Summary
এই অধ্যায় শেষে আমরা ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট সম্পর্কে:
- বর্ণনা করতে পারব;
- ব্রাউজার ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারব;
- সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে তথ্য খুঁজে বের করতে পারব।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- ইন্টারনেট সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- ওয়েবসাইট সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- ব্রাউজার ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারব;
- সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে তথ্য খুঁজে বের করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত শিক্ষার্থী দীপা দীর্ঘদিন পর তার মা-বাবার সাথে বাংলাদেশে আসে। আসার আগে তার শিক্ষক তাকে 'বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান' সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখে পাঠাতে বলেন।
পরীক্ষার পূর্বরাত্রে রানা দেখল তার গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান-বইটি পাওয়া যাচ্ছে না। এখন কী করা। শেষে রানা তার ভাইয়ের কম্পিউটারে বসে বইটি ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে পড়ল

এই বইয়ে আমরা অনেকবার বলেছি যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিয়ে সারা পৃথিবীতে একটা বিপ্লব হচ্ছে এবং আমরা সবাই আমাদের চোখের সামনে সেই বিপ্লবটা ঘটতে দেখছি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটির এই বিপ্লবটুকু যে বিষয়গুলোর জন্যে ঘটছে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে ইন্টারনেট। কাজেই তোমাদের সবাইকে ইন্টারনেট সম্পর্কে জানতে হবে। সবাইকে কখনো না কখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে! বিষয়টি বোঝার জন্যে নিচের কয়েকটি ঘটনার কথা কল্পনা করা যাক:
ঘটনা ১: একদিন রাহাত স্কুল থেকে বাসায় আসছে। হঠাৎ করে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি শুরু হলো। রাহাত মহা খুশি, এ দেশের বৃষ্টির মতো এত সুন্দর বৃষ্টি আর কোথায় আছে? রাহাতের বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভালো লাগে। তাই সে ভিজতে ভিজতে বাসায় এলো। কিন্তু বাসায় এসে হঠাৎ তার মনে পড়ল সে তো স্কুলের ব্যাগ নিয়ে বাসায় এসেছে। সেই ব্যাগ নিশ্চয়ই ভিজে একাকার। দেখা গেল সত্যি তাই। তার আম্মু তাকে একটু বকা দিয়ে বইগুলো ফ্যানের নিচে শুকাতে দিলেন। কিন্তু দেখা গেল গণিত বইটা ভিজে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। রাহাতের এত মন খারাপ হলো যে সে কেঁদেই ফেলল। তার আম্মু বললেন, "ঠিক আছে আর কাঁদতে হবে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এর ওয়েবসাইট (www.nctb.gov.bd) থেকে তোমার গণিত বই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করিয়ে বাঁধাই করিয়ে দেবো। নতুন একটা বই পেয়ে যাবে!" সত্যি সত্যি আম্মু সেটা করে দিলেন। রাহাত এক ঘণ্টার মধ্যে নতুন একটা বই পেয়ে গেল।

ঘটনা২: দুই বন্ধুকে জরুরি কাজে একটা জায়গায় যেতে হবে। মুশকিল হলো সেখানে তাদের পরিচিত কেউ আগে যায়নি, সেখানে যাওয়ার রাস্তা আছে কি না সেটাও জানা নেই। হঠাৎ তাদের মনে পড়ল ইন্টারনেটে গিয়ে সেই জায়গাটার ম্যাপটা তারা দেখতে পারে! কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা জায়গাটার খুঁটিনাটি সব কিছু দেখতে পেল, একটা বিলের পাশ দিয়ে ছোটো একটা রাস্তা ধরে তারা যেতে পারবে। দুজন পরদিন সেখানে পৌঁছে গেল।

