উদ্দীপকে বর্ণিত সম্পদসমূহ স্বল্পমেয়াদি বা চলতি সম্পদ।
ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনকে স্বল্পমেয়াদি বা চলতি মূলধন বলে। চলতি মূলধনের একটি অংশ হচ্ছে চলতি সম্পদ যার মেয়াদ ১ বছর বা তার কম।
উদ্দীপকে মি. রাউফ 'সাহারা' কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপক। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনের একটি বড় অংশ নগদ অর্থ, প্রাপ্য বিল, কাঁচামাল এবং অগ্রিম খরচাবলি ইত্যাদির মাধ্যমে সংগ্রহ করেন। তিনি অধিক মুনাফার আশায় এসকল সম্পদ কম সংরক্ষণ করেন। এ কারণে সম্পদ স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। তিনি কাঁচামালের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারেন নি। পাওনাদার একটি চলতি দায়। সাধারণত চলতি সম্পদ থেকেই এ দায় মেটানো হয়। উল্লিখিত সম্পদসমূহ সংকটের কারণে সাহারা কোম্পানি এই দায় পরিশোধ করতে পারে নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সম্পদসমূহ চলতি বা স্বল্পমেয়াদি সম্পদ।
উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে মি. রাউফের তারল্য ও মুনাফার নীতি অনুসরণ করা উচিত।
অর্থায়নের যে নীতি অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ অর্থ হাতে রেখে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে সম্পদ সর্বাধিকরণ করা হয় তাকে তারল্য ও মুনাফার নীতি বলে। এই নীতি অনুযায়ী কোম্পানিকে চলতি দায় পরিশোধ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ অর্থ হাতে রাখতে হয়। আবার মুনাফা করার জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগও করতে হয়। তারল্য ও মুনাফার মধ্যে সর্বোত্তম সমন্বয়ই এ নীতির উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে সাহারা কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপক কোম্পানির মূলধনের একটি বড় অংশ চলতি সম্পত্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করেন। আবার অধিক মুনাফা লাভের আশায় তিনি পর্যাপ্ত নগদ অর্থ হাতে না রেখেই অধিক পরিমাণে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে তার কোম্পানিতে চলতি সম্পদ স্বল্পতার সৃষ্টি হয় এবং তিনি কাঁচামাল সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। এতে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়।
তারল্য ও মুনাফার নীতি অনুসরণ করলে মি. রাউফ তার মোট মূলধনের একটি বড় অংশ চলতি সম্পদ থেকে অর্থায়ন করতেন না। কারণ দীর্ঘমেয়াদি মূলধন দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকেই সংগ্রহ করতে হয়। আবার তিনি চলতি সম্পদে ঘাটতি রেখে অধিক মুনাফা লাভের আশায় বিনিয়োগ করতেন না। বরং পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ অর্থ হাতে রেখে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতেন। ফলে সরবরাহকারীদের কাঁচামালের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করতে তার কোনো সমস্যা হতো না। এ থেকে বলা যায়, সমস্যা সমাধানে মি. রাউফের অর্থায়নের তারল্য ও মুনাফার নীতি অনুসরণ করা উচিত ছিল।
সমাজের প্রতি ব্যবসায়ের দায়িত্বকেই সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে।
ব্যবসায়ের সাথে বিভিন্ন পক্ষ জড়িত থাকে যেমন- শেয়ারমালিক, ভোক্তা, কাঁচামাল সরবরাহকারী, ব্যবস্থাপক ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী, সরকার, ঋণদাতা প্রভৃতি। এ সকল স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সর্বাধিকরণের যে দায়বদ্ধতা তাকে অর্থায়নের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে।
উদ্দীপকের সাদমানের গৃহীত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি অর্থায়নের ঝুঁকি-মুনাফা নীতির অন্তর্ভুক্ত।
ঝুঁকি মুনাফা নীতি অনুসারে বিনিয়োগ যত ঝুঁকিপূর্ণ হবে প্রত্যাশিত মুনাফার হার ততো বেশি হবে। কারণ একজন বিনিয়োগকারী যখন অধিক ঝুঁকি গ্রহণ করে তখন তিনি অধিক মুনাফা প্রত্যাশা করে। বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ও মুনাফার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত যাতে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব সাদমান অধিক মুনাফার আশায় অধিক ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত। তার এ ধরনের ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে। যে কারণে তিনি অধিক ঝুঁকি গ্রহণে অধিক মুনাফা প্রাপ্তির প্রত্যাশা করে। তাই বলা যায়, জনাব সাদমান এর গৃহীত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি অর্থায়নের ঝুঁকি ও মুনাফা নীতির অন্তর্ভুক্ত।
জনাব সাদিক যদি আর্থিক বাজারের সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে চান তবে তিনি ট্রেজারি বন্ড ক্রয় করবেন।
সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত দীর্ঘমেয়াদি বন্ডকে ট্রেজারি বন্ড বলে। ট্রেজারি বন্ড দেউলিয়াত্ব ঝুঁকিমুক্ত। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের পক্ষে ৫ বছর এবং ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করে থাকে। ট্রেজারি বন্ড হতে নির্দিষ্ট হারে প্রতি বছর সুদ পাওয়া যায়। এটি ঝুঁকিমুক্ত এবং আয় নিশ্চিত।
উদ্দীপকে জনাব সাদিক তার সঞ্চিত অর্থ কোনো বিনিয়োগ প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে চান এবং নির্দিষ্ট হারে নিশ্চিত মুনাফা আশা করেন। জনাব সাদিক ঝুঁকি নিতে আগ্রহী না। তাই তিনি আয় কম হলেও নিশ্চিত মুনাফার আশা করেন এবং তার বিনিয়োগ অর্থ সুরক্ষিত করতে চান।
ট্রেজারি বন্ড হতে নির্দিষ্ট হারে প্রতি বছর সুদ পাওয়া যায় এবং এ ধরনের সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত। ট্রেজারি বন্ড সরকার কর্তৃক ইস্যু হয় বিধায় মূলধন হারানোর সম্ভাবনা থাকে না। সুতরাং জনাব সাদিক যদি আর্থিক বাজারের সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে চান, তবে তার ট্রেজারি বন্ড ক্রয় করা উচিত।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?