
এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কী তা বর্ণনা করতে পারব;
- উপাত্ত আর তথ্যের মধ্যে পার্থক্য কী তা উদাহরণসহ বর্ণনা করতে পারব;
- কোথায় কোথায় তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে তা বর্ণনা করতে পারব;
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- নিজের স্কুলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে একটা পোস্টার তৈরি করতে পারব
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সামি অনেকদিন পর দাদাবাড়ি বেড়াতে গেছে। সামিকে পেয়ে দাদা-দাদি খুব খুশি। কিন্তু হঠাৎ করে দাদি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। দাদিকে হসপিটালে ভর্তি করাতে হবে কিন্তু হাতে টাকা নেই। অবশ্য তার সাথে ব্যাংক কার্ড রয়েছে।
বার্ষিক, শ্রেণি অভীক্ষা, ৪৫, অর্ধ-বার্ষিক, ৪৭, ICT, ১০, বিষয়
শাফিন সম্প্রতি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হয়েছে। তার জন্য তাকে একটি ফর্ম পুরণ করতে হয়েছে। সে সময় তাকে ফর্মের নির্ধারিত: স্থানে নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর ইত্যাদি লিখতে হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ শব্দ দুটি আমাদের খুব পরিচিত। আর প্রযুক্তির অনেক উদাহরণ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। আমরা যখন "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি" কথাটি বলি তখন আমরা কিন্তু বিশেষ একটা বিষয় বোঝাই, সেই বিশেষ বিষয়টি বোঝার জন্যে প্রথমে কয়েকটি ঘটনার কথা কল্পনা করা যাক:
ঘটনা ১: মাসুমের বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়। তার বাবা সাগরে মাছ ধরে সংসার চালান। নৌকা নিয়ে সাগরে যাওয়ার সময় তার বাবা সব সময় ছোটো একটা রেডিও সাথে নিয়ে যান। একদিন মাসুম তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, "বাবা তুমি সব সময় রেডিওটি নিয়ে যাও কেন?" বাবা বললেন, "সাগরে যদি ঝড় বৃষ্টি হয়, সেই খবরটা আমি দ্রুত রেডিওতে পেয়ে যাই।”

ঘটনা ২: নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার কৃষক ইউনুস একদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে 'কৃষি দিবানিশি' অনুষ্ঠানটি দেখছিলেন। সেখান থেকে জানতে পারলেন, স্ট্রবেরি নামে একটা বিদেশি ফল নাকি বাংলাদেশেও চাষ করা সম্ভব। ইউনুস খুবই উৎসাহী একজন কৃষক। তিনি চার মাস খাটাখাটুনি করে তাঁর এক একর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করলেন। খুব ভালো ফলন হলো। এই সুস্বাদু আর পুষ্টিকর ফল বাজারে বিক্রি করলেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায়! তাঁর নতুন একটা জীবন শুরু হলো তখন থেকে।
ঘটনা ৩: শ্রাবণী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা
দিয়েছে। তার বাবা মা ভেবেছিলেন পরীক্ষার ফলাফল জানতে তাদের স্কুলে যেতে হবে। শ্রাবণী তার বাবা মাকে বলল যে, মোবাইল টেলিফোনের একটা বিশেষ নম্বরে তার রোল নম্বর আর বোর্ডের আইডি লিখে একটা এসএমএস পাঠালেই ফলাফল চলে আসবে। তার বাবা মা প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাইলেন না, কিন্তু যখন এসএমএসটি পাঠালেন সাথে সাথে ফিরতি এসএমএসে শ্রাবণীর ফলাফল চলে এলো। সে জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে। শ্রাবণীর খুশি দেখে কে !

ঘটনা ৪: এই বছর জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল "বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ"। রাশেদ ঠিক করল সে অংশগ্রহণ করবে; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অনেক খুঁটিনাটি সে জানে না। কোথায় সে খুঁজে পাবে তা নিয়ে যখন সে চিন্তা করছে তখন তার ইন্টারনেটের কথা মনে পড়ল। একটা কম্পিউটারের সামনে বসে বাবার সহায়তায় ইন্টারনেট থেকে সে মুক্তিযুদ্ধের অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। সেগুলো ব্যবহার করে চমৎকার একটা রচনা লিখে সে প্রতিযোগিতায় পাঠিয়ে দিল।