ঘটনা ৩: ট্রেনে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তার দুই মেয়ে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তার সামনের সিটে বসেছে একজন বিদেশি। যেতে যেতে দুজন কথা বলছে। কথা প্রসঙ্গে বিদেশি মানুষটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে পারল। সে বলল, "তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটি আমার জানার খুব ইচ্ছা, কোনো বই কি পাওয়া যাবে?" যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বললেন, "অবশ্যই! আমি ইন্টারনেটের একটা লিংক দিই। সেখানে তুমি সব পেয়ে যাবে।" বিদেশি মানুষটি লিংক নিয়ে তখনই তার ল্যাপটপে বসে গেল, দুই মিনিটের মধ্যে সে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস পড়তে শুরু করল।
ঘটনা ৪: স্কুলে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলি "আমি টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল" গানটির সাথে নাচবে। কিন্তু মুশকিল হলো তাদের বাসায় এই গানের ক্যাসেট বা সিডি কিছুই নেই। মিলির খুব মন খারাপ। সে আশা প্রায় ছেড়েই দিচ্ছিল। তখন তার স্কুলের শিক্ষিকা রওশন আরা বললেন, "মিলি, তোমার কোনো চিন্তা নেই। আমি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে গানটা বের করে এমপিথ্রি (MP3) কপি ডাউনলোড করে নেব!" সত্যি তাই হলো, শিক্ষিকা গানটি ডাউনলোড করে নিলেন, তারপর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিলি সেটার সাথে নেচে সবাইকে মুগ্ধ করে দিল।
ঘটনা ৫: যাঁরা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্যে এই বইটি লিখছেন হঠাৎ করে তাঁদের খেয়াল হলো, এই বইয়ে সুপার কম্পিউটারের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেখানে তো কোনো ছবি নেই। এই বয়সী শিক্ষার্থীদের বইয়ে যদি সুন্দর সুন্দর ছবি না থাকে তাহলে কি তারা বইটি পড়তে আগ্রহী হবে? যাঁরা লিখছেন তাঁরা অবশ্য ছবিটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করলেন না। কারণ, তারা জানেন উইকিপিডিয়া (wikipedia.org) নামে যে বিশাল বিশ্বকোষ আছে, সেখানে একটা না একটা ছবি পেয়েই যাবেন! আসলেও পেয়ে গেলেন-তোমরা নিজেরাই সেটা দেখেছ।
ঘটনা ৬, ঘটনা ৭, ঘটনা ৮... এভাবে আমরা চোখ বন্ধ করে কয়েক হাজার ঘটনার কথা বলতে পারি। তোমরাই বলো, তার কি দরকার আছে? তোমরা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছ ইন্টারনেট হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে পৃথিবীর যাবতীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তোমরা নিশ্চয়ই অবাক হয়ে ভাবছ কোন মানুষটি এত তথ্য এক জায়গায় একত্র করেছে? কেমন করে করেছে? পৃথিবীর যেকোনো মানুষ কেমন করে এই তথ্য ব্যবহার করতে পারে?
| কাজ পুরো শ্রেণি করেকটা দলে ভাগ করে নাও। শিক্ষার ব্যাপারে ইন্টারনেট কীভাবে কাজে লাগানো যায়, একটি দল তার একটি তালিকা তৈরি কর। অন্য একটি দল স্বাস্থ্যের ব্যাপারে-ইন্টারনেট কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার একটি তালিকা কর। আরেক দল কর খেলাধুলার ব্যাপারে কিংবা বিনোদনের ব্যাপার-তারপর সবগুলো তালিকা একত্র করে দেখ কত বড়ো তালিকা হয়েছে |
