'কুন্তলীনের' সঙ্গে 'কেশলীন' বিক্রি হয়।
ব্যাবসাবাণিজ্যে যে কঠিন পরিশ্রমের দরকার তা আমাদের নেই বলে আমাদের দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস নেই।
বাঙালিরা পরিশ্রমবিমুখ বলে ব্যাবসাবাণিজ্যে যে কঠিন পরিশ্রমের দরকার তা তারা বর্জন করেছে। তাদের দোকানে কেবল নানা প্রকার বিলাসদ্রব্য, নানাবিধ কেশতেল, রোগবর্ধক ওষুধ ও নানা প্রকার পিতলের অলংকার, নকল হীরার আংটি, বোতাম ইত্যাদি মজুদ আছে। যেসব ব্যাবসায় কায়িক পরিশ্রম নেই সেসবই কেবল আমরা বাঙালিরা করে থাকি। এ কারণে আমাদের দোকানে কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস নেই।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বর্ণিত বাঙালির শারীরিক পরিশ্রমে অনীহার বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
বাঙালির মেধা, জ্ঞানের অভাব নেই। এই মেধা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্য যে কর্মশক্তির প্রয়োজন সেটি বাঙালির নেই। তারা মুখে যেটা বলে প্রায় সময়ই সেটা কাজে পরিণত করতে পারে না। এর কারণ তাদের আরামপ্রিয়তা, কর্মবিমুখতা।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, বাঙালি অনুকরণপ্রিয়, আরামপ্রিয়, কর্মবিমুখ। তারা ব্যাবসাবাণিজ্য, কৃষিকাজ অপেক্ষা পাশ বিক্রয়কে অনেক লাভজনক মনে করে। অর্থাৎ যে কাজে শারীরিক শ্রম দিতে হয় না বাঙালি সেই কাজে পারদর্শী। তাই যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তাদের সেই সম্ভাবনা কোনো কাজে আসে না। উদ্দীপকে দেখা যায়, বাঙালি বড় বড় কথা বললেও তা কাজে লাগাতে পারে না। সাহসের অভাব, কর্ম-ইচ্ছার অভাবে বাঙালির এই অধঃপতিত অবস্থা। এ বিষয়টি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধেও বলা হয়েছে।
"উদ্দীপকের প্রত্যাশাই যেন 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের অন্তর্নিহিত ভাব।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জাতি হিসেবে বাঙালি কিছুটা অলস, জড় ও কর্মবিমুখ। তারা কোনো কঠিন কাজ করতে চায় না। পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি নিজ মেধা কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ দেশের প্রভূত উন্নতি সাধন করলেও বাঙালি সেদিক থেকে অনেক পিছিয়ে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালিকে দুর্বল, নিরীহ বলেছেন। বাঙালি নারী, পুরুষ উভয়ই কোমলমতি। তাই পরিশ্রমসাধ্য কোনো কাজ তারা করতে পারে না। এ কারণেই বাঙালির কোনো কথা সহজে কাজে পরিণত হয় না। উদ্দীপকেও এ বিষয়টি লক্ষণীয়। উদ্দীপকে কবি এমন বাঙালি প্রত্যাশা করেছেন যে তার কথাকে কাজে পরিণত করতে পারবে এবং তার মাধ্যমেই সমগ্র দেশের কল্যাণ হবে।
উদ্দীপকে কবি দেশের কল্যাণের জন্য পরিশ্রমী ও সাহসী বাঙালিকে প্রত্যাশা করেছেন। ব। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি চরিত্রের দুর্বলতাগুলো উপস্থাপন করেছেন। তবে এ বৈশিষ্ট্যগুলো উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হয়েছে তিনি কেমন বাঙালি চান। তিনি চান পরিশ্রমী, সাহসী' বাঙালি যারা কাজকে ভয় পাবে না। উদ্দীপকে যে প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়েছে সেটি 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের অন্তর্নিহিত ভাব।
Related Question
View Allশেমিজ জ্যাকেট জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন তাদের আলস্য বা অলসতার জন্য।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির জীবনাচরণের নানা অসংগতিকে কটাক্ষ করেছেন। পুরুষরা আলস্যপ্রিয়। আর নারী অহেতুক রূপচর্চা, পরনিন্দা এবং নিজেকে হীনবল মনে করে গৃহকোণে বন্দি জীবনযাপন করতে বেশি পছন্দ করে। ফলে তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উন্নতি নেই। তাই লেখিকা বাঙালিকে 'মূর্তিমান কাব্য' বলেছেন।
নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে আলোচিত অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পরিশ্রম না করে কেউ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে না। বাঙালির অনগ্রসরতার মূলে রয়েছে তাদের শ্রমবিমুখতা। বাঙালির এ স্বভাব তাদের উন্নতির প্রধান অন্তরায়।
উদ্দীপকে নন্দলালের শ্রমবিমুখতা এবং তার আলস্যভরা জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বাড়ির বাইরে গেলে কোথায় কোন সমস্যায় পড়ে এই ভয়ে সে সব কাজ ফেলে শুয়ে শুয়ে দিন কাটাতে পছন্দ করে। তার এই মূল্যহীন যুক্তি ও অলসতা 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বাঙালির কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি পুরুষদের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা প্রভৃতি নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। পরিশ্রম না করা ও ভোজনপ্রিয়তার ফলে বাঙালি পুরুষদের ভুঁড়িটি সজিনার মতোই স্কুল দেখায়। এভাবে উদ্দীপকের নন্দলালের বৈশিষ্ট্য 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের অলস বাঙালির কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উপেক্ষিত দিকটি হলো বাঙালির আলস্যের প্রতি লেখিকার কঠোর সমালোচনা।
বাঙালি শ্রমবিমুখ, অলস। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেবল আরামপ্রিয়তার কারণেই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি থেকে পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে বাঙালি জাতি পরিশ্রম অপেক্ষা তোষামোদ করতে বেশি পছন্দ করে।
উদ্দীপকে নন্দলালের অজানা কোনো একটা সমস্যা-সংকটের ভয় এবং অলসতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তার এই ভয়, কর্মবিমুখতা বাঙালির মজ্জাগত স্বভাববৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে নন্দলালের আলস্যকে সবাই সমর্থন করলেও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা তাদের কঠোর সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছেন। লেখিকা বাঙালির এমন আরামপ্রিয়তা ও পরিশ্রম না করার দিকগুলোকে নির্বুদ্ধিতা ও অনুচিত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা উদ্দীপকে উপেক্ষিত।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা হাস্যরসের মাধ্যমে বাঙালি পুরুষের কর্মবিমুখতা এবং বাঙালি নারীর দুর্বলচিত্ত ও অহেতুক রূপচর্চা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। লেখিকা দেখিয়েছেন বাঙালির এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো তাদেরকে কতটা নিচুস্তরে নামিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধটির মাধ্যমে লেখিকা বাঙালিকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। অথচ উদ্দীপকে সকলে নন্দলালের উদ্ভট কাজগুলোকে সমর্থন করছে, তার আচরণগুলো পরিবর্তনের জন্য কিছুই বলছে না। ফলে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের উল্লিখিত দিকগুলো উদ্দীপকে উপেক্ষিত হতে দেখা যায়।
মূলত যৌতুক প্রথা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক উক্তিটি করেছেন।
বাঙালিরা আরামপ্রিয় হওয়ার কারণে বর অর্থাৎ ছেলেরা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জনের চেয়ে পাশ বিক্রয় করে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা গ্রহণকে বেশি প্রাধান্য দেয়। যার কারণে ছেলের যত পড়াশোনা যৌতুকের বাজারে তার মূল্য তত বেশি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি বরেরা পাশ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!