ঘটনা ৫: ঢাকায় তখন ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে। রিয়া আর অন্তু তাদের বাবার কাছে আবদার করল যে তারা খেলা দেখবে। বাবা অনেক চেষ্টা করেও টিকিট জোগাড় করতে পারলেন না। তখন হঠাৎ মনে পড়ল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড়ো পর্দায় ক্রিকেট খেলা দেখানো হয়। বাবা খেলার দিন রিয়া আর অন্তুকে নিয়ে সেখানে চলে এলেন। বিশাল বড়ো পর্দায় খেলা দেখতে পেয়ে তাদের মনে হলো বুঝি মাঠে বসেই খেলা দেখছে!
তোমাদের বেশ কয়েকটা ঘটনার কথা বলা হলো। মনে হতে পারে একটা ঘটনার সাথে অন্য ঘটনার কোনো মিল নেই। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই তোমরা বুঝতে পারবে আসলে প্রত্যেকটা ঘটনার মাঝেই একটা মিল রয়েছে। প্রত্যেকটা ঘটনাতেই তথ্যের আদানপ্রদান হয়েছে। মাসুমের বাবা রেডিও থেকে ঝড় বৃষ্টির তথ্য জানতে পারছেন, ইউনুস টেলিভিশনে স্ট্রবেরি চাষের তথ্য পাচ্ছেন, শ্রাবণী মোবাইল টেলিফোনে তার পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, রাশেদ ইন্টারনেট থেকে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য পাচ্ছে আর সবশেষে রিয়া আর অন্তু বড়ো পর্দায় ক্রিকেট খেলার তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। এই তথ্যগুলো দেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই কোনো না কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্য দেওয়া-নেওয়া কিংবা সংরক্ষণ করার যে প্রযুক্তি সেটাই হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি।
তোমরা বুঝতেই পারছ তথ্যের দেওয়া-নেওয়ার এই ব্যাপারটি একদিনে হয়নি। এক সময় মানুষ একজনের সাথে আরেকজন কথা বলেই শুধু তথ্য বিনিময় করতে পারত। তারপর মাটি, পাথর, গাছের বাকলে লিখে তথ্য দেওয়া-নেওয়া শুরু হলো। চীনারা কাগজ আবিষ্কার করার পর হতে তথ্য দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। টেলিফোন আবিষ্কার হওয়ার পর তথ্য বিনিময় একটি নতুন জগতে পা দিয়েছিল। তারবিহীন (wireless) তথ্য পাঠানো বা বেতার আবিষ্কারের পর সারা পৃথিবীটাই মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসতে শুরু করে।
আর এখন? সেই ইতিহাস বুঝি বলেই শেষ করা যাবে না।
| কাজ ১. চার-পাঁচজনের দল তৈরি করে এই পাঠের মধ্যে নতুন নতুন কী যন্ত্রপাতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার তালিকা কর। দেখা যাক, কোন দল সবচেয়ে বেশি যন্ত্রের নাম লিখতে পারে। ২. কোন যন্ত্রের কাজ কী অনুমান করে খাতায় লিখ। |
একটা সময় ছিল যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে কেউ চিঠি লিখলে সেই চিঠি যেতে এক থেকে দুই সপ্তাহ লেগে যেত। তার কারণ চিঠিগুলো লেখা হতো কাগজে, খামের ওপর ঠিকানা লিখতে হতো এবং সেই চিঠি জাহাজ, প্লেন বা গাড়িতে করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেত। তারপর সেগুলো আলাদা করা হতো। সবশেষে কোনো না কোনো মানুষ খামের ওপর সেই ঠিকানা দেখে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিত!
এখনো সেরকম চিঠি লেখা হয়। আপনজনের হাতে লেখা একটা চিঠির জন্যে এখনো সবাই অপেক্ষা করে থাকে। কিন্তু কাজের কথা বিনিময় করার জন্যে এখন নতুন অনেক পদ্ধতি বের হয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করে চোখের পলকে মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে চিঠি পাঠাতে পারে। শুধু কি চিঠি? চিঠির সাথে ছবি, কথা, ভিডিও সবকিছু পাঠানো সম্ভব। বলতে পারো পুরো পৃথিবীটা একেবারে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। একটা গ্রামে যেরকম একজন মানুষ আরেকজনের সাথে যখন খুশি যোগাযোগ করতে পারে; ঠিক সেরকম পুরো পৃথিবীটাই যেন একটা গ্রাম, সবাই সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। সেটা বোঝানোর জন্যে গ্লোবাল ভিলেজ (global village) বা বৈশ্বিক গ্রাম নামে নতুন শব্দ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে। বাস্তবে পাশাপাশি না থাকলেও "কার্যত" (virtually) এখন আমরা সবাই পাশাপাশি।
এর সবই সম্ভব হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে। এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপদান করার জন্যে যে প্রযুক্তিটি সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে সেটি হচ্ছে ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স। তাই আমরা অনেক সময় বলি এই যুগটাই হচ্ছে ডিজিটাল যুগ! শুধু তাই না, আমরা বলি আমাদের প্রিয় দেশটাকেই আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করে ফেলব-যার অর্থ একেবারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সব মানুষের জীবন সহজ করে দেবো, সবার দুঃখ দুর্দশা দূর করে জীবনকে আনন্দময় করে দেবো।

