জুলাই গন-অভ্যুত্থান ২০২৪

- সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ বিষয়াবলী | NCTB BOOK
80

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত ১ জুলাই ২০২৫ থেকে। অহিংস এই আন্দোলন সহিংস হয় ১৫ জুলাই থেকে। পরে তা গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। একসময় দেশ ছেড়ে পালান স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস বাংলাদেশের একটি জাতীয় দিবস ও সরকারি ছুটির দিন যা ২০২৫ সাল থেকে প্রতিবছরের ৫ আগস্টে পালিত হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লব
Pic.: Dhaka Mail

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ঘটে এবং তার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে যা পরবর্তীতে ৩৬ জুলাই নামে পরিচিতি পায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের অ্যালোকেশন অব বিজনেসে দিনটি পালনের ব্যাপারে উল্লেখ ছিল যা গৃহীত হয়। এরপর ২৫ জুনে দিবসটিকে ক-শ্রেণিভুক্ত তথা জাতীয় দিবস করা হয় এবং ২ জুলাইয়ে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

*জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শুরু থেকে শহীদদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছেন প্রথম আলোর সংবাদকর্মীরা। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালে ঘুরে এবং শহীদদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার শহীদদের তালিকা করার উদ্যোগ নেয়। ফলে প্রথম আলো আর মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেনি। শুধু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কিছু তথ্য যোগ করেছে। সব মিলিয়ে প্রথম আলো ৭৬৭ জন শহীদের তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছিল। অঞ্চলভিত্তিক শহীদ, শিশুমৃত্যু ও আহতের হিসাবও প্রথম আলোর। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ মে পর্যন্ত খসড়া তালিকা অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ–সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৪০০ জনে।

১ম শহিদঃ জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ হলেন আবু সাঈদ, যিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন; তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। তাকে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং তার স্মরণে "জুলাই শহীদ দিবস" পালিত হয়।

উল্লেখযোগ্য স্লোগানঃ

  • আমি কে তুমি কে, রাজাকার, রাজাকার; কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার
  • বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর
  • আমার খায়, আমার পরে, আমার বুকেই গুলি করে
  • তোর কোটা তুই নে, আমার ভাই ফিরিয়ে দে
  • লাশের ভেতর জীবন দে, নইলে গদি ছাইড়া দে
  • আমার ভাই কবরে, খুনিরা কেন বাইরে
  • যে হাত গুলি করে, সে হাত ভেঙে দাও
  • জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস
  • চেয়ে দেখ এই চোখের আগুন, এই ফাল্গুনেই হবে দ্বিগুণ
  • আঁর ন হাঁইয়্যে, বৌতদিন হাঁইয়্য' (আর খেয়ো না, অনেক দিন খেয়েছ)
  • পালাইছে রে পালাইছে/শেখ হাসিনা পালাইছে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনা প্রবাহঃ

০১ জুলাই ২০২৪, সোমবার
কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সুরাহার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'র পক্ষ থেকে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

০২ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার

অবরোধ কর্মসূচি

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল করে নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও বাটা সিগন্যাল মোড় ঘুরে শাহবাগে গিয়ে থামে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।

০৩ জুলাই ২০২৪, বুধবার

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এই দিন আন্দোলনকারীরা ঢাকার শাহবাগ মোড় দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন। একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন এবং সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন।

০৪ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার

ছাত্র ধর্মঘটের ডাক

সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত হয়নি। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ 'নট টুডে' বলে আদেশ দেন। শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। এবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক।

০৫ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার

শুক্রবারও বিক্ষোভ

ছুটির দিন শুক্রবারও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। চট্টগ্রাম, খুলনা ও গোপালগঞ্জে সড়ক অবরোধ।

০৬ জুলাই ২০২৪, শনিবার

বাংলা ব্লকেড ঘোষণা

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের দিনের মতোই বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, ছাত্রধর্মঘট এবং সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেন। এর নাম দেওয়া হয় 'বাংলা ব্লকেড'।

