হুসামউদ্দীন ইওজ খলজী, যিনি পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দীন ইওজ শাহ নামে পরিচিত হন, ছিলেন ত্রয়োদশ শতকের প্রথম ভাগে বাংলার একজন গুরুত্বপূর্ণ খলজি শাসক। তিনি প্রথমে ১২০৮–১২১০ খ্রিস্টাব্দে এবং পরে ১২১২–১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। তাঁর শাসনকালকে গঠনমূলক বলা হয়, কারণ তিনি বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা, প্রাচীনতম বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করেন। তিনি বাংলার প্রথম নৌবাহিনী গঠন করেন এবং লখনৌতি (গৌড়) ও বাসনকোট দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন।
গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজীর শাসনামলে বাংলায় দীর্ঘ সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। তিনি রাজধানী দেবকোট থেকে গৌড়ে স্থানান্তর করেন এবং পূর্ববঙ্গ, কামরূপ, ত্রিহুত ও উৎকল অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে সেগুলোকে করদ রাজ্যে পরিণত করেন। তবে তাঁর বিহার জয় দিল্লির মামলুক সুলতান ইলতুতমিশের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। ১২২৪ ও ১২২৬ খ্রিস্টাব্দে ইলতুতমিশের অভিযানে গিয়াসউদ্দীন ইওজ খলজী পরাজিত ও নিহত হন। এর ফলে বাংলা দিল্লির মামলুক সালতানাতের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।