তোমরা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছ প্রযুক্তি বলতে আমরা কী বোঝাই। বিজ্ঞানের তথ্যের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা নানা রকম যন্ত্রপাতি আর কলাকৌশল ব্যবহার করে যখন মানুষের জীবনটাকে সহজ করে দেওয়া হয় সেটাই হচ্ছে প্রযুক্তি।
এখানে তোমাদের কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে-অনেক প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করতে গিয়ে জীবনটাকে অনেক জটিল করে দেয়। অনেক প্রযুক্তি একদিকে মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু অন্যদিকে পরিবেশ নষ্ট করে বিপদ ডেকে আনছে। আবার, অনেক প্রযুক্তি আছে যেটা আমাদের প্রয়োজন নেই, তবুও আমরা সেই প্রযুক্তির জন্যে লোভ করে অশান্তি ডেকে আনি।
| কাজ : ক্লাসের সব শিক্ষার্থী দুই দলে ভাগ হয়ে যাও। এক দল ভালো ভালো প্রযুক্তির কথা বল। অন্য দল বিপজ্জনক প্রযুক্তি, পরিবেশ নষ্ট করে এরকম প্রযুক্তি, আর অপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তির কথা বল। |
একটা সময় ছিল যখন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করত শুধু বড় বড় দেশ কিংবা বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠান। তার কারণ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন হতো কম্পিউটার আর সেই কম্পিউটার তৈরি করা কিংবা ব্যবহার করার ক্ষমতা সবার ছিল না। তখন একটা কম্পিউটার রাখার জন্যে রীতিমতো একটা আস্ত দালান লেগে যেত। তার কার্য ক্ষমতাও ছিল খুব কম। সেই কম্পিউটার একদিকে দেখতে দেখতে ছোট হতে শুরু করেছে; অন্যদিকে তার কার্য ক্ষমতাও বাড়তে শুরু করেছে। তোমরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে এক সময় যে কম্পিউটার কিনতে লক্ষ লক্ষ টাকা লাগত, এখন তার থেকে শক্তিশালী কম্পিউটার তোমার পরিচিতজনের মোবাইল টেলিফোনের ভেতরে আছে ।

কাজেই বুঝতেই পারছ, কম্পিউটার এখন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। যে তথ্যপ্রযুক্তি একসময় ব্যবহার করত শুধু খুব বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠান কিংবা অল্প কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, এখন সাধারণ মানুষও সেটা ব্যবহার করতে শুরু করেছে।
কম্পিউটারের পাশাপাশি নতুন নতুন যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে, কম্পিউটার আর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার জন্যে নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে, যোগাযোগ সহজ করার জন্যে অপটিক্যাল ফাইবার কিংবা উপগ্রহ ব্যবহার করা হচ্ছে, তথ্য দেওয়া-নেওয়া করার জন্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। বাস, ট্রাক চালানোর জন্যে যে রকম রাস্তা বা হাইওয়ে তৈরি করতে হয় ঠিক সেরকম তথ্য দেওয়া নেওয়ার জন্যে ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে তৈরি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে একদিকে যেমন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের তথ্য দেওয়া-নেওয়া সহজ হয়ে গেছে, ঠিক সেরকম পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী মানুষ যে তথ্যটি নিতে পারে, একেবারে সাধারণ একজন মানুষও ঠিক সেই তথ্যটি নিজের জন্যে নিতে পারে। কাজেই বলা যেতে পারে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারা পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার একটা বিপ্লব শুরু হয়েছে। সেই বিপ্লব কোথায় থামবে কেউ বলতে পারে না!
তোমরা সবাই নিশ্চয়ই এতক্ষণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে আমরা কী বোঝাতে চেয়েছি তার একটা ধারণা পেয়ে গেছ। তথ্য দেওয়া-নেওয়া, বাঁচিয়ে রাখা বা সংরক্ষণ করা আবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা, বিশ্লেষণ করা এবং নিজের কাজে ব্যবহার করার প্রযুক্তিই হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি!
| কাজ ১. চার-পাঁচজনের দল করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্যে কী কী প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয় তার একটা তালিকা কর। ২. এই পাঠে যেসব যন্ত্রপাতির কথা বলা হয়েছে তার কোনটি কী কাজে লাগে অনুমান করে লেখার চেষ্টা কর। |
তোমাকে যদি বলা হয় ৯৮, ১০০, ১০০, ৯৬, ৫০ এবং ৯৫, তাহলে তুমি নিশ্চয়ই অবাক হয়ে এই সংখ্যাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকবে এবং কেন তোমাকে এই সংখ্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে বোঝার চেষ্টা করবে। তুমি যতই চেষ্টা কর, তুমি এই সংখ্যাগুলোর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারবে না। কিন্তু তোমাকে যদি বলে দেওয়া হয় এটি হচ্ছে রিমি নামে একটা মেয়ে যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে তার বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর- তাহলে হঠাৎ করে সংখ্যাগুলোর অর্থ তোমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় ।

