রায়হান একজন সমাজসেবক। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মতো ইংল্যান্ডও এক সময় বিভিন্ন দারিদ্র্য এবং আর্থ-সামাজিক সমস্যায় নিপতিত ছিল। সে সময় তৎকালীন সরকার একটি যুগান্তকারী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মৌলিক এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রায়হান তাই আমাদের দেশেরও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর সাহায্যার্থে যথাযথ আইনের বাস্তবায়নের জন্যে সরকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন
সমাজকর্ম পেশার প্রতি সমাজকর্মীর নৈতিক দায়িত্বসমূহ কী কী?
(অনুধাবন)
সমাজকর্ম পেশার প্রতি সমাজকর্মীর নৈতিক দায়িত্বসমূহের মাঝে সমাজকর্মী কর্তৃক পেশার মূল্যবোধ, নৈতিকতা রক্ষা এবং জ্ঞান ও উদ্দেশ্যকে উন্নতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সাধারণ মানুষকে পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে সমাজকর্মী সহায়তা করে। সেই সাথে পেশার স্বাতন্ত্র্যতা রক্ষা এবং পেশাগত অনুশীলনের লক্ষ্যে জ্ঞানের পরিপূর্ণ প্রয়োগের দায়িত্ব গ্রহণও সমাজকর্মীর নৈতিক দায়িত্বের অন্তর্গত।
আত্মনির্ভরশীলতা বলতে যেকোনো বিষয়ে ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণকে বোঝায়। সমাজকর্মে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাহায্যার্থীকে এমনভাবে সাহায্য করা হয় যেন সে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে পারে। সক্ষমতা অর্জন করতে পারাই আত্মনির্ভরশীলতা। এ গুণ অর্জনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে।
উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন। সমাজকর্ম হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। এ পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে তারা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকের রফিকও তাই করেছেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কারখানায় কাজ করার সময় আতিক সাহেবের হাত কেটে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হয় যা তার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তার সমস্যা সমাধানে রফিক এগিয়ে আসেন। তিনি নিজের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে আতিক সাহেবকে সাহায্য করেন। তিনি আইনের সহায়তায় কারখানা থেকে তাকে ক্ষতিপূরণও পাইয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ রফিক সমাজকর্মীর মতো সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে আতিক সাহেবের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আতিকের সহায়তায় ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে যা পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইংল্যান্ডে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার স্যার উইলিয়াম বিভারিজকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। সার্বিক বিশ্লেষণে- এ কমিটি ১৯৪২ সালে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করে যা বিভারিজ রিপোর্ট নামে পরিচিত। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তায় সামাজিক বিমা, পারিবারিক ভাতা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বা শিল্প দুর্ঘটনা বিমা, সরকারি সাহায্য, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রভৃতি প্রণয়ন করা হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য, বার্ধক্য ও পড়া বিমা; শিশু জন্ম-মৃত্যুর জন্য বিশেষ ভাতা, পরিবারে দুইয়ের অধিক ১৮ বছরের কমবয়সী সন্তানের জন্য ভাতা, শিল্প দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ, দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে সমাজের দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্ররা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেতে থাকে। অনেকের কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় জনগণের চিকিৎসার চাহিদাও পূরণ হয় যা জনসাধারণের সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এভাবে বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আতিক সাহেব কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আহত হন। তিনি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে রফিক তাকে সহযোগিতা করেন। এ সময় রফিক ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কারখানা থেকে' আতিক সাহেবকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেন। আর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রেখেছিল যা দেখে বিশ্বের অন্য দেশগুলো অনুপ্রাণিত হয়। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি রচিত হয়। তাই বলা যায়, আতিকের সহায়তায় যে কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে সেটি পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে
সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধন। যেকোনো সমাজেই দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, নারীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য এবং মানসিক অসুস্থতার মতো সামাজিক সমস্যাসমূহ দূর করা। তাই বলা যায়, সামাজিক নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন।