Academy

একমাত্র মেয়ে রিমিকে নিয়ে সুমনা ও রেহানের সংসার। ছুটির দিনে রিমিকে নিয়ে তারা বাইরে বেড়াতে যায়। সুমনা তার মেয়েকে সত্য কথা বলা, অন্যকে সহযোগিতা করা, সবার সাথে ভালো আচরণ করার উপদেশ দেয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় রেহান তার মেয়েকে পড়তে বসায়।

উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যাবলি পরিবারের একমাত্র কাজ- তুমি কি এর সাথে একমত? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 1 year ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

পরিবার মানুষের জীবনকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত করে, মানবসমাজের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ঘটায়।

অতীতে কতগুলো মৌলিক কারণে পরিবার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীকালে যুগের পরিবর্তনে বিশ্বায়নের ফলে পরিবারের কার্যাবলিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিনোদনমূলক এবং শিক্ষামূলক কাজগুলো পরিবারের একমাত্র কাজ নয়। এগুলো ছাড়াও পরিবারের আরো কতগুলো কাজ রয়েছে।

পরিবারের অন্যতম কাজ হলো জৈবিক কাজ। সমাজের একমাত্র বৈধ প্রতিষ্ঠান পরিবার যেখানে স্বামী-স্ত্রী যৌন পরিতৃপ্তির মাধ্যমে সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের সুযোগ পায়। অর্থনৈতিক কাজ পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পরিবারের সব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন ও সন্তান লালন-পালনের কাজটি হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক কাজ। স্বামী-স্ত্রীর বসবাস, শিশুর প্রতি পিতামাতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের স্নেহ, ভালোবাসা, মায়া-মমতা, আদর-যত্ন সবই পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের আরেকটি কাজ হচ্ছে শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা ও তার মধ্যে ধর্মীয় চিন্তা- চেতনা তৈরি করে পরিবারের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জীবনযাপনে সাহায্য করা। পরিবারের সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে 'সদস্যরা প্রাথমিক নাগরিকতার অধিকার, দায়িত্ব, কর্তব্য ইত্যাদি সম্বন্ধে সচেতন হতে শিক্ষা পায়। পারিবারিক জীবন থেকে সামাজিক আচার-আচরণ, আদব-কায়দা, মূল্যবোধ, রীতিনীতি ইত্যাদি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা সমাজে চলার যোগ্যতা অর্জন করে। সুতরাং বিনোদনমূলক এবং শিক্ষামূলক কার্যাবলি ছাড়াও পরিবার উপরোক্ত কার্যাবলিসমূহ সম্পন্ন করে থাকে।

1 year ago

বাংলাদেশের বর্তমান পরিবার কাঠামো

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

পরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।

পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে

যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।

নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।

মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।

সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।

যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।

সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।

যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।

পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।

পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...