এখানে ৯৮, ১০০, ১০০, ৯৬, ৫০ এবং ৯৫ হচ্ছে উপাত্ত বা ডাটা (data)। একজনকে যদি শুধু উপাত্ত দেওয়া হয় আর কিছু বলে দেওয়া না হয়, তাহলে এই উপাত্তগুলোর কিন্তু কোনো অর্থ নেই। কিন্তু যখন সাথে সাথে তোমাকে বলে দেওয়া হয় যে এগুলো রিমি নামে একটি মেয়ের পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর, তখন তার একটা অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। উপাত্ত আর প্রেক্ষাপট মিলে একটা তথ্য বা ইনফরমেশন (information) হয়ে যায়! তথ্যকে যদি বিশ্লেষণ করা হয় সেখান থেকে কিন্তু জ্ঞান (knowledge) বের হয়ে আসে। বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষের প্রজ্ঞা (wisdom) তৈরি হয়।
| কাজ: আমরা রিমির এই তথ্য বিশ্লেষণ করে কি কোনো জ্ঞান বের করতে পারব? সাহায্য: তার প্রিয় বিষয় কী? কোন বিষয়টিতে সে দুর্বল? |

তোমরা এর কোনো অর্থই খুঁজে পাবে না। কিন্তু একটু আগে যেরকম অর্থহীন কিছু সংখ্যা দেখেছি সেগুলো আসলে কী- বলে দেওয়ার পর সেগুলো তথ্য হয়ে গিয়েছিল, এখানেও সেটি সম্ভব। তোমাকে যদি বলা হয় এই সংখ্যাগুলো একটা তালিকা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং সেই তালিকাটি হচ্ছে এরকম:

এবার নিশ্চয়ই ওপরের তালিকার উপাত্তগুলোর অর্থ তুমি খুঁজে পেয়েছ। কাজেই আমরা বুঝতে পারছি, উপাত্তের সাথে যদি কোনো ঘটনা বা প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতির সম্পর্ক থাকে তখন সেগুলোর অর্থ বোঝা যায়, আমরা সেটা ব্যবহারও করতে পারি, তখন সেটা হচ্ছে তথ্য। কম্পিউটার ও তথ্য বিজ্ঞান অনুসারে বলা যায় যে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ফলে প্রাপ্ত ফলাফলকে ইনফরমেশন বা তথ্য বলা হয়। যেমন কোনো ছাত্রের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর হল ডেটা, কিন্তু তার সকল বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর হিসাব করে তৈরি করা প্রোগ্রেস (progress) রিপোর্ট হচ্ছে ইনফরমেশন। ডেটাকে প্রসেস করেই ইনফরমেশন পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রসেসিং পরবর্তী ডেটার অর্থবহ রূপকে ইনফরমেশন বলে। ইনফরমেশন নির্ভুল, স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, অর্থবহ ও প্রয়োজনীয় হওয়া দরকার। ডেটাকে প্রসেস করার জন্য কম্পিউটার বা অন্য কোন প্রসেসিং সিস্টেম ব্যবহৃত হতে পারে।

