Academy

বারেক সাহেব পরিবার পরিজন নিয়ে শহরে বসবাস করেন। তিনি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। সংসারের খরচ, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, মাতা-পিতার চিকিৎসা ব্যয় সবকিছুই তিনি বহন করেন। তিনি তার পরিবারকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই পরিবারকে সুখী করতে তার প্রচেষ্টার কোনো অন্ত নেই। 

বারেক সাহেবের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন পরিবারের কোন কার্যাবলিকে তুলে ধরে? ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)

Created: 10 months ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago
Ans :

উদ্দীপকে পরিবারের প্রতি বারেক সাহেবের দায়িত্ব পালন পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলিকে তুলে ধরে।

পরিবারের বিভিন্ন কার্যাবলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যাবলি হলো অর্থনৈতিক কার্যাবলি। পরিবারের প্রধান প্রধান অর্থনৈতিক কার্যাবলি হলো- সন্তানদের লালন-পালন ও শিক্ষাদানের জন্য অর্থের সংস্থান করা, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, খাদ্য ও বস্ত্রের চাহিদা পূরণের জন্য অর্থ ব্যয় করা, চিকিৎসার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা, বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান পালন কিংবা দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য অর্থ সঞ্চয় করা ইত্যাদি। এককথায় আমরা বলতে পারি, পরিবারের সকল সদস্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হলো পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ।

আদিম যুগের কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিবারকে বলা হয় উৎপাদনের একক বা Unit of Production। কারণ, উৎপাদন, আয়, ভোগ ও বণ্টন প্রত্যেকটি পর্যায়ই পরিবারকে কেন্দ্র করে এবং পরিবারের সদস্যদের চাহিদার উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। আর পরিবার তার সদস্যদের চাহিদাগুলো কী অনুপাতে পূরণ করবে তা নির্ভর করে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের উপর।

সুতরাং, আমরা বলতে পারি উদ্দীপকে বারেক সাহেব যেহেতু পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন পূরণে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করেন তাই তার কার্যাবলি পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলিকে নির্দেশ করে।

10 months ago

সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

রাজনৈতিক অস্থিরতা বেকারত্ব সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হয় না। এর ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে পুষ্টিহীনতা সমস্যার চিত্র পাওয়া যায়।

মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকেই সৃষ্টি হয় পুষ্টিহীনতা। খাদ্য তালিকায় ছয়টি পুষ্টি উপাদানের যেকোনো একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে স্বাভাবিক পুষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়। বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার চিত্র উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ইউনিয়নের অনুরূপ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ১১.৫ ভাগ শিশু স্বাভাবিক এবং ৮৮.৫ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং ৯০ ভাগ শিশু রক্তশূন্যতার শিকার হয়। অপুষ্টির প্রভাবে শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি, অন্ধত্ব, রাতকানা, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যার লক্ষণ।

আমি মনে করি, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি মৌলিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যা। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলে। খাদ্যের আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন এর অভাব হলে অপুষ্টি জনিত সমস্যা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।

উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিভাবকদের সচেতনতা অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাবা-মা শিশুর জন্য পুষ্টিকর বা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করলে তারা কম ওজন, অন্ধত্ব প্রভৃতি সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। গর্ভাবস্থায় মাকে পুষ্টিকর খাদ্য তথা আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ও সন্তানের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতন হবে।

সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাবা মার সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা হ্রাসে চেয়ারম্যানের উদ্যোগ কার্যকর
হবে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।

সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সুষ্ঠু
সামাজিকীকরণের অভাব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পরিবার মানুষকে সুষ্ঠু বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন, উদার আদর্শ, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখে। পরিবার দায়িত্ব-কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, আইনের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি গুণ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...