এর আগের পাঠে ইন্টারনেট দিয়ে কী করা যায়, আমরা সেটা দেখেছি। তোমাদের নিশ্চয়ই জানার কৌতূহল হচ্ছে এটা কেমন করে কাজ করে! আমরা আগেই বলেছি ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীজোড়া কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্ক বলতে আমরা কী বোঝাই বলে দেওয়া দরকার। তোমাদের স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে যদি অনেকগুলো কম্পিউটার থাকে আর সবগুলো কম্পিউটার যদি "সুইচ” নামের একটা যন্ত্র দিয়ে সংযোগ দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে একটা কম্পিউটার অন্য একটা কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে, আর আমরা বলব তোমাদের স্কুলের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং করা আছে। অর্থাৎ তোমাদের স্কুলে একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আছে।
ধরা যাক, তোমাদের স্কুলের পাশে আরেকটা স্কুল আছে, তারা তোমাদের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক দেখে অবাক হয়ে গেল। তখন তারাও তাদের শিক্ষকদের কাছে কম্পিউটারের একটা নেটওয়ার্কের জন্যে আবদার করল। তাদের শিক্ষকরাও তখন তাদের স্কুলে অনেকগুলো কম্পিউটার দিয়ে একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক করে দিলেন। এখন সেই স্কুলের ছেলেমেয়েরাও তাদের একটা কম্পিউটার থেকে আরেকটা কম্পিউটারে সংযোগ করতে পারে।
কয়েক দিন পর তোমরা নিশ্চয়ই টের পাবে যে, তোমরা তোমাদের স্কুলের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পার; কিন্তু পাশের স্কুলের কোনো কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পার না! তোমাদের নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে সেটা করতে ইচ্ছে করে। যদি সেটা করতে হয় তাহলে

তোমাদের স্কুলের নেটওয়ার্ক পাশের স্কুলের নেটওয়ার্কের সাথে জুড়ে দিতে হবে। সেটা জুড়ে দেওয়ার জন্য যেই যন্ত্রটা ব্যবহার করা হবে তার নাম রাউটার। ছবিতে তোমাদের স্কুলের নেটওয়ার্ক কীভাবে পাশের স্কুলের নেটওয়ার্কের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেটা এঁকে দেখানো হয়েছে।
তোমাদের স্কুলের নেটওয়ার্কের সাথে তোমাদের পাশের স্কুলের নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়া হলো, যদি তার সাথে তোমাদের এলাকার কলেজের নেটওয়ার্ক, তার সাথে একটা মেডিকেল কলেজের নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তৈরি হবে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। আর সেটাই ইন্টারনেটের জন্ম রহস্য। ইন্টারনেট শব্দটা এসেছে Interconnected Network কথাটা থেকে। প্রথম শব্দ Interconnected এর Inter দ্বিতীয় শব্দ Network এর Net মিলে তৈরি হয়েছে Internet! ১৯৬৯ সালের প্রথম ইন্টারনেটে ছিল মাত্র চারটি কম্পিউটার-এখন রয়েছে কোটি কোটি কম্পিউটার!!
| কাজ (পাঠ-২) তোমার বইয়ের ছবিতে দুটি নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মনে কর আরও দুটি নেটওয়ার্ক আছে তুমি সেগুলো ছবি এঁকে জুড়ে দাও । |

এই খেলাটি খেলার জন্য একজন হবে রাউটার।
কয়েকজন হবে সুইচ, অন্য সবাই কম্পিউটার।
প্রত্যেকটা কম্পিউটারের একটা করে নম্বর দেওয়া হবে।
সুইচগুলোর নাম হবে লাল, নীল, সবুজ এরকম।
লাল সুইচের সাথে কয়েকজন কম্পিউটার মিলে হবে লাল নেটওয়ার্ক।
সেরকম নীল সুইচের সাথে কয়েকজন কম্পিউটার মিলে নীল নেটওয়ার্ক, সবুজের সাথে মিলে হবে সবুজ নেটওয়ার্ক।
