল বা ফড়িয়া বলে। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা বা ভোক্তার চাহিদামতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করা বাজারজাতকরণের প্রথম ধাপ। বিপুল কৃষিপণ্য একসাথে বিক্রি করা যায় না। ফলে কৃষিপণ্য গুদামজাত ও সংরক্ষণ করতে হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছানোর জন্য পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত থেকে ফসল ক্রয় করা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন ইত্যাদির জন্য বিপণনের কাজে ব্যবসায়ী/কৃষকের অর্থের যোগান থাকতে হয়। অতঃপর উক্ত কৃষিপণ্যসমূহ বাজারে বিক্রয় করতে হয়। আব্দুল করিমও ফসলের মৌসুমে কৃষকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন তাদের ফসল কেনার জন্য। কৃষকদের থেকে সংগৃহীত ফসল তিনি শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। এই মধ্যপন্থী কার্যক্রম, অর্থাৎ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করে তার সংসার চালান।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাজারজাতকরণ বা বিপণন পেশা আমাদের দেশে প্রয়োজনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত। তারা অনেক পরিশ্রম করে শস্য ফলায়। তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করলে ভালো দাম পায় না। তাই তারা দালাল বা ফড়িয়াদের কাছে সাধারণ দামের চেয়ে একটু বেশি দামে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির চেষ্টা করে। দালাল বা ফড়িয়ারা ওই ফসল শহরে আরও বেশি দামে বিক্রি করে। এতে তারা নিজেরাও লাভবান হয়, আবার কৃষকরাও সাধারণের থেকে একটু বেশি লাভবান হয়। এই দালাল বা ফড়িয়াদের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে গঞ্জে এবং গঞ্জ থেকে শহরে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার কাজেও এ ধরনের দালাল বা ফড়িয়াদের অবদান রয়েছে। আমাদের দেশে এই ধরনের দালাল ও ফড়িয়ারা আছে বলেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারছে। তবে বর্তমানে কিছু ভুয়া দালাল ও ফড়িয়া কৃষকদের ঠকিয়ে তাদের কষ্টে উৎপাদিত পণ্য আত্মসাৎ করছে। যার ফলে সরকার ওই দালাল ও ফড়িয়াদের দূর করতে নিজেরাই কৃষকদের কাছ থেকে ধান/চাল কিনছে। কিন্তু এ দেশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দালাল ও ফড়িয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের দেশে এ ধরনের পেশা প্রয়োজন।

5 কৃষি খামার কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 2 months ago | Updated: 2 months ago
Updated: 2 months ago

একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তা-ই কৃষি খামার।

কৃষি খামারে একটি মাত্র ফসলের পরিবর্তে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে বলা হয় শস্য বহুমুখীকরণ। এ ক্ষেত্রে একই জমিতে বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...