রহিম ও রাশেদ দুই ভাই। রহিম তার জমিতে সারাবছর বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে লাভবান হন। কিন্তু রাশেদ তার জমি থেকে ভালো ফলন পান না। রহিম রাশেদকে মাটির বুনট দেখে ফসল নির্বাচনের পরমার্শ দেন।
অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।
উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।
কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।
উদ্দীপকের রহিম ও রাশেদ ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অর্থাৎ, দুজনেই কৃষি পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
কৃষি হচ্ছে ফসল, গবাদিপশু, মাছ ও বনজ সম্পদ উৎপাদনের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে কৃষির বিভিন্ন খাতের (ফসল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও বন) সমন্বিত অবদান শতকরা ১৪.১০ ভাগ। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ফসল খাতের অবদান অনস্বীকার্য। খাদ্য হিসেবে আমরা চাল, ডাল, গম, শাকসবজি প্রভৃতি গ্রহণ করে থাকি। পাট, তুলা ইত্যাদি বস্ত্র তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হলো বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ। উদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করা হয়। শিক্ষার বিভিন্ন উপকরণ, যেমন- কাগজ, কলম, পেন্সিল ইত্যাদি তৈরি হয় বাঁশ, আখের ছোবড়া, ধানের খড় প্রভৃতি থেকে। বাঁশ, খড়, কাঠ ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া পাট, পাটজাত দ্রব্য, তামাক, চা, তুলা, মাছ, চিংড়ি প্রভৃতি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হচ্ছে।
অতএব বলা যায়, গ্রামীণ অর্থনীতি তথা দেশের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণে কৃষিপেশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।