ইতিহাস ক্লাসে জনাব 'ক' স্যার মানুষের চিন্তায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে এমন কয়েকজন ইউরোপীয় দার্শনিকের কথা বলেছিলেন, যাদের চিন্তাধারা ও লেখনী সারা ইউরোপকে বদলে দিয়েছিল। তারা মানুষের সাম্য, স্বাধীনতা, ঐশ্বরিক ক্ষমতার অসারতা, গির্জার দুর্নীতি এবং আইনের শাসনের কথা বলতেন। তাদের চিন্তাধারায় মানুষ আজও অনুপ্রাণিত।
বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সে কয় ধরনের প্রত্যক্ষ কর ছিল?
(জ্ঞানমূলক)
বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সে কয় ধরনের প্রত্যক্ষ কর ছিল?
(জ্ঞানমূলক)
Earn by adding a description for the above question! 🏆✨
Provide correct answer/description to Question, help learners, and get rewarded for your contributions! 💡💰'
ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হলে সেখানে কল কারখানা গড়ে ওঠে। পুঁজিবাদের উদ্ভব ঘটে। লৌহ ও কয়লার ব্যবহারে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কৃষিপ্রধান দেশ হতে শিল্পপ্রধান দেশে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। ব্যাপক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পায়। আর এ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব সমগ্র বিশ্বে বিস্তার লাভকরে। তাই ইংল্যান্ডকে পৃথিবীর কর্মশালা বলা হয়।
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের শিল্প বিপ্লবপ্রসূত ইংল্যান্ডের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই শিল্প বিপ্লব ঘটেছে কৃষি বিপ্লবের হাত ধরে। শিল্প বিপ্লবের সূতিকাগার ইংল্যান্ডও এর ব্যতিক্রম নয়। অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে ইংল্যান্ডে ঘটে যাওয়া গৌরবময় বিপ্লবের পর থেকেই কৃষি ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটতে থাকে। পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, অষ্টাদশ শতকের শুরুতে ইংল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রতি পাঁচ জনের চার জনই গ্রামে বাস করত এবং শতকরা ৮০ ভাগই নিয়োজিত ছিল কৃষিকাজে। শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান যেমন-
কৃষিকাজে। শিল্প বিপ্লবের কৃষি উৎপাদন তথা কাঁচামাল, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুঁজির সংস্থান, বুদ্ধিভিত্তিক সমাজ খনিজ সম্পদের যোগান, যন্ত্রপাতির আবিষ্কার প্রভৃতি অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে বিদ্যমান ছিল। এছাড়া ইংল্যান্ডের সমুদ্র তীরবর্তী কয়লা খনিগুলো একাধিক শিল্পের জ্বালানির যোগান দেয়, অন্যদিকে তা সস্তায় জাহাজে করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে সরবরাহে সহায়তা করে। ইংল্যান্ডে আবিষ্কৃত স্টিম ইঞ্জিন, সুতাকাটার মাকু অনবরত উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে। ফলে শিল্পে বিপ্লব ঘটে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে পাম্পের সাহায্যে সেচ এবং যন্ত্রের সাহায্য ফসল মাড়াই সম্ভব হচ্ছে। পণ্য পরিবহণের সুবিধার কারণে অল্প সময়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। কাজেই মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। উদ্দীপকের সাথে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের সাদৃশ্য রয়েছে। তাই বলা যায়, শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডের আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব সারাবিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে- উক্তিটি যথার্থ।
উনবিংশ শতাব্দীতে শিল্প বিপ্লবজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের বাইরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা নবউদ্যমে শুরু হয়। দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকট আকার ধারণ করে। পুঁজিবাদের প্রসারের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে যৌথ বণিক সংঘে প্রতিষ্ঠিত হয়। যাদের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে বণিক সংঘগুলোর মালিক ও অংশীদারগণ পুঁজি সঞ্চয় করে স্ফীত হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাম উল্লেখ করা যায়। শুধু শিল্প বিপ্লবজনিত পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ইউরোপীয় দেশগুলো উপনিবেশ বিস্তারের নীতি গ্রহণ করেনি। বরং এর পিছনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্দেশ্যও বিদ্যমান ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যায় বলা যায়, সাম্রাজ্যের বিশালতার ওপরই দেশের শক্তি, মর্যাদা ও গৌরবের মানদণ্ড নির্ভর করে। এ মনোবৃত্তিই ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উপনিবেশ বিস্তারের প্রতিযোগিতা তীব্রতর করে তোলে। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের মনোভাব তাদেরকে উপনিবেশ স্থাপনে আগ্রহী করে তোলে। প্রত্যেক দেশের উদ্বৃত্ত জনসংখ্যার - জীবিকার সন্ধানে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো সাম্রাজ্য বিস্তারের নীতি গ্রহণ করে। ১৮৭০ পরবর্তী শিল্প সমৃদ্ধ ইউরোপীয় জাতিগুলো এশিয়া ও । আফ্রিকার দেশগুলোকে গিলে ফেলে। শকুন যেমন মৃতদেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মৃতদেহের দখল নিয়ে পরস্পর কাড়াকাড়িতে লিপ্ত হয়, তেমনি উপনিবেশ দখলও রক্ষার জন্য ইউরোপীয় জাতিগুলো এশিয়া ও আফ্রিকার কৃষিপ্রধান দেশগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে। এজন্য ১৮৭০-১৮১৪ রসময়কালকে ঐতিহাসিকগণ নাম দিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদের যুগ। শিল্প বিপ্লবপ্রসূত পুঁজিবাদ এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা মহাদেশে উপনিবেশ বিস্তারে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করে। তাই বলা যায়, ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ঘটনা সারাবিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলে
অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে ইংল্যান্ডে নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার ও ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থায় যে ব্যাপক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে সামগ্রিকভাবে শিল্প বিপ্লব বলে। মূলত কৃষি বিপ্লব ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবে গতি আনতে সহায়তা করে। ধীরে ধীরে শিল্প বিপ্লব ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। এর সাথে সাথে পণ্যের বাজারের জন্য উপনিবেশ দখলের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়।