সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি সংগঠন কাজ করে। এই সংস্থার সদস্যবৃন্দ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নয়। তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ ও কর্মঠ। তাঁরা নির্দিষ্ট মেয়াদে স্থায়িভাবে দায়িত্ব পালন করে।
রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে ।
পারে। কেননা আমলাদের দ্বারা সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে। আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি-আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অপেশাদারী আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। তাছাড়া আমলারা তাদের কাজের জন্য সাধারণত জবাবদিহি করে না। তাই আমলারা সাধারণত তাদের খুশিমতো কাজ করতে পারেন। ফলে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মতো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। সুশাসনের প্রথম ও প্রধান শর্ত হচ্ছে জবাবদিহিতা। আমলাতন্ত্রে যদি জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকে তবে যেকোনো কর্মসূচি সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব। যেহেতু জবাবদিহিতা দুর্নীতিরোধ। করে, তাই আমলারা যদি তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন তবে রাষ্ট্র ও সমাজ অনেকাংশে দুর্নীতিমুক্ত হবে। আর দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থাই সুশাসনের জন্য কাম্য। সুতরাং বলা যায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা এর জবাবদিহিতার ও দায়িত্বপরায়ণতার ওপর নির্ভরশীল।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?