এক সুইচ অন্য সুইচের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবে না, যদি করতে হয় সেটা করবে রাউটারের মাধ্যমে।
এখন কম্পিউটাররা অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ শুরু কর।
যে কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে চাও একটা কাগজে সেটা লিখ (যেমন, সবুজ ১৩, কিংবা লাল ৭), কাগজটা তোমার নেটওয়ার্কের সুইচকে দাও।
সুইচ যদি দেখে সেটা নিজের নেটওয়ার্কের তাহলে সাথে সাথে তাকে দিয়ে দেবে। যদি দেখে সেটা অন্য নেটওয়ার্কের তাহলে কাগজটা দেবে রাউটারকে।
রাউটার সেটা দেবে সেই নেটওয়ার্কের সুইচকে।
সুইচ দেবে তার কম্পিউটারকে।
তোমরা কত দ্রুত এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পার, পরীক্ষা করে
আমরা দেখেছি ইন্টারনেট হচ্ছে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। আর এভাবে অসংখ্য কম্পিউটার একটা আরেকটার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যখন কম্পিউটারের সাথে কম্পিউটারের যোগাযোগ হয়ে যায় তখন সবাই নানাভাবে সেই সুযোগটা গ্রহণ করতে চায়। সবচেয়ে সহজ সুযোগ হচ্ছে নিজের তথ্য অন্যের সামনে তুলে ধরা। আর সেটা করার জন্য যে ব্যবস্থাটা নেওয়া হয়, তাকে বলে ওয়েবসাইট। কেউ যদি কারও কাছ থেকে তথ্য নিতে চায়, তাহলে তার ওয়েবসাইটে যেতে হয়। সেখানে সব তথ্য সাজানো থাকে।
যেরকম একটা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিভাগগুলোর নাম লিখে দেয়, ভর্তি হতে হলে কী করতে হয় লিখে দেয়, শিক্ষকদের নাম, তারা কী নিয়ে গবেষণা করেন সেগুলোও লিখে দেয়।
যারা ওয়েবসাইট তৈরি করে তারা চেষ্টা করে যেন প্রয়োজনীয় সব তথ্য খুব সুন্দরভাবে সাজানো থাকে। সেখান থেকে তথ্য যেন সহজে নেওয়া যায়। তোমরা ইচ্ছে করলে খবরের কাগজের ওয়েবসাইটে গিয়ে খবর পড়তে পারবে, সংগীতের ওয়েবসাইটে গিয়ে গান শুনতে পারবে, ছবির ওয়েবসাইটে গিয়ে ছবি দেখতে পারবে।
যারা ব্যবসা করে তারা তাদের পণ্যগুলোর তথ্য ওয়েবসাইটে দিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানের খবর দেয়। আজকাল ওয়েবসাইট থেকে জিনিসপত্র কেনাবেচা করা যায়। প্রত্যেকটা ওয়েবসাইটের একটা সহজ নাম থাকে, তোমরা সেই নাম দিয়ে ওয়েবসাইটকে খুঁজে বের করতে পারবে। ওয়েবসাইটকে যেন সহজে খুঁজে বের করা যায়, সেজন্যেও ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ ধরনের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তোমার জন্যে সেই কাজ করে দেবে। তার নাম হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন। আমরা পরের পাঠে সেটা সম্পর্কে আরও ভালো করে জানব।


| কাজ মনে কর, তোমরা তোমাদের স্কুলের একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাও। তাহলে সেখানে কী কী তথ্য রাখতে চাও? চার-পাঁচজনের দলে ভাগ হয়ে একটি তালিকা তৈরি করে শ্রেণিতে উপস্থাপন কর। |
ওয়েব ব্রাউজার: ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট দেখার জন্যে দুটো জিনিসের দরকার; (১) তোমার কম্পিউটারের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ (২) ওয়েব খুঁজে বের করে তার থেকে তথ্য আনতে পারে, সে রকম একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
