Academy

মি. 'ক' ভারতের মাদ্রাজে বাস করেন। তিনি সম্প্রতি ঢাকায় বেড়াতে আসেন। বাংলাদেশি বন্ধু.মি. 'খ' তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং নিজ বাসায় থাকতে দেন। একদিন বিকেলে চা পান করতে করতে তারা সরকার ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। মি. 'ক' বলেন ১৯৪৭সালে ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। কিন্তু পাকিস্তান বেশি দিন টিকতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে ভাষা বিভক্তির পথ তৈরি করে। তোমাদের একাত্মবোধ পাকিস্তানকে হার মানিয়েছে। তখন মি. 'খ' বলেন তোমার ধারণাই ঠিক, যে কারণে তোমরা আজও বিভক্ত হওনি। 

মি. 'খ'-এর দেশের মানুষের অনুভূতি সৃষ্টিতে জাতীয়তার কোন দিকটি বিশেষভাবে কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

মি. 'খ'-এর দেশের মানুষের অনুভূতি সৃষ্টিতে জাতীয়তার ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য বিশেষভাবে কাজ করেছে। কেননা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান হয়। আর এ ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যমে একটি জাতির প্রত্যেকে প্রত্যেকের সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা পায়। মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন হলো ভাষা। যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সব লোক একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য তাদেরকে সমভাবে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। একই ইংরেজি ভাষায় কথা বলা সত্ত্বেও ইংরেজ, আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ডের জনগণ এক জাতিতে পরিণত হয়নি। সউদি আরব, সুদান, মরক্কো, মিসর, কুয়েত ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের ভাষা আরবি হলেও তারা এক জাতিতে পরিণত হয়নি। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধ আরবি ভাষাভাষি দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। তবে বিভিন্ন ভাষাভাষি জনগণের মধ্যে যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে সে জাতীয়তাবোধ অপেক্ষা একই ভাষাভাষী জনগণের জাতীয়তাবোধ অনেক বেশি মজবুত ও ফলপ্রসূ। যার কারণে মি. 'খ' এর দেশের মানুষের অনুভূতি সৃষ্টিতে জাতীয়তা এদিকটি বিশেষভাবে কাজ করেছে

9 months ago

দেশপ্রেম ও জাতীয়তা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।

জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।

6 জাতি-রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Created: 10 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...