Academy

ঘটনা-১  ঃ সফল ব্যবসায়ী হিসেবে চৌধুরী পরিবার ও হালদার পরিবার সিলেটের কুলাউড়া এলাকার অনেকের কাছেই পরিচিত। অথচ চৌধুরীদের আদিনিবাস কিশোরগঞ্জে এবং হালদার পরিবারের মূলবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

ঘটনা-২ ঃ  সৈয়দপুর, সোহাগীসহ পাশাপাশি তিন-চারটি গ্রামের অনেক লোক পরিবারসহ প্রায় ১৫ বছর যাবৎ মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করছেন। তাদের ছেলেমেয়েদের অনেকেই এখনও পূর্ব পুরুষদের জন্মস্থান দেখেনি।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির একটি কারণ ব্যাখ্যা করো। (অনুধাবন)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি।

মাত্র ৫০ বছর আগেও এ ভূখণ্ডে কলেরা, বসন্ত, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি সংক্রামক রোগ মহামারীরূপে দেখা দিত এবং হাজার হাজার লোক মারা যেত। কিন্তু প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ায় এ ধরনের রোগে আর মানুষ সহজে আক্রান্ত হচ্ছে না। আক্রান্ত হলেও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার বদৌলতে হৃদরোগ বা ক্যানসারের মতো অসংক্রামক অন্যান্য রোগে মৃত্যুহার কমেছে। চিকিৎসা সেবার উন্নতির ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুও অনেক কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।

8 months ago

বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিচিতি

জনসংখ্যা একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি। একটি দেশের জনসংখ্যা তার আয়তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়। তবে এই জনসংখ্যাকে হতে হবে শিক্ষিত ও দক্ষ। জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরিত করা গেলে যেমন উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তেমনি অদক্ষ জনসংখ্যা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিভিন্ন দিক সম্বন্ধে জানতে পারব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

১. বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের জনসংখ্যার তুলনা করতে পারব;
২. জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
৩. বাংলাদেশের জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
৪. বাংলাদেশে মা ও শিশু মৃত্যুহারের কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
৫. বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদের আলোকে জনসংখ্যা চাপের ধারণাটি ব্যাখ্যা করতে পারব;
৬. জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
৭. বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করতে পারব।

Content added By

Related Question

View More

বসতি স্থানান্তরের কারণে কোনো দেশে বহির্গমনের থেকে বহিরাগমন মাত্রা বেশি হলে সে দেশের জনসংখ্যা বেড়ে যায়।

বসতি স্থানান্তর জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। দেশান্তরের কারণে বহিরাগমন এবং বহির্গমন ঘটে থাকে। বহিরাগমন অর্থাৎ দেশের বাইরে থেকে দেশে লোক আসলে জনসংখ্যা বেড়ে যায়।

১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে জন্মহার ও মৃত্যুহারের ব্যবধান।

১৯৬১ সালের তুলনায় ২০০৭ সালের জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে ২৫ লক্ষ শিশু আর মৃত্যুবরণ করছে সব বয়সের মাত্র ৬ লক্ষ লোক। ফলে বছরে মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ১৯ লক্ষ। এভাবে জনসংখ্যা বাড়লে ৪০ বছরে জনসংখ্যা তিনগুণ হওয়াই স্বাভাবিক।

এছাড়া মৃত্যুহার হ্রাসের কারণেও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি, খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে ধারণা লাভ প্রভৃতি কারণেও শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে যাচ্ছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

১৯৯১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।

১৯৭৪ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭.৬৪ কোটি। ২০০১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১২.৯৩ কোটি। অর্থাৎ ২৭বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.২৮ কোটি। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১১.১৫ কোটি। ২০২২ সালে এসে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। অর্থাৎ ৩১ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে পাঁচ কোটি তিরাশি লাখের মতো। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কম।

আবার, ১৯৯১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২.১৭% যা ২০০১ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫৯। ২০১১ সালে তা আরও কমে হয় ১.৩৭%। বর্তমানে জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১.২২%। দেখা যাচ্ছে, ১৯৯১ সালের পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমশ হ্রাস পাওয়ার পেছনে নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, চিকিৎসা সেবার উন্নতি, জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে সচেতনতা প্রভৃতি কারণ ভূমিকা রেখেছে। এ বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটির যথার্থতা আছে।

5 স্থূল জন্মহার কাকে বলে? (জ্ঞানমূলক)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে কোনো বছরে প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে মোট জীবন্ত শিশু জন্মের সংখ্যা এবং সেই বছরের মধ্যবর্তী সময়ের জনসংখ্যার অনুপাতকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate) বলে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা-১ অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরকে নির্দেশ করে।

একই রাষ্ট্রের মধ্যে একস্থান থেকে অন্যস্থানে মানুষের গমনাগমনকে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর বলে। বাংলাদেশে চার ধরনের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর দেখা যায়। যথা- গ্রাম থেকে শহর, শহর থেকে গ্রাম, শহর থেকে শহর এবং গ্রাম থেকে গ্রাম। অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ফলে সমাজকাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন ঘটে। কেননা সমাজকাঠামোর ভিত্তি হলো সমাজে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি, গোষ্ঠী বা পেশার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক। এ কারণে যখন কেউ স্থায়ীভাবে কোনো এলাকা ত্যাগ করে, তখন তার অনুপস্থিতিতে ঐ এলাকার সামাজিক সম্পর্ক কিংবা ক্ষমতা কাঠামোয় পরিবর্তন আসে।

উদ্দীপকে ঘটনা-১-এর চৌধুরী এবং হালদার পরিবার কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে স্থায়ীভাবে সিলেটের কুলাউড়ায় গিয়ে বসবাস করছেন। অর্থাৎ তারা দেশের ভেতরেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে নতুন বসতি স্থাপন করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা দিয়ে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরকে নির্দেশ করা হয়েছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...