ইন্টারনেটকে অনেকটা কাল্পনিক জগতের মতো মনে কর, ওয়েবসাইটগুলো যেন সেই কাল্পনিক জগতের তথ্যভাণ্ডারের ঠিকানা! কেউ যদি ওয়েবসাইটগুলো দেখে তাহলে তার মনে হবে, সেটা যেন কাল্পনিক জগতে ঘুরে বেড়ানোর মতো। ইংরেজিতে যেটাকে বলে ব্রাউজিং। তাই ওয়েবসাইট দেখার জন্য যে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে, সেটার নাম দেওয়া হয়েছে ব্রাউজার। এই মুহূর্তে যে ব্রাউজারগুলো বেশি ব্যবহৃত হয় সে গুলো হচ্ছে- মজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, অপেরা, মাইক্রোসফট এজ, সাফারি ইত্যাদি।

ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়ানোর জন্যে বা কম্পিউটারের ভাষায় ওয়েব ব্রাউজ করার জন্যে একটা ব্রাউজার ব্যবহার করার কাজটি অসম্ভব সোজা। তোমাকে কেবল ব্রাউজার আইকনটিকে দুবার ক্লিক করে ওপেন করতে হবে। সেখানে আগে থেকে কোনো ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া থাকলে সেই ওয়েবসাইটটি শুরুতে আপনাআপনি খুলে যাবে। এখন তুমি যে ওয়েবসাইটে যেতে চাও সেটা নির্দিষ্ট জায়গায় লিখতে হবে। প্রত্যেকটা ব্রাউজারের ওয়েবসাইটের ঠিকানা লেখার জন্য ওপরে একটা জায়গা আলাদা করা থাকে (সেটাকে বলে এড্রেস বার)। সেখানে লেখা শেষ হলে Enter বাটন চাপ দিতে হবে-আর কিছুই না! তোমার ইন্টারনেট সংযোগ কত ভালো তার ওপর নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি ওয়েবসাইট তোমার চোখের সামনে খুলে যাবে।
তুমি যদি প্রথমবার একটা ব্রাউজার ব্যবহার কর তখন তুমি হয়ত ওয়েবসাইটের ঠিকানা জান না বলে কোথাও যেতে পারবে না। তাই তোমাকে কয়েকটা ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিয়ে দেওয়া হলো, তুমি সেগুলো টাইপ করে দেখ:
বাংলাদেশ জাতীয় ওয়েব পোর্টাল: www.bangladesh.gov.bd
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য: www.parjatan.gov.bd
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর দেখার জন্য: www.liberationwarmuseum.org
নাসার ওয়েবসাইট দেখার জন্য: www.nasa.gov
উপগ্রহ থেকে কোন এলাকা কেমন দেখায় তা জানার জন্য: maps.google.com
তবে মনে রেখো, এই ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা টাইপ করলে তুমি ওয়েবসাইটে হাজির হবে। কিন্তু ওয়েবসাইটে তথ্যগুলো কিন্তু নানা স্তরে সাজানো থাকে-তোমাকে সেগুলো খুঁজে নিতে হবে!
| কাজ ওয়েবসাইট থেকে বাংলাদেশের দশটি দর্শনীয় স্থানের নাম খুঁজে বের কর, নাসার ওয়েবসাইট থেকে সাতটি গ্রহের হবি খুঁজে বের কর। তোমার উপজেলা/থানার ম্যাপটি খুঁজে বের কর। |
ইন্টারনেটে যেহেতু অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে এবং হতে পারে কিছু কিছু ওয়েবসাইট তোমার খুব প্রিয় হয়ে যাবে। তুমি হয়ত মাঝে মাঝেই সেই ওয়েবসাইটে যেতে চাইবে-প্রত্যেকবারই যেন ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখতে না হয় সেজন্যে প্রিয় ওয়েবসাইটের ঠিকানা ব্রাউজারকে শিখিয়ে দেওয়া যায়। ব্রাউজার সেগুলো মনে রাখবে এবং তুমি চাইলেই তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবে।
