মনিরা সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। সে তার দাদার কাছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তার দাদা বলেন বাংলার মানুষের জমিতে ছিল ফসল, গোলাভরা ধান, মুখে ছিল হাসি, নদীনালা ভরা ছিল মাছ। এটি বাংলার সাংস্কৃতিক চিত্র। অবশেষে তার দাদা তাকে একটি গান শোনান যে "কচি সর্ষে শাক, নতুন চালের ভাত, হড়হড়ে দই প্রচুর।"
মানুষ পৃথিবীর যে অঞ্চলেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন তার পক্ষে সেখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ুকে উপেক্ষা করতে পারে না। কারণ এসবই তার কাছে নিজের পরিবারের মতো। এ প্রকৃতিই তাকে শিক্ষা দেয় কীভাবে জীবনে সংগ্রাম করতে হবে, কীভাবে জীবন চালাতে হবে। এ প্রকৃতি ও পরিবেশ, জলবায়ু, বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে এভাবে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য দান করে থাকে। এজন্য মানুষ এগুলোকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না।
বিভিন্ন নৃগোষ্ঠির সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে বলে বাংলার জনমানুষের আকারে, অবয়বে, চেহারায় যেমন বৈচিত্র্য তেমনি নানা ভাষাজাতির সহাবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতেও বৈচিত্র্য দেখা যায়। তবে গ্রাম ও কৃষিপ্রধান এই দেশে গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপাদানই বেশি চোখে পড়ে। প্রচুর নদী ও জলাভূমি এ দেশকে জালের মতো ঘিরে আছে বলে এদেশের মানুষের সংস্কৃতি নদীকেন্দ্রিক ও ঋতু বৈচিত্র্যের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ। এ দেশের মানুষের সংস্কৃতি বুঝতে তার এই বৈচিত্র্যময় পটভূমি লক্ষ রাখা দরকার।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
১. ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায় বিচারে বাংলাদেশের সংস্কৃতি কেমন তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
২. এদেশের নানা সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে বৈচিত্র্য রয়েছে তা বর্ণনা করতে পারব;
৩. বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরের সংস্কৃতি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
৪. বাংলাদেশের লোক সংস্কৃতি ও এর উপাদান বর্ণনা করতে পারব;
৫. বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক জীবন সম্বন্ধে বর্ণনা করতে পারব।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?