দৃশ্যকল্প-১ : ১০ নম্বর বিপদসংকেত। উপকূলবর্তী এলাকার একটি গ্রামের মানুষেরা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে আসা বাতাস গ্রামটিকে লন্ডভণ্ড করে দিল।
দৃশ্যকল্প-২ : পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীটিতে শীতকালে পানি না থাকলেও বর্ষাকালে নদীর দুকূল ছাপিয়ে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। তাই লোকজন এ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে উঁচু জায়গায় বাড়িঘর নির্মাণ করেছে।
(ক)
আবহাওয়া কী?
(জ্ঞানমূলক)
আবহাওয়া হলো কোনো একটি অঞ্চলের একদিন বা দিনের বিশেষ সময়ের তাপ, চাপ ও আর্দ্রতা।
'আবহাওয়া' ও 'জলবায়ু' শব্দ দুটি এক বলে মনে হলেও বস্তুত এক নয়। আবহাওয়া হলো কোনো একটি অঞ্চলের এক দিন বা দিনের কোনো বিশেষ সময়ের বাতাসের তাপ, চাপ, আর্দ্রতা। তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ ও গতি, বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ হিসাব করে এটা নির্ধারণ করা হয়। আবহাওয়া প্রতিদিন, এমন কি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বদলাতে পারে, বদলায়ও। অন্যদিকে কোনো অঞ্চলের ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়াকে বলা হয় তার জলবায়ু। তবে কোনো দেশ বা অঞ্চলের জলবায়ু বোঝার জন্য ওই উপাদানগুলো ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক আছে। যেমন দেশটির অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ, সমুদ্র থেকে তার দূরত্ব, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, ভূমির ঢাল, মৃত্তিকার গঠন, বনভূমির পরিমাণ ও অবস্থান প্রভৃতিও জলবায়ুর প্রকৃতি নির্ণয়ের নিয়ামক।
মানুষের জীবনযাত্রা পরিবর্তন এবং ভোগ-বিলাসিতা অথবা উন্নয়নের কারণে জলবায়ু তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারায়। যার দরুণ পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবকে আমাদের মোকাবেলা করতে হয়। এজন্য বাংলাদেশের জলবায়ু, জলবায়ুগত পরিবর্তন, এর প্রভাবের কারণ, প্রভাব ও পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিভিন্ন দুর্যোগ যেমন- ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙ্গন,
- খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্নেডো, কালবৈশাখি প্রভৃতি ব্যাখ্যা করতে পারব;
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allবাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ, অর্থাৎ এখানে শীত বা গ্রীষ্ম কোনোটিই খুব বেশি তীব্র নয়।
বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল শুষ্ক। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে, বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তবে সব এলাকায় সমান বৃষ্টিপাত হয় না। সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়। খৗসুমি বায়ুর প্রভাবে অনেক সময় এদেশে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হয়।
উদ্দীপকের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের হুমকির মুখোমুখি।
পৃথিবী আজ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশে করে বাংলাদেশের মতো যেসব দেশ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থানে আছে, সেসব দেশে এ সমস্যা বহুগুণ বেশি দেখা দিচ্ছে। জলবায় পরিবর্তন হওয়ায় এখন ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না। যেমন- বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। শীতকালে শীত দেরিতে আসছে এবং স্বল্পসময়ে চলে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ বাংলাদেশের জন্য অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে মেরু অঞ্চলের বরফগলা পানি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে দেশের দক্ষিণাংশের নিম্ন অঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই বলা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
উদ্দীপকে পরিবেশের যে বিপর্যয়ের কথা বলা হয়েছে তার জন্য মানুষের কর্মকাণ্ডই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী।
বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ গ্রিনহাউস গ্যাস। বায়ুমণ্ডলে এ গ্যাস অতিরিক্ত মাত্রায় সঞ্চারিত হয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির জন্য মানুষের কাজকর্মই সবচেয়ে বেশি দায়ী। মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইডের রিমাণ সবচেয়ে বেশি। যেমন: বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানবাহনের তেল-গ্যাসের বায়া, ইটের ভাটা প্রভৃতি থেকে এই কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। লে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস সঞ্চারের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এ বারণে জলবায়ুগত পরিবর্তনের হুমকিও মারাত্মক হচ্ছে।
সতরাং বলা যায় যে, মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডই দেশকে বিভিন্ন প্রকৃতিক দুর্যোগের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রচন্ড গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়কে 'টর্নেডো' বলা হয়।
কালবৈশাখি হলো এক ধরনের স্বল্পস্থায়ী ও স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট প্রচণ্ড তসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়।
বাংলাদেশে সাধারণত বৈশাখ মাসে 'কালবৈশাখি ঝড়' বেশি হয়। গ্রীষ্মে কানো স্থানের তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে সেখানকার বাতাস হালকা য় ওপরে উঠে যায়। তখন পাশের অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস বল বেগে এই শূন্যস্থানে ধেয়ে আসে ও ঝড়ের সৃষ্টি করে।ন শিরভাগ সময় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এ ঝড়টা আসে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!