সার্চ ইঞ্জিন: তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, ইন্টারনেট একটা বিশাল ব্যাপার, সেখানে আছে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার এবং হাজার হাজার ওয়েবসাইট। সব ওয়েবসাইট যে ভালো তা নয়। অনেক ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে অবহেলায়, অনেক ওয়েবসাইট হয়তো তৈরি হয়েছে খারাপ উদ্দেশ্যে। যেহেতু ইন্টারনেটের কোনো মালিক নেই, এটি চলছে নিজের মতো করে। তাই তুমি যদি ইন্টারনেটে নিজে নিজে তথ্য খুঁজতে যাও তুমি কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে যাবে। মনে হবে তুমি বুঝি গোলক ধাঁধার মাঝে আটকে গেছ! তাই যখন কোনো তথ্য খোঁজার দরকার হয় তখন আমাদের বিশেষ এক ধরনের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সাহায্য নিতে হয়। এই সফটওয়্যারগুলোর নাম সার্চ ইঞ্জিন। এগুলো তোমার হয়ে তোমার যেটা দরকার সেটা খুঁজে দেবে। এই মুহূর্তে পৃথিবীর জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলো হচ্ছে
গুগল
www.google.com
ইয়াহু
www.yahoo.com
বিং
www.bing.com
এগুলো ব্যবহার করাও খুব সোজা। প্রথমে ব্রাউজারটি ওপেন করে সেটার এড্রেসবারে যে সার্চ ইঞ্জিনটি ব্যবহার করতে চাও তার ঠিকানাটি লিখ। তারপর এন্টার চাপ দাও, সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিন চলে আসবে। সব সার্চ ইঞ্জিনেই তুমি যেটা খুঁজতে চাইছ সেটা লেখার জন্যে একটা জায়গা থাকে। তোমার সেখানে কাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তুর নামটি লিখতে হবে। তারপর এন্টার চাপ দিলেই যে যে ওয়েবসাইটে তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি থাকতে পারে তার একটা বিশাল তালিকা চলে আসবে। এখন তুমি তালিকার একটি একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখ আসলেই তুমি তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি পাও কি না। যদি না পাও, তাহলে আরেকটা ওয়েবসাইটে খুঁজে দেখ!


কাজ
কোনো একটি সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তালিকা বের করে তোমার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো দেখ। সেটার ওপর ভিত্তি করে একটা প্রতিবেদন লিখ।
|
১. পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত এক বিশাল নেটওয়ার্ক এর নাম-
ক. মোবাইল নেটওয়ার্ক
খ. ল্যান্ডফোন নেটওয়ার্ক
গ. ইন্টারনেট
ঘ. হাইপারলিংক
২. ইন্টারনেট কত সালে শুরু হয়?
ক. ১৯৫৯
খ. ১৯৬৯
গ. ১৯৭৯
ঘ. ১৯৮৯
৩. ইন্টারনেট থেকে নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করতে কী ব্যবহার করতে হয়?
ক. ওয়েব ব্রাউজার
খ. সার্চ ইঞ্জিন
গ. হাইপারলিংক
ঘ. ই-মেইল
৪. তথ্যের মহাসরণি কাকে বলা হয়?
ক. ই-মেইল
খ. মোবাইল ফোন
গ. ইন্টারনেট
ঘ. ল্যান্ডফোন
৫. ইন্টারনেটকে Interconnected Network বলার কারণ হচ্ছে-
i. এটি বিশ্বব্যাপী অসংখ্য কম্পিউটারের সাথে যুক্ত
ii. এর মাধ্যমে বিশ্বের অসংখ্য ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ সম্ভব
iii. এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. i ও ii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত শিক্ষার্থী দীপা দীর্ঘদিন পর মা-বাবার সাথে বাংলাদেশে আসে। আসার আগে তার শিক্ষক তাকে 'বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান' সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখে পাঠাতে বলেন।
৬. দীপা বাসায় বসে দ্রুত ও সহজে বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে কীভাবে তথ্য পেতে পারে?
ক. খবরের কাগজ পড়ে
খ. বাংলাদেশ বিষয়ক বইপত্র পড়ে
গ. মোবাইল ফোনের মাধ্যমে
ঘ. ইন্টারনেটের মাধ্যমে
৭. দীপা তার শিক্ষকের কাছে কোন মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিবেদনটি পাঠাতে পারে?
ক. ডাকযোগে
খ. ফ্যাক্সের মাধ্যমে
গ. ই-মেইলের মাধ্যমে
ঘ. মোবাইল ফোনে
Read more