তূর্য দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। একদিন সে বাসায় একটি ভারী টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে টেবিলকে টানতে শুরু করল। কিন্তু চেয়ারসহ সে নিজেই টেবিলের দিকে সরে গেল।পরদিন সে একটি মার্বেলকে রুমের মসৃণ মেঝেতে নির্দিষ্ট বলে গড়িয়ে দিল। এরপর বাসার বাইরে পিচের রাস্তায় একই মার্বেলকে একই বলে গড়িয়ে দিল। তখন এটি তার চেয়ে কম দূরত্ব অতিক্রমকরল।
মার্বেলটির দুইটি স্থানে অতিক্রান্ত দূরত্ব ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো 'ঘর্ষণ বল' বা 'ঘর্ষণ'-এর তারতম্য।
আমরা জানি, দুটি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একে অপরের ওপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে বা চলতে থাকে তাহলে বস্তুদ্বয়ের স্পর্শতলে এ গতির বিরুদ্ধে যে বাধার উৎপত্তি হয়, তাকে ঘর্ষণ বলে। যখন কোনো বস্তু অন্য বস্তুর উপর দিয়ে চলতে চেষ্টা করে, তখন ঘর্ষণ বস্তুটিকে থামিয়ে দিতে চেষ্টা করে। অর্থাৎ ঘর্ষণ সর্বদা গতিকে বাধা দেয়।
তুর্য রুমের মসৃণ মেঝেতে এবং পিচের রাস্তায় একই মার্বেলকে একই বলে গড়িয়ে দেয়। মার্বেলটি ছেড়ে দেয়ার পর সে মার্বেলের ওপর আর কোনো বল প্রয়োগ করে না। তবে এর ওপর ঘর্ষণ বল এর গতির বিপরীতে ক্রিয়া করে। ফলে মার্বেলটি এক সময় থেমে যায়। যদি কোনোরূপ ঘর্ষণবল ক্রিয়া না করতো তাহলে নিউটনের গতির প্রথম সূত্রানুসারে মার্বেলটি চিরকাল সুষম গতিতে চলতে থাকতো। কিন্তু রুমের মেঝেতে এবং পিচের রাস্তায় ঘর্ষণ বল ক্রিয়াশীল ছিল। তবে এ দুই স্থানে ঘর্ষণ বলের মান ভিন্ন ছিল। রুমের মেঝেটি মসৃণ হওয়ার কারণে এখানে অনেক কম মানের ঘর্ষণ বল ক্রিয়াশীল ছিল। পক্ষান্তরে পিচের রাস্তায় ঘর্ষণ বলের মান ছিল বৃহৎমানের। তাই রুমের মেঝেতে মার্বেলটি বেশ কিছু পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করলেও পিচের রাস্তায় কম দূরত্ব অতিক্রম করলো।
উভয় ক্ষেত্রে গতির বিপরীতে ঘর্ষণ বল প্রযুক্ত হওয়ায় ঋণাত্বক ত্বরণ বা মন্দনের সৃষ্টি হয়। F=ma সূত্রানুসারে এ মন্দনের মান নির্ভর করে ঘর্ষণ বলের উপর। পিচের রাস্তায় ঘর্ষণ বলের মান বেশি বলে সেখানে মন্দনের মানও বেশি, ফলে মসৃণ মেঝের তুলনায় পিচের রাস্তায় মার্বেলের গতিবেগ অধিকহারে হ্রাস পেয়ে অল্প দূরত্বের মধ্যে মার্বেলটি থেমে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিদিনই আমাদের কোনো কিছুকে টানতে হয়, ঠেলতে হয় কিংবা ধাক্কা দিতে হয়। কোনো বস্তুর গতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাইলেই আমরা সেটাকে টানি, ঠেলি বা ধাক্কা দিই অর্থাৎ বল প্রয়োগ করি। বল প্রয়োগ করে স্থির কর্তৃকে গতিশীল করা যায়, আবার গতিশীল কস্তুর গতি পরিবর্তন করা যায়, এমনকি গতি থামিয়েও দেওয়া যায়। এ অধ্যারে আমরা জড়তা, বল, স্থিতি এবং গতি আলোচনা করব। পতির উপর বলের প্রভাব বোঝার জন্য আমরা নিউটনের প্রথম সূত্র থেকে বলের প্রকৃতি জানব। নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র থেকে বলের পরিমাপ করব এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্র থেকে বলের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আলোচনা করব।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা:
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?