০৭ জুলাই ২০২৪, রবিবার

বাংলা ব্লকেডে স্থবির রাজধানী

বাংলা ব্লকেডে স্থবির রাজধানী। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা।

০৮ জুলাই ২০২৪, সোমবার

রেলপথ মহাসড়ক অবরোধ

রাজধানী ঢাকার ১১টি স্থানে অবরোধ, ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, ৩টি স্থানে রেলপথ অবরোধ এবং ৬টি মহাসড়ক অবরোধ। সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে শুধু সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম কোটা রেখে সংসদে আইন পাসের দাবি।

০৯ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আগামীকাল ১০ জুলাই সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা 'বাংলা ব্লকেড'র ডাক। হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থীর আবেদন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন।

১০ জুলাই ২০২৪, বুধবার

রাজধানী বিচ্ছিন্ন

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা 'বাংলা ব্লকেড'র কারণে সারা দেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। সারা দেশে কার্যত অচল হয়ে পড়ে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ। অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন অন্তত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

১১ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার

ওবায়দুল কাদের বললেন

পুলিশের বাধা ও হামলার মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লায় ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা সর্বোচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, শিক্ষার্থীরা 'লিমিট ক্রস' করে যাচ্ছেন।

১২ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার

ছুটির দিনেও অবরোধ

কোটা সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।

১৩ জুলাই ২০২৪, শনিবার

রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা

সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা। পরের দিন রোববার গণপদযাত্রা করে রাষ্ট্রপতি বরাবর এ স্মারকলিপি দেবেন আন্দোলনকারীরা।

১৪ জুলাই ২০২৪, রবিবার

রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, 'কোটা বিষয়ে আমার কিছু করার নেই।' শেখ হাসিনা আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা চাকরি পাবে?' একই দিনে পদযাত্রা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আন্দোলনকারীরা জাতীয় সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডের কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন।

১৫ জুলাই ২০২৪, সোমবার

ছাত্রলীগ সভাপতির হুঁশিয়ারি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় ছাত্রলীগের নাম এসেছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের 'রাজাকার' স্লোগানের জবাব ছাত্রলীগই দেবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাঁরা 'আমি রাজাকার' স্লোগান দিচ্ছেন, তাঁদের শেষ দেখিয়ে ছাড়বেন বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

১৬ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার

আবু সাঈদের মৃত্যু

রংপুরে আন্দোলনকারী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের বুলেটে নিহত। সারা দেশে দিনভর ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ। বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'আন্দোলন যাবে, আন্দোলন আসবে। কিন্তু ছাত্রলীগ থাকবে। সবকিছুই মনে রাখা হবে এবং জবাব দেওয়া হবে।'

১৭ জুলাই ২০২৪, বুধবার

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিতাড়ন করে 'রাজনীতিমুক্ত' ঘোষণা। ছুটির দিনেও ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রবিক্ষোভ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ।

১৮ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার

সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন

কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তাল সারা দেশ। বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও গুলি, নিহত ২৭।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশ ছিল প্রায় অচল। সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন।

১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার

কমপ্লিট শাটডাউন

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের 'কমপ্লিট শাটডাউন' বা সর্বাত্মক অবরোধের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, গুলি, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। রাজধানী ঢাকা ছিল কার্যত অচল, পরিস্থিতি ছিল থমথমে। রাতে সারা দেশে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী মোতায়েন। ইন্টারনেট-সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ। আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক তিন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শুক্রবার রাতে আট দফা দাবি পেশ। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ৯ দফার ঘোষণা দেন।

২০ জুলাই ২০২৪, শনিবার

দেশজুড়ে কারফিউ, সেনা মোতায়েন

দেশজুড়ে কারফিউ, সেনা মোতায়েন। সাধারণ ছুটি ঘোষণা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ধাওয়া ও গুলি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলবে। 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের' অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেন তাঁর মা। তিনি জানান, আগের দিন শুক্রবার দিবাগত রাতে (১৯ জুলাই) দুইটার দিকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়।

২১ জুলাই ২০২৪, রবিবার

আদালতের রায়, ৯৩% কোটা ঘোষণা

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায়-কোটাপ্রথা হিসেবে মেধাভিত্তিক ৯৩ শতাংশ; মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। টানা প্রায় তিন দিন ধরে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে মানুষ।

২১ জুলাই ২০২৪, রবিবার

আদালতের রায়, ৯৩% কোটা ঘোষণা

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায়- কোটাপ্রথা হিসেবে মেধাভিত্তিক ৯৩ শতাংশ; মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ; ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। টানা প্রায় তিন দিন ধরে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে মানুষ।

২২ জুলাই ২০২৪, সোমবার

প্রজ্ঞাপন অনুমোদন

সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির সব গ্রেডে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে ৯৩ শতাংশ। বাকি ৭ শতাংশ নিয়োগ হবে কোটার ভিত্তিতে। এ ব্যবস্থা রেখে রাতে প্রজ্ঞাপন অনুমোদন। ৫ দিন পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা সেনাবাহিনী-পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।

২৩ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট-সেবা চালু

কোটাপ্রথা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি। রাতে সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট-সেবা চালু। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদকে ১৮ জুলাই থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

২৪ জুলাই ২০২৪, বুধবার

সমন্বয়কদের খোঁজ পাওয়া গেছে

কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

২৫ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার

প্রধানমন্ত্রীর মেট্রোস্টেশন পরিদর্শন

প্রধানমন্ত্রীর মেট্রোস্টেশন পরিদর্শন। বললেন, 'আমি জনগণের কাছে বিচার চাইছি।'

২৬ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার

ঢাকায় ব্লক রেইড

এলাকা ভাগ করে চলছে 'ব্লক রেইড'। সারা দেশে অভিযান। সারা দেশে অন্তত ৫৫৫টি মামলা। নাহিদ ইসলামসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে ডিবি। অপর দুই সমন্বয়ক হলেন আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদার।

২৭ জুলাই ২০২৪, শনিবার

আরও দুই সমন্বয়ক ডিবি হেফাজতে

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল‍্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও দুই সমন্বয়ককে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাঁরা হলেন সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। ১১ দিনে গ্রেপ্তার ৯ হাজার ১২১ জন।

২৮ জুলাই ২০২৪, রবিবার

ডিবির হেফাজতে ৬ সমন্বয়ক
কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুমকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ডিবির হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়ক এক ভিডিও বার্তায় সব কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা বলেছেন। মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন পর সচল।

২৯ জুলাই ২০২৪, সোমবার

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ১৪ দলের বৈঠকে। ৬ সমন্বয়ক ডিবি হেফাজতে। 'জাতিকে নিয়ে মশকরা কইরেন না'- এক শুনানিতে এ মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

৩০ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার

লাল রঙের ফেসবুক প্রোফাইল

হত্যার বিচার চেয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মিছিল। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতি, স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইল লাল রঙের ফ্রেমে রাঙিয়েছেন অনেকে। 'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের।

৩১ জুলাই ২০২৪, বুধবার

মার্চ ফর জাস্টিস : নতুন কর্মসূচি

'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচির পর বৃহস্পতিবারের জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশ। ১৪ দিন পর ফেসবুক চালু।

০১ অগাস্ট ২০২৪, বৃহস্পতিবার (৩২ জুলাই ২০২৪)

সমন্বয়কেরা মুক্ত, জামায়াত নিষিদ্ধ

ডিবি হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বেলা দেড়টার একটু পরেই তাঁরা ডিবি কার্যালয় থেকে কালো রঙের একটি গাড়িতে বেরিয়ে আসেন। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

০২ অগাস্ট ২০২৪, শুক্রবার (৩৩ জুলাই ২০২৪)

'দ্রোহযাত্রা' কর্মসূচি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জুমার নামাজের পর 'প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল' কর্মসূচি পালিত হয়। ২৮ জেলায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের 'দ্রোহযাত্রা' কর্মসূচি পালন। শিল্পীসমাজের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে শামিল হন সর্বস্তরের মানুষ। ৬ সমন্বয়ক বললেন, আন্দোলন প্রত্যাহারের সেই ঘোষণা স্বেচ্ছায় ছিল না।

