অ্যামাইড হলো এমন জৈব যৌগ যেখানে একটি কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের কার্বনাইল গ্রুপ (-C=O) একটি অ্যামাইন গ্রুপ (-NH₂, -NHR, বা -NR₂) এর সাথে যুক্ত থাকে।
সাধারণ সূত্র: R−C(=O)−NR2, যেখানে R হলো হাইড্রোজেন বা একটি জৈবমূলক গোষ্ঠী।
২. অ্যামাইডের প্রকারভেদ:
প্রাথমিক অ্যামাইড (Primary Amide):
গঠন: R−C(=O)−NH2।
উদাহরণ: ইথানামাইড (CH3CONH2)।
দ্বিতীয়িক অ্যামাইড (Secondary Amide):
গঠন: R−C(=O)−NHR′।
উদাহরণ: CH3CONHCH3।
তৃতীয়িক অ্যামাইড (Tertiary Amide):
গঠন: R−C(=O)−NR′2।
উদাহরণ: CH3CON(CH3)2।
৩. গঠন:
অ্যামাইড অণুতে একটি কার্বনাইল গ্রুপ −C=O এবং একটি অ্যামাইন গ্রুপ −NR2 উপস্থিত থাকে।
হাইড্রোজেন বন্ধনের কারণে অ্যামাইডের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি।
৪. রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য:
হাইড্রোলাইসিস:
অ্যামাইড অ্যাসিডিক বা ক্ষারীয় মাধ্যমে হাইড্রোলাইসিসে কার্বক্সিলিক অ্যাসিড এবং অ্যামোনিয়া বা সংশ্লিষ্ট অ্যামাইন উৎপন্ন করে। RCONH2+H2O→RCOOH+NH3(অ্যাসিডিক অবস্থায়) RCONH2+OH−→RCOO−+NH3(ক্ষারীয় অবস্থায়)
নির্দিষ্ট প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া:
অ্যামাইডের অ্যামাইন গ্রুপ প্রতিস্থাপিত হয়ে নতুন যৌগ তৈরি করতে পারে।
উচ্চ তাপমাত্রায় পচন:
তাপ প্রয়োগে অ্যামাইড থেকে নাইট্রাইল উৎপন্ন হতে পারে।
৫. উদাহরণ:
ইউরিয়া (H2NCONH2):
একটি সাধারণ প্রাথমিক অ্যামাইড, যা জৈবিক চক্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাসিটামাইড (CH3CONH2):
প্রাথমিক অ্যামাইড, দ্রবণীয় এবং প্রোটিন সংশ্লেষণে ব্যবহৃত।
৬. ব্যবহার:
জৈব সংশ্লেষণ:
ওষুধ এবং প্লাস্টিক তৈরিতে।
প্রাকৃতিক পলিমার:
প্রোটিনে পেপটাইড বন্ধন অ্যামাইড গঠনের একটি বিশেষ উদাহরণ।
কৃষি ও শিল্প:
ইউরিয়া সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ওষুধ:
কিছু ব্যথানাশক ওষুধে অ্যামাইড ব্যবহার হয়।
তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য:
প্রকার
সাধারণ গঠন
উদাহরণ
প্রাথমিক অ্যামাইড
RCONH2
অ্যাসিটামাইড
দ্বিতীয়িক অ্যামাইড
RCONHR′
N-মিথাইল অ্যাসিটামাইড
তৃতীয়িক অ্যামাইড
RCONR′2
N, N-ডাইমিথাইল অ্যাসিটামাইড
অ্যামাইড রাসায়নিক ও জৈবিক ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।