ব্যাংক ছাড়াও বাংলাদেশে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এক ধরনের প্রতিষ্ঠান জনগণের নিকট হতে আমানত গ্রহণ করে কিন্তু চেক বই প্রদান করে না। এরা ঋণ দেয়, লিজিং ব্যবসা করে। ব্যাংক ও এ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকারি মালিকানাধীন একটা বড় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে। এরূপ নিয়ন্ত্রণে এই প্রতিষ্ঠানকে সরকার অনেক ক্ষমতা দিয়েছে।
আর্থিক বাজার বলতে সে বাজারকে বোঝায় যেখানে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।
আর্থিক বাজারকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- মুদ্রাবাজার এবং মূলধন বাজার। মুদ্রাবাজারে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সম্পদ এবং মূলধন বাজারে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় করা হয়ে থাকে।
প্রাথমিক শেয়ারবাজারে জনাব জনসন তার অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।
যে বাজারে একটি কোম্পানির নতুন ইস্যুকৃত শেয়ার বিক্রয় হয় তাকে প্রাথমিক শেয়ারবাজার বলে। প্রাথমিক শেয়ার বাজারে একটি কোম্পানি ব্যক্তিগত উপস্থাপন কিংবা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে থাকে।
উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, জনাব জনসন সোনালী ব্যাংক থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব গ্রহণ করে ৪০০টি শেয়ার ক্রয় করেন। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে মূলত প্রাথমিক শেয়ারবাজারেই শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয়। এ বাজারে কোনো নিবন্ধিত কোম্পানি সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিবরণপত্র ছাপিয়ে কোম্পানিটি সম্পর্কে একটি ধারণা দিয়ে জনগণের নিকট শেয়ার ক্রয়ের আবেদন চাওয়া হয়। অনেক আবেদন পড়লে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বণ্টন করা হয়। সুতরাং বলা যায়, প্রাথমিক শেয়ারবাজারে জনাব জনসন তার অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কমিশনের নাম হলো সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
যে বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে তাকে মাধ্যমিক শেয়ারবাজার বলে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ হলো দুটি মাধ্যমিক শেয়ারবাজার। এ ধরনের স্টক এক্সচেঞ্জসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতির একটি আদেশের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC) গঠিত হয়, যা বাংলাদেশের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের মাধ্যমে পুনঃগঠিত হয়। উদ্দীপকের জ্যাকসন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে স্টক দালালের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয় করেন। অর্থাৎ তিনি মাধ্যমিক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন। এ ধরনের বাজারকে এবং স্টক এক্সচেঞ্জকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠিত হয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC)।
স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে জ্যাকসন মাধ্যমিক বাজারে লেনদেন করেন। এ বাজারের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও যেকোনো ধরনের নিয়ম বহির্ভূত লেনদেন ও জালিয়াতি বন্ধে SEC ভূমিকা রাখে। শেয়ারবাজারে ব্রোকারের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা হয় এবং কোনো ব্রোকার অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকলে SEC এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এছাড়াও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিধি বহির্ভূত বা অন্যায়ভাবে কোনো একটি কোম্পানি অন্য কোম্পানির সকল শেয়ার ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করে।
সুতরাং বলা যায়, শেয়ারবাজার এবং স্টক এক্সচেঞ্জ সমূহকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধ করার ক্ষমতাকে তারল্য বলে।
যথাযথ তারল্য বজায় রাখা একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতার অন্যতম শর্ত। কারণ তারল্য বেশি হলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হ্রাস পায়। আবার তারল্য কম থাকলে মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।