০৩ অগাস্ট ২০২৪, শনিবার (৩৪ জুলাই ২০২৪)

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমায়েত হন শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে রাজধানীসহ দেশের ৩৩টি জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ।

০৪ অগাস্ট ২০২৪, রবিবার (৩৫ জুলাই ২০২৪)

সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিন

সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনে সারা দেশে ১৮ জেলায় ব্যাপক সংঘাতের খবর। সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশ নিহত।

০৫ অগাস্ট ২০২৪, সোমবার (৩৬ জুলাই ২০২৪)

স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পলায়ন

পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালালেন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা। গণভবন, সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে অসংখ্য মানুষ।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো ও Wikipedia ও অন্যন্য

Content added By

শেখ হাসিনার পলায়ন

48

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বিকেল প্রায় ২:২৫ মিনিটে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং তার বোন শেখ রেহানার সঙ্গে সি-১৩০জে হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি আগরতলা হয়ে দিল্লিতে পৌঁছান। পলায়নের আগে তিনি একটি বক্তৃতা রেকর্ড করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তবে তিনি সেই সুযোগ পাননি।

ছাত্র–জনতার বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট  ভারতে পালিয়ে যান

ঘটনা প্রবাহঃ

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে ৫ আগস্ট (৩৬ জুলাই) সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেদিন ছিল সোমবার, ‘শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদের বিলোপের’ এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন। বিপুল জনস্রোতের লক্ষ্য ছিল গণভবন।

সেদিন সকালেও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। সেদিন ঢাকার সব প্রধান সড়কেই নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা, শাহবাগসহ বিভিন্ন দিক থেকে আসছিলেন ছাত্র–জনতা। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও কিছু স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছাত্র–জনতার মিছিলের বাধা সরিয়ে নেন। দুপুরের আগেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে সরকার নড়বড়ে হয়ে গেছে।

ছাত্র–জনতার সবার গন্তব্য ছিল গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদ ভবন। একপর্যায়ে তাঁরা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়েন।

গণভবনের মাঠে হাত উঁচু করে উল্লাস করেন অনেকে। কেউ কেউ গণভবন ও সংসদে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস নিয়ে বেরিয়ে যান। সংসদ ভবনে প্রবেশ করেও উল্লাস ও আনন্দ মিছিল করেন ছাত্র–জনতা। অনেকের হাতে ছিল লাল–সবুজের জাতীয় পতাকা। বিকেল থেকে ছাত্র–জনতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। অনেকেই কার্যালয়ের ছাদে উঠে যান।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে মানুষের আনন্দ–উল্লাস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে সংসদ ভবন এলাকায়

ছাত্র–জনতার অনেকে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন গণভবন-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদের দেয়াল এবং বিভিন্ন স্থাপনায় লিখে, ছবি এঁকে। দেয়ালে বিভিন্ন প্রতিবাদী লিখনে উঠে আসে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার শাসনামলের নানা অনিয়ম ও দুঃশাসনের কথা।

জনস্রোত গণভবনে পৌঁছানোর আগেই ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে বেলা আড়াইটায় একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা, যিনি কয়েক দিন আগেই (১ আগস্ট) বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা কখনো পালায় না।’

এর মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সফল পরিণতি ঘটে। সব মিলিয়ে ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট, ছাত্র–জনতা শেখ হাসিনার মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পেলেন চরম কর্তৃত্ববাদী এক শাসন থেকে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার দিন সকালেও গুলি চলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়, যাতে ছাত্র-জনতার অনেকে হতাহত হন। পালিয়ে যাওয়ার পরও এমন গুলির ঘটনা ঘটে। এ দিন সারা দেশে শতাধিক মানুষ নিহত হন। তার আগের দিনও নিহত হন শতাধিক।

সরকার পতনের পর মানুষের দীর্ঘদিনের পূঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে সারা দেশে। প্রধান বিচারপতির বাসভবন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবন সুধা সদনসহ রাজধানীতে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সদ্য বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের বাসভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা ও আগুন দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়েও।

