Academy

মি. পলাশ বৃহৎশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা করছেন। এজন্য তার বন্ধু বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক মি. ফিরোজের পরামর্শ চাইলে তিনি প্রথমেই নিয়ামকের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। যেকোনো দেশে শিল্প গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন কতকগুলো মৌলিক নিয়ামক। এসব নিয়ামক পৃথিবীর সর্বত্র সমান নয় বিধায় অঞ্চলভেদে শিল্পের প্রাধান্য এবং ভিন্নতা দেখা যায়।

শিল্প গড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক নিয়ামক কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের মধ্যে কোনটির গুরুত্ব অধিক- তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 3 months ago | Updated: 3 months ago
Updated: 3 months ago
Ans :

শিল্প গড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক নিয়ামক কাঁচামাল ও শক্তিসম্পদের মধ্যে উভয়টিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
নিচে এর পক্ষে আমার যুক্তি উপস্থাপন করা হলো-
প্রকৃতি হতে আহরিত কাঁচামালের রূপান্তরই শিল্পোৎপাদনের মূলকথা। তাই শিল্পকারখানার জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন হয় কাঁচামালের। ফলে যে স্থানে কাঁচামাল পাওয়া যায় সে স্থানে বা এর নিকটে শিল্প গড়ে ওঠে। যেমন, বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার চন্দ্রঘোনায় বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় বলে সেখানে কাগজ শিল্প গড়ে ওঠে।
আবার শক্তিসম্পদের ওপরও শিল্প গড়ে ওঠা বা অবস্থান অনেকাংশে নির্ভরশীল। কারণ, কারখানা চালাতে শক্তির প্রয়োজন হয়।
বর্তমানকালে বড় বড় কারখানা চালাবার জন্য কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পানিবিদ্যুৎ শক্তি, পারমাণবিক শক্তি প্রভৃতি ব্যবহৃত হচ্ছে। সস্তায় শক্তি সরবরাহ একান্ত প্রয়োজন। যেসব অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে শক্তিসম্পদ সরবরাহের ব্যবস্থা আছে, সেসব অঞ্চলেই সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শিল্প কেন্দ্রীভূত হয়।
শিল্প গড়ে ওঠার জন্য যেমন প্রয়োজন কাঁচামালের তেমনি শিল্প চালনার জন্য প্রয়োজন শক্তিসম্পদের। এর একটি ব্যতীত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

3 months ago

শিল্প (Industry)

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

বাংলাদেশের একটি সার কারখানা হলো যমুনা সার কারখানা

বিনিয়োগ ছাড়া শিল্পায়ন সম্ভব নয়।'
শিল্প স্থাপনের অন্যতম নিয়ামক হলো মূলধন। মূলধন বিনিয়োগ না হলে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ প্রভৃতি যোগান দেওয়া যাবে না। এছাড়া মূলধন শিল্প স্থাপনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের হাতিয়ার। পর্যাপ্ত অর্থায়ন ছাড়া শিল্পকার্য চরমভাবে ব্যাহত হবে।

উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের জন্য বিখ্যাত।

আমেরিকার ইরি হ্রদ অঞ্চলে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। এ ধরনের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার জন্য প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি নিয়ামকের প্রভাব রয়েছে। নিচে এ শিল্প গঠনের নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র লোহা ও ইস্পাত শিল্পের উন্নতির প্রধান কারণ হলো এ শিল্পের কাঁচামাল আকরিক লৌহ খনিজের আধিক্য। দেশটি লোহা ও ইস্পাত শিল্পে বেশ উন্নত। এ ধরনের শিল্প গড়ে ওঠার জন্য উক্ত দেশে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক নিয়ামকের প্রাধান্য রয়েছে।
বর্তমানে লোহাপিন্ড উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামাল প্রাপ্তি, পানি ও বিদ্যুৎশক্তির সহজপ্রাপ্যতা, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, মূলধনের পর্যাপ্ততা, ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়।
এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান, সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা, কয়লার পর্যাপ্ততা, উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে লোহা ও ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।

উদ্দীপকে 'ক' হলো যুক্তরাষ্ট্র এবং 'খ' হলো জাপান। উভয় দেশই শিল্পে সমৃদ্ধ। নিচে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের শিল্পের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হলো-

যুক্তরাষ্ট্র একটি শিল্পসমৃদ্ধ উন্নত অঞ্চল। বিশেষ করে লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, কার্পাস ও বয়ন শিল্প এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প। এর মধ্যে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র চতুর্থ এবং কার্পাস ও বয়ন শিল্পে তৃতীয়। কয়লায় পর্যাপ্ত সম্ভায় ও হ্রদ অঞ্চলে পানি ও উত্তম যোগাযোগ ব্যবস্থায় কারণে এদেশে লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বেশ উন্নত। যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম রাবার উৎপাদনেও শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। সমরাস্ত্র শিল্পেও এদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া মটরগাড়ি, উড়োজাহাজ, জাহাজ শিল্প, কাগজ শিল্পসহ ছোট বড় অসংখ্য শিল্প রয়েছে। জাপানও একটি শিল্পোন্নত দেশ। এদেশ লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। শুধু তাই নয় জাপান রাবার শিল্পে এবং বস্ত্র ও বয়ন শিল্পেও বেশ উন্নত। বিশ্ব বাজারে জাপানের কার্পাসজাত দ্রব্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। যেকোনো ধরনের ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, মেশিন, টুলস, কেমিক্যাল, টেক্সটাইল প্রভৃতি শিল্প জাপানের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে অবস্থিত। জাপানের অর্থনীতি অনেকটা শিল্প নির্ভর। মূলত লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বিখ্যাত হলেও এদেশে অসংখ্য ছোট বড় শিল্প গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বড় বড় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, মোটর গাড়ি শিল্প, রেলইঞ্জিন শিল্প, যন্ত্রপাতি, ট্রাক্টর, বাইসাইকেল, বৈদ্যুতিক পাখা, রেডিও, ট্রানজিস্টর, টেলিভিশন সেট, ক্যামেরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উভয় দেশই শিল্পসমৃদ্ধ হলেও' উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রই বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ। কারণ জাপানের শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি অনেকটা আমদানিনির্ভর।

বিশ্বে প্রধান কার্পাস ও বস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ হলো চীন।

বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন উৎপাদনের পরিমাণ তার চেয়ে কম। সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, শক্তিসম্পদ, মূলধন, দক্ষ শ্রমিক, যন্ত্রপাতি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশ সারের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। তাই বাংলাদেশ সারশিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...