| কাজ ১. একটা কাগজে কোনো উপাত্ত লিখে তোমার বন্ধুকে দাও। তাকে অনুমান করতে বল, এই উপাত্তগুলোর অর্থ কী! সে যদি অনুমান করতে না পারে তাহলে সে তোমাকে দশটা প্রশ্ন করতে পারবে। প্রশ্নগুলো এমন হতে হবে যেটা তুমি উত্তর দেবে শুধু "হ্যাঁ" কিংবা "না" বলে। ২. তোমার নিজের সম্পর্কে সকল তথ্যের একটা তালিকা কর। |
তোমরা যদি আগের দুটো পাঠ মন দিয়ে পড়ে থাক তাহলে নিশ্চয়ই এতক্ষণে জেনে গেছ যে, আমরা খুব সৌভাগ্যবান। কারণ ঠিক এই সময়টাতে সারা পৃথিবীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে একটা অসাধারণ বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে। আমরা সেই বিপ্লবটাকে ঘটতে দেখছি। সবকিছু পাল্টে যাচ্ছে-আমরা ইচ্ছে করলে সেই নতুন জীবনে বসবাস করতে পারি কিংবা আমরা নিজেরাই পৃথিবীটাকে পাল্টে দেওয়ার কাজে লেগে যেতে পারি। সেটা করতে হলে আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিষয়টা সম্পর্কে জানতে হবে, কীভাবে সেটা আমাদের জীবনটাকে পাল্টে দিচ্ছে বুঝতে হবে এবং যখন তোমরা বড়ো হবে তখন বিজ্ঞানী কিংবা প্রযুক্তিবিদ হবে, নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করে আমাদের দেশ এবং পৃথিবীকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জগতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এবার একটি খুব সহজ প্রশ্ন করা যাক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই উন্নতির কারণে আমাদের জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে? তোমরা নিশ্চয়ই অনেক চিন্তাভাবনা করে সেই ক্ষেত্রগুলো বের করার চেষ্টা করছ। কেউ নিশ্চয়ই বলবে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, কেউ বলবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে আবার কেউ বলবে বিনোদনের ক্ষেত্রে। কিন্তু সত্যিকারের উত্তরটি কী? সত্যিকারের উত্তর হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তির এই উন্নতির কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে সেটি কেউ বলে শেষ করতে পারবে না। তোমার পরিচিত অপরিচিত জানা অজানা সবক্ষেত্রে এটি বিশাল পরিবর্তন করে ফেলতে পারবে। তাহলে তুমি বলে শেষ করবে কেমন করে? সত্যি কথা বলতে কী পরিবর্তনের ক্ষেত্রগুলো কী কী সেটা নির্ভর করবে মানুষের সৃজনশীলতার ওপর। যে মানুষ যত সৃজনশীল সে তত বেশি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতে পারবে।
তার কারণটি কী জান? তার কারণ হচ্ছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিয়ে আমরা কেবল তথ্যের আদান-প্রদান করি না। আমরা তথ্যগুলো বিশ্লেষণ বা প্রক্রিয়াও করি আর সেই কাজ করার জন্যে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। কম্পিউটার একটি অসাধারণ যন্ত্র, সেটা দিয়ে সম্ভব-অসম্ভব সব কাজ করে ফেলা যায়।
একসময় কম্পিউটার বলতেই সবার চোখের সামনে টেলিভিশনের মতো একটা বড়ো মনিটর, বাক্সের মতো সিপিইউ আর কি-বোর্ডের ছবি ভেসে উঠত। এখন সেটা ছোটো হয়ে ল্যাপটপ হয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, কম্পিউটার আরও ছোটো হয়ে নোটবুক, ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন পর্যন্ত হয়ে গেছে, আমরা এখন সেগুলো পকেটে নিয়ে ঘুরতে পারি!
সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে যে, কম্পিউটার এখন এত ছোটো করে তৈরি করা সম্ভব যে, আমাদের মোবাইল ফোনের ভেতরেও সেটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজেই আগে আমরা যে কাজগুলো শুধুমাত্র কম্পিউটার দিয়ে করতে পারতাম সেগুলো আমরা এখন মোবাইল টেলিফোন দিয়েও করতে পারি! এমনকি আমরা মোবাইল টেলিফোন দিয়ে ইন্টারনেটে পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতে পারি।
এবার আমরা আগের বিষয়টিতে ফিরে যাই, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে পারি? এবার আমরা পরিবর্তিত ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে জানব:
ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে যোগাযোগ: শুধু মোবাইল ফোন দিয়েই আমরা আজকাল একে অন্যের সাথে অনেক বেশি যোগাযোগ করতে পারি। তার সাথে এসএমএস, ই-মেইল, চ্যাটিং এমনকি সামাজিক যোগাযোগ যদি বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাব যোগাযোগের বেলায় একটা অনেক বড়ো পরিবর্তন এসেছে। সবটুকুই যে ভালো তা কিন্তু নয়-নতুন প্রজন্মের কেউ কেউ এই ব্যাপারে বেশি সময় নষ্ট করছে, কেউ কেউ মনে করছে এই যোগাযোগটি বুঝি সত্যিকারের সামাজিক যোগাযোগ। কাজেই এগুলোতে বেশি নির্ভরশীল হয়ে কেউ কেউ খানিকটা অসামাজিকও হয়ে যেতে পারে।

বিনোদন: এখন বিনোদনও অনেকখানি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে। বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে কম্পিউটার গেম খেলায় পর্যন্ত এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। ক্রিকেট বা ফুটবল খেলাতে এই প্রযুক্তি কত চমৎকারভাবে ব্যবহার করা হয় আমরা সবাই সেটি দেখেছি। খেলার মাঠে না গিয়েও ঘরে বসে আমরা অনেক বড়ো বড়ো খেলা খুব নিখুঁতভাবে দেখতে পারি।
বিনোদনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করার বিষয়ে আমাদের একটু সতর্ক থাকার ব্যাপার আছে। একটি ছোটো শিশুর শরীরটাকে ঠিকভাবে গঠন করার জন্যে মাঠে ছোটাছুটি করে খেলতে হয়। অনেক জায়গাতেই দেখা যায়, বাবা মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের মাঠে ছোটাছুটি না করিয়ে ঘরে কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় বিনোদনে ডুবে থাকতে দিচ্ছেন! সত্যিকারের খেলাধুলা না করে শিশুরা কম্পিউটারের খেলায় মেতে উঠছে। একটা শিশুর মানসিক গঠনের জন্যে সেটা কিন্তু মোটেও ভালো নয়। সারা পৃথিবীতেই কিন্তু এই সমস্যাটি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।