সেনাপ্রধানের ভাষণ ও সমন্বয়করা সংবাদ সম্মেলনে

শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করার পর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা সদর দপ্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল (বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা) ছাড়াও বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাস, জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমান, এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, জাতীয় পার্টির জি এম কাদের ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক এবং গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর সেনাপ্রধান জনগণের উদ্দেশে বলেন, “সমস্ত প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা এখানে উপস্থিত ছিলেন। আমরা একটি সুন্দর আলোচনা করেছি এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের সকল কার্যক্রম এখন এই সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে।” তিনি সব হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার করা হবে এবং সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীতে আস্থা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সবাইকে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান এবং ঘরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি শীঘ্রই ছাত্র-শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন বলে জানান।

সেদিন বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধৈর্য ও সহনশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন মামলায় আটক সকল বন্দীকেও মুক্তি দেওয়া হবে।

বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জেএসডি ও অন্যান্য পক্ষের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

অন্যদিকে, ৫ আগস্ট রাতে তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেন। সঙ্গে ছিলেন সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদার। সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-নাগরিকদের সমর্থিত সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকার গ্রহণযোগ্য নয়। তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দেবেন, যেখানে ছাত্র-নাগরিক, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ মাহমুদ “জুলাই: মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু” শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। বইতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ৫ আগস্ট রাতে টোয়েন্টিফোর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আগে ছাত্র-নাগরিকরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। রাত তিনটায় ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক ইউনূসের সম্মতির তথ্য ঘোষণা করা হয়।

সোর্সঃ প্রথম আলো

Content added By

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন

31

শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা

শেখ হাসিনার সরকার দ্রুত পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা আগেই নতুন সরকারের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। অগাস্টের শুরু থেকেই তারা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কারণ সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

৫ আগস্ট দুপুরে গণমাধ্যমে খবর আসে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত পলায়ন করেছেন। একই দিনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঘোষণা করেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।

সেনা সদর দফতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং ছাত্র নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা নিশ্চিত হন যে, জাতীয় সরকারের বিষয়ে বিএনপির আগ্রহ নেই। এরপর তারা জনগণের মাধ্যমে সরকারের প্রস্তাবনা আনা ও উপদেষ্টা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেন।

ছাত্র নেতারা ৫ আগস্ট টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ড. ইউনূস সম্মতি দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

৬-৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, তিন বাহিনী প্রধান, ছাত্র নেতা ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করেন। ছাত্র ও নাগরিক সমন্বয়কারীরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তালিকা আলোচনা করে ১৫ সদস্যের প্রাথমিক উপদেষ্টা তালিকা তৈরি করেন।

৮ আগস্ট দুপুরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্স থেকে দেশে এসে বঙ্গবন্ধু ভবনে শপথ গ্রহণ করেন। তার সঙ্গে ১৬ জন উপদেষ্টা তালিকাভুক্ত ছিলেন, শপথ গ্রহণ করেন প্রথমে ১৩ জন, বাকিদের পরবর্তীতে। উপদেষ্টা তালিকায় ছাত্র আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়কও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ড. ইউনূস সরকার গ্রহণের সময় বলেন, “ছাত্ররা তাদের প্রাথমিক নিয়োগকর্তা; তারা যখন বলবে, তখন উপদেষ্টারা চলে যাবেন।”

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনদিন ধরে সরকার বিহীন থাকার পর অন্তর্বর্তী সরকার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টও সংবিধান অনুসারে এই সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বৈধ: সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বৈধ ঘোষণা করেছিলো। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠান। আপিল বিভাগের সুপারিশে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং উপদেষ্টারা শপথ নেন।

হাইকোর্টে দায়ের করা রিট এবং এর লিভ টু আপিল খারিজ করা হয়। আদালত উল্লেখ করে, এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের উপদেশ গ্রহণ করেছেন, যা আইনি এবং জনগণের স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

