খলজী বংশ(১২৯০-১৩২০)

- সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ বিষয়াবলী | NCTB BOOK
3k

১২৯০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর প্রাথমিক তুর্কী সালতানাতের অবসান ঘটে। এরপর শুরু হয় খলজী বংশের শাসন। খলজীগণ ভারতে আসার আগে দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে বসবাস করে। এজন্য কোন কোন ঐতিহাসিক তাদেরকে পাঠান বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা ছিলেন তুর্কী। জালালউদ্দীন ফিরোজ খলজী ছিলেন এই বংশের প্রথম সুলতান। তিনি ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির শাসক। তাঁকে হত্যা করে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা আলাউদ্দীন খলজী সুলতান হন। তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী ও শক্তিশালী শাসক। খলজী বংশের সকল গৌরব বস্তুত: আলাউদ্দীনেরই প্রাপ্য। রাজ্য বিস্তার, সাম্রাজ্যে সুশাসন প্রবর্তন, মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্থাপত্য শিল্পের বিকাশ ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই আলাউদ্দীন তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখেন। খলজী বংশ মোট ত্রিশ বছর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। তার মধ্যে বিশ বছরই শাসন করেন আলাউদ্দীন খলজী (১২৯৬-১৩১৬)। আলাউদ্দীন খলজীর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীগণ তাঁর রেখে যাওয়া বিশাল সাম্রাজ্য কিংবা শাসনব্যবস্থা কোনটাই ধরে রাখতে পারেননি। ফলে আমীরগণ আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেন। খলজী বংশের পর তুঘলক বংশ শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

খলজীদের ক্ষমতারোহণ

বলবনের পর তাঁর পৌত্র কায়কোবাদ দিল্লীর সুলতান হন। যৌবনকাল পর্যন্ত তাঁকে অত্যন্ত কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে লালন-পালন করা হয়েছিল। সুলতান হওয়ার পর তিনি অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠেন। মাত্র দু'বছরের মধ্যে তিনি পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন। আমীরগণ তখন তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করেন। তাঁর স্থলে তাঁর পুত্র কায়মুরসকে সুলতান করা হয়। কায়মুরসের বয়স তখন মাত্র তিন বছর। এই সময় খলজী মালিকগণ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। খলজীগণ তুর্কিস্তানের লোক। তুর্কিস্ত ান থেকে এসে তারা দীর্ঘদিন আফগানিস্তানে বসবাস করে। সেখান থেকে আসে ভারতে। আফগানিস্ত ান থেকে আসার কারণে জিয়াউদ্দীন বারণী প্রমুখ ঐতিহাসিক তাদেরকে আফগান বলেছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে তারা ছিলেন তুর্কী। খলজী মালিকগণ কায়মুরসকে সরিয়ে জালালউদ্দীন ফিরোজ খলজীকে সিংহাসনে বসান।

Content added By

জালালউদ্দিন খলজি (১২৯০-১২৯৬)

1.6k

জালালউদ্দিন খলজি (ফিরুজ) ছিলেন খলজি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সুলতান। এই বংশ ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত দিল্লির সুলতানি শাসন করে। জালালউদ্দিন মামলুক (কৃতদাস) রাজবংশের আধিকারিক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এটি দিল্লি সালতানাত শাসনকারী দ্বিতীয় রাজবংশ। এটি ছিল তুর্কি-আফগান বংশোদ্ভূত মুসলিম রাজবংশ। ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই রাজবংশ দক্ষিণ এশিয়ার বিরাট অংশ শাসন করে। ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন খলজি বংশেরই বংশধর। ১৩২০ সালে পাঞ্জাবের শাসনকর্তা গাজী মালিক সিংহাসন দখল করেন।

Content added || updated By

আলাউদ্দিন খলজি (১২৯৬-১৩১৬)

2.3k

আলাউদ্দীন খলজি (১২৯৬-১৩১৬ খ্রি.) প্রথম মুসলমান শাসক হিসাবে দাক্ষিণাত্য জয় করেন। দাক্ষিণাত্য অভিযানে নেতৃত্ব দেন সুলতানের সেনাপতি মালিক কাফুর। তিনি দক্ষিণ-ভারতের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত মুসলিম বিজয় পতাকা উড্ডীন করেন। সুলতান জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের উপর হস্তক্ষেপ করেন এবং প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য নির্দিষ্ট হারে বেধে দেন। সেলতান ফ্রান্সের রাজা চর্তদশ লুই এর ন্যায় ঘোষণা করেন, "আমিই রাষ্ট্র।”

আলাউদ্দিন খলজী (১২৯৬-১৩১৬ খ্রিস্টাব্দ) পর্যটক ইবনে বতুতা আলাউদ্দিন খলজীকে দিল্লীর শ্রেষ্ঠ সুলতান বলে অভিহিত করেছেন। আলাউদ্দিন খলজী জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য দ্রব্যের মূল্য নির্দিষ্ট করে দেন। দিল্লির বিখ্যাত আলাই দরওয়াজা তাঁরই কীর্তি। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারনী, কবি আমির খসরু প্রমুখ গুণীজন তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন । মুসলমান শাসক হিসাবে দক্ষিণ ভারত জয় করেন। চতুদর্শ লুইয়ের মত আলাউদ্দিন খিলজি ঘোষনা করেন আমিই রাষ্ট্র। তিনি ১৩০৬ খ্রিস্টাব্দে দেবগিরির রাজারাদের দিল্লীর আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। আলাউদ্দিন খিলজির সময় খিলজিরা সফলভাবে মোঙ্গল আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়।

Content added By
Content updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...