স্বপ্না একটি বিশেষ এলাকার জাতি-গোষ্ঠীর সম্পর্কে পর্যালোচনা করেন। এই জাতির লোকেরা প্রাচীন কালে বায়দা ও বাকিয়া নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে তারা আরিবা ও মুস্তারিয়া নামে খ্যাতি লাভ করে। এই খ্যাতির অবস্থান অনুসারে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে বিভক্ত।
স্বপ্নার পর্যালোচনাকৃত আরবের আদিম জাতির ওপর আবহাওয়ার ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যায়।
অত্যন্ত শুষ্ক ও গ্রীষ্ম প্রধান দেশগুলোর মধ্যে আরব অন্যতম। পূর্ব ও পশ্চিমে সমুদ্রবেষ্টিত থাকলেও সেই জলরাশি এখানকার ভূমি সিক্ত করতে পারেনি। কারণ আরব ভূমি তথা আল হিজাজে তিন বছর বা তার বেশি সময় বৃষ্টিহীন থাকা অস্বাভাবিক নয়। প্রাচীন আদিম আরবরা এই ভৌগোলিক অবস্থার মধ্যে বসবাস করত যাযাবরের মতো। যার ফলে এরূপ আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব তাদের ওপর পড়ত। মাঝে মাঝে মরু প্রান্তরে কয়েক বছর বৃষ্টিহীন থাকার ফলে স্থানীয় যাযাবরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। কিংবা বিশাল মরুভূমিতে বালুঝড়ের কবলে পড়েও অনেক যাযাবর গোত্র নিশ্চিত হয়ে যায়। তাছাড়াও অতিরিক্ত গরম, তৃণভূমি না থাকার ফলে যাযাবরদের জনজীবন বিপর্যন্ত হতো এবং অনেক সময় পুরো জাতি বা গোত্র এই বিরূপ আবহাওয়ায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিটির ক্ষেত্রেও একই দৃশ্য দেখা যায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বপ্নার পর্যালোচনাকৃত জাতিটি ছিল প্রাচীন আরবের। অনুরূপভাবে ইসলাম-পূর্ব-আদিম আরবও ছিল যাযাবর। তাদেরও স্থায়ী কোন ঠিকানা ছিল না। কারণ আরব ভূমির অধিকাংশই বৃষ্টিহীন মরু প্রান্তর। এখানে আবহাওয়ায় অনাবৃষ্টির রুক্ষতার প্রবণতাই বেশি। দক্ষিণ সমুদ্র থেকে স্বাভাবিক কারণে মেঘ উঠলেও মরুর বালুঝড় তা বাতাসেই শুষে নেয়। তখন অল্প সময়ের জন্য ঝড় বৃষ্টির প্রাবল্য আল হিজাজে দেখা দিত এবং তা বিপজ্জনক হয়ে উঠত। কিন্তু এই বৃষ্টির পরই আবির্ভাব ঘটত তৃণভূমি। ফলে উক্ত আল হিজাজের প্রায় ১০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাসিন্দা গড়ে ওঠে। আদিম আরবদের ছয় ভাগের পাঁচ ভাগই ছিল যাযাবর। উত্তপ্ত মরুভূমিতে পানি যেখানে দুর্লভ সেই আরবে এই যাযাবররা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতো। আবহাওয়ার এই বিরূপ প্রভাবের ফলে তৎকালীন আরবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল অনেক জাতি। যাদের মধ্যে বায়দা বা বাকিয়া উল্লেখযোগ্য ছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, আদিম আরবে যাযাবরদের ওপর আবহাওয়ার প্রভাব মারাত্মক ও ভয়াবহ ছিল।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?