"গ্রাম্যপথে পদচিহ্ন নেই। গোঠে গরু
নেই কোনো, রাখাল উধাও, সরু
আল খাঁ খাঁ পথপার্শ্বে বৃক্ষেরা নির্বাক;
নগ্ন রৌদ্র চতুর্দিকে, স্পন্দমান কাক, শুধু কাক।
মানুষের চিরন্তন বাধাবিপত্তি পেরিয়ে নতুন জীবন শুরু করা অর্থে উক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
'আমার দেশ' কবিতায় কবি প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মানুষের নতুনভাবে স্বপ্ন দেখার দিক তুলে ধরেছেন। যুগে যুগে আমাদের দেশের মানুষ অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে গেছে। নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাক কাটিয়ে মানুষের নতুন জীবন শুরু করা, স্বাভাবিক জীবন শুরু করা অর্থে চরণটি ব্যবহার করা হয়েছে। একের পর এক বাধা আসার পরেও এই দেশের মানুষ নতুন উদ্যমে আবার জীবন শুরু করে। মানুষের একসঙ্গে নতুন জীবনই হলো চরে পাশাপাশি ঘর বাঁধা।
সূর্য-ঝলকে! মৌসুমী ফুল ফুটে
স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া লুটে
পড়ে মাঠভরা ধান্য শীর্ষ পরে
দেশের মাটিতে মানুষের ঘরে ঘরে।
আমার দেশের মাটিতে আমার প্রাণ
নিতি লভে নব জীবনের সন্ধান
এখানে প্লাবনে নুহের কিতি ভাসে
শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে।
জেগেছে নতুন চর
সেই চরে ফের মানুষেরা সব পাশাপাশি বাঁধে ঘর।
নব অঙ্কুর জাগে—
প্রতি দিবসের সূর্য-আলোকে অন্তর অনুরাগে
আমার দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণ
গৌরবময় জীবনের সম্মান ।
প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরুর করে
জীবনপ্রবাহ সঞ্চারি মর্মরে
বক্ষে জাগায়ে আগামী দিনের আশা
আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা
আমার দেশ নদীতে নদীতে মিলে হেথা গিয়ে ধায় সাগরের পানে
মানুষে মানুষে মিলে গিয়ে প্রাণে প্রাণে
সূর্য চন্দ্র করে
মৌসুমী ফুলে অঞ্জলি ভরে ভরে
আপন দেশের মাটিতে দাঁড়ায়ে হাসে
সূর্য-ঝলকে ! জীবনের ডাক আসে
সেই ডাকে দেয় সাড়া
নদী-প্রান্তর পার হয়ে আসে লক্ষ প্রাণের ধারা
মিলিতে সবার সনে
আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনে
আর্ত-ব্যথিত সুধী গুণীজন পাশে
সেবা-সাম্য-প্রীতি বিনিময় আশে
সূর্য-আলোকে আবার এদেশে হাসে
নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?