| কাজ কম্পিউটার গেম খেলার পক্ষে পাঁচটি এবং বিপক্ষে পাঁচটি যুক্তি লিখ। |
আগের পাঠে আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটির (Information and Communication Technology-ICT) এমন দুটি উদাহরণ দিয়েছি যেগুলো আমরা সবাই জেনে হোক না জেনে হোক কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করেছি। এই পাঠে আমরা আরও নতুন কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জানব।
শিক্ষাক্ষেত্র: একজন শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে আনন্দের ধ্বনি কী বলতে পারবে? অনেকেই অনেক কিছুই বলতে পারে কিন্তু সবাই জানে স্কুলের শিক্ষার্থীর জন্যে সেটা হচ্ছে ছুটির ঘণ্টা। স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজলে পৃথিবীর সকল স্কুলের শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। যাঁরা শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করে ভাবনা করেন তাঁরাও সেটা জানেন। তাই সব সময় চেষ্টা করেন কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনটা একটু হলেও বেশি আনন্দময় করা যায়। লেখাপড়ার ব্যাপারে যখন আইসিটি ব্যবহার করতে শুরু করা হয়েছে তখন হঠাৎ করে সেই কাজটি সহজ হতে শুরু করেছে। এখন শুধু সারাক্ষণ শিক্ষকের বক্তৃতা শুনতে হবে না, মাথা গুঁজে কোনো কিছু মুখস্থ করতে হবে না। এখন মাল্টিমিডিয়াতে লেখাপড়ার অসংখ্য চমকপ্রদ বিষয় দেখানো যায়, বিজ্ঞানের বিষয়গুলো স্ক্রিনে প্রদর্শন করা যায়, এমনকি পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখে সরাসরি কম্পিউটারে পরীক্ষা দেওয়া যায়। এখন ব্যাগ বোঝাই করে পাঠ্য বই নিয়ে যেতে হয়। কিছুদিন পর আর তার হয়ত প্রয়োজন হবে না। একটা ই-বুক ডিভাইসে (যার মাধ্যমে কোনো পুস্তকের সফটকপি পড়া হয়) শিক্ষার্থীরা শুধু যে তার পাঠ্য বই রাখতে পারবে তা নয়; লাইব্রেরির কয়েক হাজার বই পর্যন্ত রাখতে পারবে।

চিকিৎসা: আজকাল আইসিটি ব্যবহার না করে চিকিৎসার কথা কল্পনাও করা যায় না। আগে কারও অসুখ হলে ডাক্তাররা রোগীর নানা ধরনের উপসর্গ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে রোগ নির্ণয় করতেন। এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়। শুধু তাই নয়, কেউ যদি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়, তখন তার সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে তার চিকিৎসার বিভিন্ন খুঁটিনাটি আইসিটি ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। দূর থেকে টেলিফোন ব্যবহার করেও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যায়। সেটার নাম দেওয়া হয়েছে টেলিমেডিসিন, যেটা আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞান ও গবেষণা: সম্ভবত আইসিটির সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বিজ্ঞানে ও গবেষণায়। আইসিটির কারণে এখন বিজ্ঞানীরা গবেষণার অনেক জটিল কাজ অনেক সহজে করে ফেলতে পারেন। আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরাও যখন পাটের জিনোম বের করেছিলেন তখন তাঁরা আইসিটির ব্যবহার করেছিলেন।

কৃষি: আমাদের দেশ হচ্ছে একটি কৃষিনির্ভর দেশ, আধুনিক উপায়ে চাষ করে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আইসিটি ব্যবহারের ফলে আমাদের দেশের চাষিরা কৃষিতে সুফল পাচ্ছে। রেডিও টেলিভিশনে কৃষি নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে, ইন্টারনেটে কৃষির ওপর ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে, এমনকি চাষিরা মোবাইল ফোনে কৃষি কল সেন্টারে ফোন করেও কৃষি সমস্যার সমাধান পেয়ে যাচ্ছে।

ইন্টারনেট ব্যবহার করে কৃষি নিয়ে সমস্যার সমাধান পেয়ে যাচ্ছে চাষিরা
পরিবেশ আর আবহাওয়া: আমাদের দেশে এক সময় ঘূর্ণিঝড়ে অনেক মানুষ মারা যেত। ১৯৭০ সালে প্রলয়ংকরী একটা ঘূর্ণিঝড়ে এই দেশে প্রায় ৫ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল। বাংলাদেশে এখন ঘূর্ণিঝড়ে আগের মতো এতবেশি মানুষ মারা যায় না; তার কারণ আইসিটি ব্যবহার করে অনেক আগেই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। আবার রেডিও টেলিভিশনে উপকূলের মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া যায়।

| কাজ ১. এই পাঠে যে বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে যে কয়টি তুমি কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করেছ তার একটি তালিকা তৈরি কর। ২. শিক্ষায় আর কোন কোন ক্ষেত্রে আইসিটি ব্যবহার করা যায় তার একটি তালিকা তৈরি কর। |
আইসিটির ব্যবহারের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। তোমাদের পারিবারিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে এ রকম আরও কয়েকটি ব্যাপার সম্পর্কে বলা যাক।
প্রচার ও গণমাধ্যম: রেডিও, টেলিভিশন, খবরের কাগজ বা অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে আমরা বলি প্রচার ও গণমাধ্যম। এই বিষয়গুলো আজকাল অনেক উন্নত হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের যেকোনো খবর শুধু যে মুহূর্তের মধ্যে আমরা পেয়ে যাই তা নয়-তার ভিডিওটিও দেখতে পাই! এই ব্যাপারগুলো সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আইসিটির কারণে।

