গনি মিয়া একজন কৃষক। বন্যা, লবণাক্ততা ও খরার কারণে তার জমিতে ফলন কমে যাচ্ছে। তাই তিনি চিন্তাগ্রস্ত। এ সমস্যা সমাধানে তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিলেন। কৃষি কর্মকর্তা তাকে একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিলেন। ফলে গনি মিয়ার জমির ফলন বেড়ে গেল। এখন গনি মিয়া বেশ খুশি।
উদ্দীপকে গনি মিয়ার জমিতে উফশী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিচে উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-
কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উফশী প্রযুক্তি এক অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ একটি জনবহুল কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। এ দেশে প্রায় ২৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় নিচে অবস্থান করছে। এই বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা মেটানোর জন্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা জরুরি। আবার খাদ্যের পাশাপাশি এই বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের কথাও চিন্তা করতে হয়। এসব কিছু বিবেচনা করে কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়। এর ফলে উন্নত জাতের বীজ, সেচ, সার ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যচাহিদা মেটানো হয়। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে উফশী প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বড় অবদান রাখছে। পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকার জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন জাতের শস্যবীজ উদ্ভাবন করে উৎপাদন বৃদ্ধি জরুরি। এর ফলে বিরূপ পরিবেশে যেমন উৎপাদন বাড়বে তেমনি বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যারও সমাধান হবে। ক্রমগত কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে জমিতে ব্যবহারের ফলে কৃষকদের কৃষি উৎপাদনের দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। এতে যেমন পরনির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে তেমনি আয় ও জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পাবে। এর সাথে খাদ্য নিরাপত্তার পূর্ণ সমাধানও
জড়িত।
উদ্দীপকের গনি মিয়া বন্যা, লবণাক্ততা ও খরার কারণে জমিতে ফসল কম ফলাতে পারছেন। তাই কৃষি কর্মকর্তা তাকে উফশী প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এর ফলে তার জমির ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়। এভাবে সারা দেশের উৎপাদন যখন বাড়বে তখন উফশী প্রযুক্তি ব্যবহার সার্থক হবে। তাই আমি মনে করি, বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে উফশী প্রযুক্তি ব্যবহার যুক্তিযুক্ত।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?