Academy

সর্বশক্তি মরণের মুখের সম্মুখে

দাঁড়াইয়া সুকুমার-ক্ষীণ-তনুলতা

বলে, 'মৃত্যু, তুমি নাই।'- হেন গর্বকথা।

মৃত্যু হাসে বসি। মরণপীড়িত সেই

চিরজীবী প্রেম আচ্ছন্ন করেছে এই

অনন্ত সংসার, বিষণ্ণ নয়ন-'পরে

অশ্রুবাষ্প-সম, ব্যাকুল আশঙ্কাভরে

চিরকম্পমান। আশাহীন শ্রান্ত আশা

টানিয়া রেখেছে এক বিষাদকুয়াশা বিশ্বময়।

Created: 4 months ago | Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago

প্ৰাণ

মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,

মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই ।

এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে

জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই !

ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত,

বিরহ মিলন কত হাসি-অশ্রু-ময়-

মানবের সুখে দুঃখে গাঁথিয়া সংগীত

যদি গো রচিতে পারি অমর-আলয় !

তা যদি না পারি, তবে বাঁচি যত কাল

তোমাদেরি মাঝখানে লভি যেন ঠাঁই,

তোমরা তুলিবে বলে সকাল বিকাল

নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই ।

হাসি মুখে নিয়ো ফুল, তার পরে হায়

ফেলে দিয়ো ফুল, যদি সে ফুল শুকায় ॥

Content added By

Related Question

View More

কবি এ পৃথিবীতে অমর-আলয় রচনা করতে চান মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার জন্য।

'প্রাণ' কবিতায় জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎসংসারে দীর্ঘ জীবন লাভের সংকল্প ব্যক্ত হয়েছে। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, আবেগ-ভালোবাসা ছেড়ে কবি অন্য কিছুর লোভ না করে আনন্দের সংগীত নিয়ে মানুষের কাছে আদৃত হতে চান। আলোচ্য চরণটিতে কবি মূলত মানবতার স্বার্থে তাঁর আত্মনিবেদনের দিকটি প্রকাশ করেছেন।

উদ্দীপকে প্রত্যাশিত বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার ভাবের সাথে পৃথিবীর বিচিত্র প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ নিয়ে এক হয়ে মিশে আছে।

ফুলে-ফলে-ফসলে সুশোভিত আমাদের এই পৃথিবী। মানুষ এখানে গড়ে তুলেছে মায়াময় এক আশ্চর্য জগৎ। প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-ভালোবাসা, আদর-সোহাগ দিয়ে মানুষ বেঁধে রাখে একে অপরকে। এ বন্ধন ছেড়ে মানুষ সহজে চলে যেতে চায় না।

উদ্দীপকে কবি তার সমগ্র সত্তা দিয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন। এই ভালোবাসা এমনই পরিপূর্ণ যে পৃথিবীর অন্য কোথাও বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্যের কোনো বিকল্প আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে বাংলার সত্যিকারের এই পরিচয়টির সাথে 'প্রাণ' কবিতার ভাবের ঐক্য লক্ষ করা যায়। এই কবিতায় পৃথিবীর প্রতি কবির গভীর মমত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি পৃথিবীকে, পৃথিবীর মানুষকে ভালোবেসেছেন অকৃত্রিমভাবে। মৃত্যু যে অমোঘ বিধান তা জেনেও তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চান। কারণ মৃত্যুকে জয় করা বা মৃত্যুর পর আপন কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন।

"উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ডারমাত্র, পূর্ণরূপ নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ মরণশীল। একথা জানা সত্ত্বেও মানুষ এ জগৎসংসার ছেড়ে হারিয়ে যেতে চায় না। জগতের মোহে মানুষ নশ্বর পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করতে চায়।

উদ্দীপকটিতে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের গভীর বন্ধনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। জন্মভূমিকে উদ্দীপকের কবি তাঁর সমগ্র সত্তা দিয়ে ভালোবেসেছেন, অনুভব করেছেন। কবির অনুভবের এই বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কবিতার মূলভাব আরও, বিস্তৃতপূর্ণ। সেখানে কেবল পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি মুগ্ধতা নয়, তা মানুষের জন্য মনোমুগ্ধকর করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যত্নবান হওয়ার ইঙ্গিত আছে। 'প্রাণ' কবিতায় কবি জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎসংসারে দীর্ঘজীবন লাভের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে নব নব সংগীতের কুসুম ফোটাতে চেয়েছেন। তিনি মানবতার স্বার্থে আত্মনিবেদন করতে চেয়েছেন।

'প্রাণ' কবিতায় কবি সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, মিলন-বিরহ, আবেগ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ পৃথিবী রেখে মরতে চান না। আর উদ্দীপকে বাংলার রূপমুগ্ধ কবি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের রূপ দেখতে চান না। এই না চাওয়া এক রকম হলেও বিষয় বিন্যাস এক রকম য়। উদ্দীপকে মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের কোনো বিষয় নেই। কিন্তু 'প্রাণ' কবিতায় কবি সর্বমানবের সুখ-দুঃখের সংগীত গেঁথে মানব হৃদয়ে অমর-আলয় রচনা করতে চেয়েছেন। এসব কারণে উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ভাব মাত্র, পূর্ণরূপ নয়- মন্তব্য যথার্থ।

'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

কবি মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে আগ্রহী। তাই তিনি সৃষ্টির মাধ্যমে অমর আলয় রচনা করতে চান।

'প্রাণ' কবিতায় কবি জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে অমর আলয় রচনা করতে চেয়েছেন। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার সংগীত রচনা করতে চান। বস্তুত মানবের হাসি-কান্না, আবেগ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ এই পৃথিবীই কবির কাছে আকাঙ্ক্ষিত। তাই তিনি অমর আলয় সৃজনের কথা বলেছেন যেন মৃত্যুর পরেও তিনি মানবের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...