প্রকাশনা: আমাদের দেশের স্কুলের ছেলেমেয়েদের সরকার থেকে প্রতিবছর নতুন বই দেওয়া হয়। এই নতুন বইয়ের সংখ্যা প্রায় পঁয়ত্রিশ কোটি। এই বিশাল সংখ্যক বই ছাপানো শুধু যে নির্ভুল আর আকর্ষণীয় করে বই ছাপানো যায় তাই নয়, বইগুলো ওয়েবসাইটে রেখেও দেওয়া যায়; যেন যে কেউ সেগুলো ডাউনলোড করে নিতে পারে। যেমন- এনসিটিবির ওয়েবসাইট (www.nctb.gob.bd) থেকে সকল পাঠ্যপুস্তকের সফটকপি বা ই-বুক ভার্সন পাওয়া যায়।
ব্যাংক: একটা সময় ছিল যখন একজন মানুষকে টাকা তুলতে তার ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায়ই যেতে হতো। এখন আর সেটি করতে হয় না। যে সব ব্যাংক অনলাইন হয়ে গেছে সে সকল ব্যাংকের হিসাবধারী (একাউন্ট হোল্ডার) যে কোনো শাখার অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুবিধা পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, যেখানে এটিএম (Automated Teller Machine) আছে সেখান থেকে ব্যাংক কার্ড দিয়ে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টার যেকোনো সময় টাকা তোলা যায়। ব্যাপারটি আরও সহজ করার জন্যে আজকাল মোবাইল টেলিফোন ব্যবহার করে ব্যাংকিং শুরু হয়ে গেছে।

শিল্প ও সংস্কৃতি: শিল্প ও সংস্কৃতিতেও আজকাল আইসিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। একসময় এক সেকেন্ডের কার্টুন ছবি তৈরি করার জন্য ২৬টি ছবি তৈরি করতে হতো। আইসিটি ব্যবহার করে সেই পরিশ্রম অনেকাংশে কমে গেছে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় এনিমেশন ছবি এমনভাবে তৈরি হয় যে সেগুলোকে সত্যি বলে মনে হয়।

দৈনন্দিন জীবনে আইসিটি:
তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে ছাপ ফেলেছে আইসিটির এরকম কয়েকটি ব্যবহারের কথা বলা হলো; কিন্তু তোমাদের কেউ যেন মনে না করে এর বাইরে বুঝি কিছু নেই। এর বাইরেও আরও অসংখ্য বিষয় রয়েছে। তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি ব্যবহার না হলেও দেশের নানা কাজে কিন্তু আইসিটির ব্যবহার হয়ে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে আইসিটির ব্যবহার হয়। সাধারণত দোকানপাটে যেরকম বেচাকেনা হয়-ইন্টারনেট ব্যবহার করেও সেরকম বেচাকেনা হয় বলে ই-কমার্স নামে একটা নতুন শব্দই তৈরি করা হয়েছে। অতীতে অফিসের কাজে অনেক সময় ব্যয় হতো। এখন আইসিটি ব্যবহার করে অফিসের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সাধারণত সেটাকে বলে ই-গভর্নেন্স। পুলিশ বাহিনী অপরাধী ধরার জন্য ব্যাপকভাবে আইসিটি ব্যবহার করে। দেশের প্রতিরক্ষার কাজে সেনাবাহিনীও আইসিটি ব্যবহার করে। কলকারখানা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এই বিষয়গুলোও আইসিটির ব্যবহার ছাড়া রাতারাতি অচল হয়ে যাবে।

