Academy

রাশিক ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাটচাষের জন্য বিখ্যাত ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর গ্রামে একটি পাট ও পাটজাতশিল্প স্থাপন করেন। তার বন্ধু রাফি সমপরিমাণ বিনিয়োগ করে একই ধরনের শিল্প স্থাপন করলেন রাজশাহী অঞ্চলে যেখানে আখ চাষ বেশি হয়। নির্দিষ্ট সময় পরে রাশিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটি রাফির প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি মুনাফা করে ।

(সৃজনশীল প্রশ্ন)

Created: 3 years ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago

বাংলাদেশের শিল্প

নাফিসের বড় চাচা ছাতক সিমেন্ট কারখানার একজন ইঞ্জিনিয়ার। স্কুলের ছুটিতে নাফিস তার পিতা- মাতা ও ভাইবোনের সাথে চাচার কাছে বেড়াতে গেল। চাচা তাকে এবং তার চাচাত ভাই-বোনদেরকে সিমেন্ট কীভাবে তৈরি হয় দেখাতে নিয়ে গেলেন। নাফিস দেখল সেখানে হাজার হাজার পাথরের সমাবেশ। তার চাচা জানাল প্রতিদিন ভারত সীমান্ত থেকে অগণিত পাথর এখানে আসছে। এ সকল পাথরই হচ্ছে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এ পাথরকে সিমেন্টে রূপান্তরিত করা হয়। ছাতক সিমেন্ট খুব মানসম্পন্ন।

নাফিসের দেখা ছাতক সিমেন্ট কারখানা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকারের শিল্প, এর গুরুত্ব এবং এগুলোর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করব ।

এ অধ্যায়টি শেষে আমরা-

  • কুটির শিল্পের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • বাংলাদেশের কুটির শিল্পের উপযুক্ত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে পারব।
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কুটির শিল্পের উন্নয়নের পথে বাধাগুলো শনাক্ত করতে পারব।
  •  কুটির শিল্প বিকাশের জন্য করণীয় চিহ্নিত করতে পারব।
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব। 
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • দেশের এবং নিজেদের এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উপযুক্ত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে পারব।
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সমস্যাগুলো শনাক্ত করতে পারব ।
  • বৃহৎ শিল্পের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
  • বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় বৃহৎ শিল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্প স্থাপনে অনুপ্রাণিত হব।
Content added || updated By

Related Question

View More

ব্যাপক অর্থে শিল্পকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।  

যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধাসম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে যেসব সেবামূলক কাজ করা হয় তাকে সেবা শিল্প বলে।

সেবা শিল্পকে কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ এই চারভাগে ভাগ করা হয়। এছাড়া এর বিনিয়োগের পরিমাণ উৎপাদনমুখী শিল্পের তুলনায় কম হয়। মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটোমোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফুল চাষ, পর্যটন ও সেবা, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, প্রভৃতি সেবা শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

বিনিয়োগের মাপকাঠিতে রাশিকের ব্যবসায়টি মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।

স্বল্প মূলধন, স্থানীয় কাঁচামাল, সৃজনশীলতা, পরিবারের সদস্যদের কর্মশক্তির ব্যবহার প্রভৃতির সমন্বয়ে মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠে। এ শিল্পের বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে। সীমাবদ্ধ।

উদ্দীপকে জনাব রাশিক ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর গ্রামে একটি পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেন। তার শিল্পে বিনিয়োজিত মূলধনের পরিমাণ ১১ কোটি টাকা। বিনিয়োগের মাপকাঠিতে এটি মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। কারণ মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা হয়। রাশিকের বিনিয়োগের পরিমাণ উক্ত সীমার মধ্যেই আছে। সুতরাং, মূলধনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে রাশিকের ব্যবসায়কে মাঝারি শিল্প হিসেবে অভিহিত করা যায়।

উদ্দীপকে রাশিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে মুনাফা বেশি হওয়ার কারণ হলো কাঁচামালের সহজলভ্যতা বা প্রাচুর্যতা।

কাঁচামালের সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সমজাতীয় শিল্পগুলো বেশি পরিমাণে গড়ে ওঠে। কারণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজলভ্য হলে কম খরচে বেশি পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

উদ্দীপকে রাশিক পাট চাষের জন্য বিখ্যাত ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর গ্রামে একটি পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেন। ফলে তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করা সহজ হয়। এ কাঁচামালের সহজলভ্যতার কারণে রাশিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বেশি মুনাফা অর্জিত হয়।

রাশিকের বন্ধু রাফি রাজশাহী অঞ্চলে পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেন। সেখানে আখের উৎপাদন বেশি হয়। ফলে রাফিকে পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে বেশি সময় ও পরিবহন ব্যয় করতে হয়। তাছাড়া উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামাল না পাওয়ায় রাফির উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। আর খরচ বেশি হওয়ায় তার মুনাফার পরিমাণও কম হয়। এসব কারণেই রাশিক ময়মনসিংহ অঞ্চলে পাট শিল্প গড়ে তুলেছেন; যা তাকে বেশি মুনাফা অর্জনে সহায়তা করেছে।

বিনিয়োগের মাপকাঠিতে শিল্পকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ছাড়াও স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০ জনের বেশি নয় তাকে কুটির শিল্প বলে।

স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটির শিল্প পরিচালিত হয়। ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন ও কারিগরি জ্ঞান নিয়ে সহজেই কুটির শিল্প স্থাপন করা যায়। এরূপ শিল্প স্থাপনের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...