প্যাকেট সুইচিং এবং ডেটা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া

Computer Science - ইন্টারনেট টেকনোলজিস (Internet Technologies) - ইন্টারনেট নেটওয়ার্কিং এবং TCP/IP মডেল (Internet Networking and TCP/IP Model)
493

প্যাকেট সুইচিং এবং ডেটা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া

প্যাকেট সুইচিং হলো এক ধরনের ডেটা ট্রান্সমিশন প্রক্রিয়া, যেখানে ডেটা ছোট ছোট প্যাকেটে বিভক্ত করে প্রেরণ করা হয়। ইন্টারনেট এবং অন্যান্য কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তরিত হয়। এই পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তর দ্রুত, কার্যকরী এবং নির্ভরযোগ্য হয়।


প্যাকেট সুইচিং কী?

প্যাকেট সুইচিং হলো এক ধরনের নেটওয়ার্কিং পদ্ধতি, যেখানে ডেটা ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা হয় এবং এই প্যাকেটগুলো স্বাধীনভাবে এক ডিভাইস থেকে আরেক ডিভাইসে প্রেরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটের মধ্যে উৎস (source) ও গন্তব্য (destination) ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে, যা প্যাকেটগুলিকে সঠিকভাবে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সাহায্য করে। প্যাকেট সুইচিং ইন্টারনেটের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।


প্যাকেট সুইচিং এর প্রকারভেদ

১. ডেটাগ্রাম পদ্ধতি (Datagram Packet Switching):

  • এই পদ্ধতিতে প্রতিটি প্যাকেট স্বতন্ত্রভাবে প্রেরণ করা হয় এবং প্রতিটি প্যাকেট নিজস্ব রুট অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রতিটি প্যাকেটের গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ ভিন্ন হতে পারে, এবং এটি কোনও নির্দিষ্ট ক্রমে পৌঁছায় না।

২. ভার্চুয়াল সার্কিট পদ্ধতি (Virtual Circuit Packet Switching):

  • এই পদ্ধতিতে সমস্ত প্যাকেট একটি নির্দিষ্ট রুট বা ভার্চুয়াল সার্কিট দিয়ে প্রেরণ করা হয়। একবার সংযোগ স্থাপনের পর, প্যাকেটগুলো সেই পথ ধরে গন্তব্যে পৌঁছায়, ফলে প্যাকেটগুলির ক্রম ঠিক থাকে।

প্যাকেট সুইচিং এর কাজের প্রক্রিয়া

১. ডেটা প্যাকেটে বিভক্ত করা

  • ডেটা প্রথমে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা হয়, প্রতিটি প্যাকেট ৫০০ থেকে ১৫০০ বাইটের মধ্যে হয়ে থাকে।
  • প্রতিটি প্যাকেটে ডেটার একটি অংশ, উৎস ও গন্তব্য ঠিকানা এবং অনন্য আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকে।

২. প্যাকেট প্রেরণ

  • প্রতিটি প্যাকেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। একেকটি প্যাকেট তার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য আলাদা আলাদা রুট নিতে পারে।
  • প্যাকেটগুলো গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় বিভিন্ন রাউটার এবং সুইচের মাধ্যমে যেতে হয়, যা প্যাকেটের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে।

৩. প্যাকেট পুনর্গঠন

  • প্যাকেটগুলো গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর পর সেগুলো পুনঃসংযোজিত করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটের মধ্যে থাকা আইডেন্টিফিকেশন নম্বর এবং ক্রম অনুসারে পুনর্গঠন করা হয়।
  • যদি কোনো প্যাকেট হারিয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্যাকেটটি পুনরায় পাঠানো হয়, যাতে ডেটা সঠিকভাবে পুনর্গঠন করা যায়।

ডেটা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া

ডেটা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া মূলত প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে। ডেটা ট্রান্সফারের ধাপগুলো নিম্নে বর্ণিত হলো:

১. সংযোগ স্থাপন

  • ব্যবহারকারী যখন কোনও ডেটা অনুরোধ করেন (যেমন ওয়েব পেজ দেখেন), তখন প্রথমে একটি সংযোগ স্থাপন করা হয় এবং ডেটা পাঠানোর অনুমতি পাওয়া যায়।

২. প্যাকেট রাউটিং

  • প্রতিটি প্যাকেট বিভিন্ন রাউটার এবং নেটওয়ার্ক ডিভাইসের মাধ্যমে গন্তব্যস্থলে পৌঁছায়। প্রতিটি রাউটার প্যাকেটটি সঠিক রুটে পরিচালিত করে, যাতে এটি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারে।

৩. প্রোটোকল ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটা প্রেরণ

  • TCP/IP প্রোটোকলের মাধ্যমে প্যাকেটগুলো প্রেরণ ও গ্রহণ করা হয়। TCP (Transmission Control Protocol) গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো সমস্ত প্যাকেট সঠিক ক্রমে রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে এবং কোন প্যাকেট হারিয়ে গেলে পুনরায় প্রেরণ করে।

৪. ডেটা পুনঃসংযোজন এবং প্রদর্শন

  • সমস্ত প্যাকেট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর একত্রিত করা হয় এবং মূল ডেটা পুনর্গঠন করা হয়। এর ফলে ব্যবহারকারী সঠিক তথ্য দেখতে পান।

প্যাকেট সুইচিং এর সুবিধা

  • দক্ষতা: প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ডিভাইস একই সময়ে নেটওয়ার্ক রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে, যা নেটওয়ার্কের ব্যবহারকে আরও কার্যকর করে তোলে।
  • রুটিং নমনীয়তা: প্রতিটি প্যাকেট নিজস্ব রুট নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, যা নেটওয়ার্ক ব্যস্ত হলে বিকল্প পথ অনুসরণ করে।
  • নির্ভরযোগ্যতা: প্যাকেটগুলির আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকার ফলে কোনো প্যাকেট হারিয়ে গেলে সেটি পুনরায় প্রেরণ করা যায়।

প্যাকেট সুইচিং বনাম সার্কিট সুইচিং

বৈশিষ্ট্যপ্যাকেট সুইচিংসার্কিট সুইচিং
ডেটা প্রেরণ পদ্ধতিডেটা প্যাকেটে ভাগ করে প্রেরণ করা হয়নির্দিষ্ট একটি রুট দিয়ে ডেটা প্রেরণ করা হয়
রিসোর্সের ব্যবহারএকাধিক ডিভাইস একই রিসোর্স ভাগ করে ব্যবহার করেনির্দিষ্ট ডিভাইসের জন্য রিসোর্স বরাদ্দ থাকে
গতি এবং নমনীয়তাদ্রুত এবং নমনীয়, প্যাকেটের রুট পরিবর্তনযোগ্যগতি কম এবং রুট নির্দিষ্ট করা থাকে
ব্যবহারইন্টারনেট এবং কম্পিউটার নেটওয়ার্কেটেলিফোন নেটওয়ার্কে

সারসংক্ষেপ

প্যাকেট সুইচিং এবং ডেটা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া ইন্টারনেট যোগাযোগের মূল ভিত্তি। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে ডেটা প্যাকেটে ভাগ করে গন্তব্যস্থলে প্রেরণ করা হয়, যা দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং নমনীয়। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি TCP/IP প্রোটোকলের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি প্যাকেট নিজস্ব রুট নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। এই পদ্ধতি নেটওয়ার্কে ডেটা প্রেরণ সহজ এবং কার্যকর করে তুলেছে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ইন্টারনেট ব্যবহারকে আরও উন্নত করেছে।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...