| কাজ ১. এখানে বলা হয়নি সেরকম আর কী কী কাজ আইসিটি ব্যবহার করে করা যায় তার একটা তালিকা তৈরি কর। |
আগের পাঠগুলোতে আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কোথায় কোথায় ব্যবহার করা যায়, তার অনেকগুলো উদাহরণ দিয়েছি। শুধু তাই নয়, তোমাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই উদাহরণগুলোই কিন্তু সব উদাহরণ নয়। এগুলো ছাড়াও আরও অনেক উদাহরণ আছে যার কথা বলা হয়নি। এই পাঠে তোমাদের সাথে ভিন্ন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে, সেটি হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব। আগের পাঠগুলো যারা মন দিয়ে পড়েছে তারা নিশ্চয়ই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্বের ব্যাপারটা নিজেরাই অনুমান করে ফেলছে। যে প্রযুক্তির এতগুলো ব্যবহার রয়েছে সেটা যদি গুরুত্বপূর্ণ না হয় তাহলে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ হবে? শুধু যে অনেকগুলো ব্যবহার রয়েছে তা নয়, প্রত্যেকটা ব্যবহারের বেলাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কিন্তু পুরো ক্ষেত্রটাকেই সম্পূর্ণ নতুন একটা রূপ দিয়ে ফেলতে পারে। সত্যি কথা বলতে কি পৃথিবীটা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, আমরা যদি আমাদের জীবনের কাজকর্মগুলো তথ্য আর যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে না করি, তাহলে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ব। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা আমাদের জীবনটাকে অনেক সহজ করে ফেলতে পারি। আগে যে কাজ করতে দিনের পর দিন লেগে যেত, যে কাজগুলো ছিল নিরস, আনন্দহীন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সে কাজগুলো আমরা চোখের পলকে করে ফেলতে পারি। বাড়তি সময়টুকু আমরা আনন্দে কাটাতে পারি। তাই এই যুগের মানুষ অনেক বেশি কর্মদক্ষ, অনেক কম সময়ে তারা অনেক বেশি কাজ করে ফেলতে পারে ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা যে শুধুমাত্র আমাদের নিজের জীবনটাকে সহজ করতে পারি তা নয়, আমরা কিন্তু আমাদের দেশটাকেও পাল্টে ফেলতে পারি। একসময় মনে করা হতো তেলের খনি, লোহার খনি বা সোনা রূপার খনি কিংবা বড়ো বড়ো কলকারখানা হচ্ছে পৃথিবীর সম্পদ। তাই যে দেশে এগুলো বেশি তারা হচ্ছে সম্পদশালী দেশ। এখন কিন্তু এই ধারণাটা পুরোপুরি পাল্টে গেছে। এখন মনে করা হয় জ্ঞান হচ্ছে পৃথিবীর সম্পদ, আর যে দেশের মানুষজন লেখাপড়া শিখে শিক্ষিত, যারা জ্ঞানচর্চা করে সেই দেশ হচ্ছে সম্পদশালী দেশ। তথ্যের চর্চা আর বিশ্লেষণ থেকে জ্ঞান জন্ম নেয়। তাই যে দেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যকে সংগ্রহ করতে পারে, বিশ্লেষণ করতে পারে সেই দেশ হচ্ছে পৃথিবীর সম্পদশালী দেশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শেখার দরজা সবার জন্য খোলা, তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি এই প্রযুক্তি শিখে নিতে পারব, তত তাড়াতাড়ি আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারব এবং দেশকে সম্পদশালী করে গড়ে তুলতে পারব।

১. কোন আবিষ্কারের ফলে তথ্য বিনিময় একটি নতুন জগতে পা দিয়েছিল?
ক. কম্পিউটার
খ. ল্যান্ডফোন
গ. মোবাইল ফোন
ঘ. অপটিক্যাল ফাইবার
২. কোনটির কারণে পৃথিবী বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে?
ক. কম্পিউটার
খ. ইন্টারনেট
গ. ল্যান্ডফোন
ঘ. মোবাইল ফোন
৩. এটিএম (ATM) কার্ড-এর ব্যবহারের ক্ষেত্র কোনটি-
ক. প্রচার ও গণমাধ্যম
খ. প্রকাশনা
গ. বিনোদন
ঘ. ব্যাংকিং
৪. যোগাযোগ সহজ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে-
ক. ডিজিটাল ক্যামেরা
খ. সিসি টিভি
গ. অপটিক্যাল ফাইবার
ঘ. অনলাইন সংবাদ মাধ্যম
৫. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হলো-
i নতুন নতুন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উদ্ভাবন
ii. পৃথিবীর যেকোনো স্থানে তথ্য পাওয়ার সুবিধা
iii তথ্য বিনিময়ের অবারিত সুযোগ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. i ও ii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
ভালো ফলাফলের জন্য একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ফারজানাকে মাসিক ১০০০.০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করে। বৃত্তির টাকা উঠানোর জন্য ফারজানাকে ঐ ব্যাংকে হিসাব খুলতে হয়। হিসাব খোলার সময় আবেদনপত্রে নাম, জন্ম তারিখ, পিতা ও মাতার নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর ইত্যাদি পূরণ করতে হয়।
৬. ফারজানার হিসাব খোলার সময় আবেদনপত্রে নাম, জন্ম তারিখ, পিতা ও মাতার নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর ইত্যাদিকে কী বলা হয়?
ক. তথ্য
খ. ঘটনা
গ. উপাত্ত
ঘ. প্রেক্ষাপট
৭. ব্যাংক থেকে দ্রুত টাকা তুলতে ফারজানা কোনটি ব্যবহার করবে?
ক. পে-অর্ডার
খ. চেক
গ. ব্যাংক ড্রাফট
ঘ. এটিএম কার্ড
৮. আমাদের দেশের কৃষকরা তাদের সমস্যা সমাধানে তুলনামূলকভাবে বেশি সহায়তা পেতে পারে কোন প্রযুক্তিতে?
ক. রেডিও
খ. মোবাইল
গ. ল্যান্ডফোন
ঘ. টেলিভিশন
৯. ৮ নম্বর প্রশ্নের যে উত্তরটি তুমি পছন্দ করেছ সে উত্তরটি পছন্দ করার কারণ যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।
_______________________________________________________
_______________________________________________________
_______________________________________________________
Read more