সারসংক্ষেপে, রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স এবং সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ আইনগতভাবে বৈধ।

সূত্রঃ বিবিসিবাংলা, বাসস ও আপিল বিভাগ

Content added By

জুলাই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য শহীদ

34

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বা জুলাই আন্দোলনের সময় অনেকেই গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে স্বজনহারা হন। এ আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য শহীদদের মধ্যে কয়েকজন হলেন:

আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ), ফারহান ফাইয়াজ ইত্যাদি।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ৩ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ৮৩৬।

Content added By

আবু সাঈদ

57

আবু সাঈদ (২০০১ – ১৬ জুলাই ২০২৪) ছিলেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সক্রিয়কর্মী। তিনি এই জুলাই আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ছিলেন। ১৬ই জুলাই আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। আবু সাঈদ ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তিনি স্থানীয় জাফর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপরে স্থানীয় খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জি‌পিএ-৫ পে‌য়ে এসএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালে রংপুর সরকা‌রি কলে‌জ থেকে জি‌পিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি ২০২০ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইং‌রে‌জি বিভাগে ভ‌র্তি হন। তিনি তার বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

Content added || updated By

ওয়াসিম আকরাম

42

শহীদ ওয়াসিম আকরাম হলেন বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনে (জুলাই আন্দোলন) চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ, যিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মুরাদপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন; তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন এবং তার আত্মত্যাগ এই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়, যার স্মরণে একটি ফ্লাইওভারের নামকরণ করা হয়েছে ।

Content added By

মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)

47

শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ছিলেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। তিনি একজন মুক্তপেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করতেন। আন্দোলনের সময় খাবার পানি এবং বিস্কুট বিতরণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মুগ্ধর মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

মুগ্ধর বাবার নাম মীর মোস্তাফিজুর রহমান, মায়ের নাম শাহানা চৌধুরী। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রামরাইল। তিন ভাইয়ের মধ্যে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মুগ্ধ ছিলেন যমজ।

মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে এমবিএ করছিলেন। মৃত্যুর সময় তার গলায় বিইউপি আইডি কার্ডটি রক্তমাখা অবস্থায় ছিল।

তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফাইভারে এক হাজারের বেশি কাজ সম্পন্ন করেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি তিনি একজন ভ্রমণপিপাসু, ফুটবলার, এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য ছিলেন।

ফাইভার ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে এক ভেরিফাইড অফিশিয়াল পোস্টে জানায়, মুগ্ধ ছিলেন একজন প্রতিভাবান মার্কেটার। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় তার ছিল অসাধারণ দক্ষতা।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকায় সংঘর্ষ চলাকালে মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ফেসবুকে একটি ছোট ভিডিও পোস্ট করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফাইভার তার মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে।

‘পানি লাগবে পানি’’

‘পানি লাগবে পানি’’ ছিলো মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ-এর মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে ধারণকৃত একটি ভাইরাল ভিডিওর বাক্য, যা আন্দোলনকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে মীর মুগ্ধকে একটি ভিডিওতে পানির কেস হাতে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি বিতরণ করতে দেখা যায়, যেখানে তিনি একাধিকবার বলেন—“পানি লাগবে কারো, পানি, পানি?” প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি আহত বা ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে বারবার পানি দিতে এগিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পর গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে "পানি লাগবে পানি" বাক্যটি আন্দোলনের প্রতীকী স্লোগানে পরিণত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি আকারে ব্যবহৃত হয়।

Content added By

ফারহান ফাইয়াজ

47

শহীদ ফারহান ফাইয়াজ ছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী, জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। জুলাই আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ১৮ জুলাই ২০২৪ রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই তরুণ আন্দোলনে নেমে আর ঘরে ফিরতে পারেননি। তার মৃত্যু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয় এবং তা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ পরিবার হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছেন। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনদের কাছে ফারহান ফাইয়াজ আজ নতুন প্রজন্মের এক কিংবদন্তি ও শহীদ হিসেবে স্মরণীয়।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...