ইকবাল ঘুম থেকে উঠে দেখল রাস্তাঘাট ভেজা। সে ভাবল, হয়ত রাতে বৃষ্টি হয়েছে। পরে জানা গেল তার অনুমান ভুল। ভারী কুয়াশার কারণে রাস্তাঘাট ভেজা। এভাবে অনুমান হলো মানসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাত সত্ত্বে উপনীত হওয়া। বিভিন্ন যুক্তিবিদ যুক্তিবিদ্যাকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন যুক্তিবিদ্যা হলো যুক্তিবিন্যাসের কলা ও বিজ্ঞান। এরিস্টটল হলো যুক্তিবিদ্যার জনক। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক কালে যুক্তিবিদ্যার প্রয়োগ কৌশল অনেক উন্নত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস।
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের মতে, মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। মানুষের বৈশিষ্ট্য হলো চিন্তন ক্রিয়া। যুক্তিবিদ্যা সেই চিন্তা সংক্রান্ত বিদ্যা। এরিস্টটলকে 'যুক্তিবিদ্যার জনক' বলা হয়। তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন যে, বিচারমূলক চিন্তাপদ্ধতির সমন্বয়ে একটি বিশিষ্ট বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু গড়ে উঠতে পারে। এজন্য এরিস্টটলের সময় থেকেই যুক্তিবিদ্যা নানা রকম পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে বিরতিহীনভাবে এগিয়ে চলেছে। এভাবেই এরিস্টটল ও মধ্যযুগীয় তার্কিক সম্প্রদায়ের নীতিসমূহের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে প্রচলিত যুক্তিবিদ্যা। নির্ভরযোগ্য জ্ঞান আহরণের বিভিন্ন পদ্ধতির আলোচনা দিয়েই যুক্তিবিদ্যার পরিমন্ডল গঠিত। পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ, সংজ্ঞা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, হেত্বাভাস বা ত্রুটির প্রকার, যুক্তির নীতির বিকৃতি এবং অপপ্রয়োগ ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলোর অনুধাবন সঠিক জ্ঞানের জন্য আবশ্যক বলে এগুলোকে যুক্তিবিদ্যা আলোচনা করে। যুক্তিবিদ্যায় বাস্তবধর্মী আকারবাদিতা প্রতিষ্ঠা করেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় রয়েছে তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁকে 'বিজ্ঞ ব্যক্তিদের শিক্ষক' এবং বিশ্বের 'প্রথম শিক্ষক' হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?