আমার দেখা নদী

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

আমার দেখা নদী

ভূমিকা: বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশ জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যে নদী দেখেনি। আমিও নদী দেখেছি। শুধু দেখিইনি, নদীতে সাঁতার কেটেছি, নৌকায় করে ঘুরে বেড়িয়েছি, মাছ ধরেছি। আমার দেখা প্রিয় নদীটি হলো শীতলক্ষ্যা।

শীতলক্ষ্যা নদীর পরিচয়: শীতলক্ষ্যা নদীটি নারায়ণগঞ্জের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে। এ নদীর পাড়েই গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহর। আমাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায়। আমরা প্রতি বছরই দুই-তিনবার গ্রামের বাড়ি যাই। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত- একেক সময় নদীর রূপ একেক রকম।

গ্রীষ্মকালে শীতলক্ষ্যা নদী: গ্রীষ্মকালে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি অনেক কমে যায়। কিন্তু এ নদী কখনো শুকায় না। নদীর দুই পাশে অনেকটা জুড়ে চর পড়ে। আমরা চর পেরিয়ে দুপুর বেলায় নদীতে গোসল করতে যাই। সারা দুপুর আমরা নদীতে সাঁতার কাটি, দাপাদাপি করি। ভেজা শরীর নিয়ে চরের তপ্ত বালিতে শুয়ে থাকি। কিছুক্ষণ পর আবার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। মায়ের কাছে শুনেছি এ নদীতে নাকি আগে কুমির ছিল। কিন্তু এখন আর কুমির দেখা যায় না, শুধু মাঝে মাঝে শুশুক ভেসে উঠতে দেখা যায়। প্রায়ই গ্রামের সাহসী তরুণরা বাজি ধরে সাঁতরে নদী পার হয়। আমরা উৎসুক হয়ে তাদের সে প্রতিযোগিতা দেখি।

বর্ষাকালে শীতলক্ষ্যা নদী: বর্ষাকালে শীতলক্ষ্যা প্রমত্ত হয়ে ওঠে। উজান থেকে ভেসে আসা পানিতে নদী টইটম্বুর হয়ে যায়। তখন গ্রামের সীমা পর্যন্ত পানি উঠে যায়। এসময় নদীটাকে সাগরের মতো মনে হয়। নদীতে প্রচণ্ড ঢেউও থাকে। আমরা নদীতে নামতে সাহস পাই না। যখন আকাশ অন্ধকার করে ঝড় ওঠে তখন নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। নদীর প্রচন্ড ঢেউ তীর ভেঙে রাস্তাঘাট বিনষ্ট করে দেয়। এর মধ্যেই দেখা যায় গ্রামের লোকেরা ডিঙি নৌকায় চড়ে নদী পার হচ্ছে। তাদের মনে যেন কোনো ভয়ডর নেই।

শরৎকালে শীতলক্ষ্যা নদী: শরৎকালে নদীর রূপ যেন ফুটে ওঠে। এসময় নদীর বুকে নীলাকাশের ছায়া পড়ে। তখন নদীটাকে নীল মনে হয়। নদীর দুই পাড়ের চরে কাশফুল ফোটে। কাশবনে বাসা বাঁধে ঘুঘু, ডাহুক, বালিহাঁস প্রভৃতি নানা জাতের পাখি। আমরা শরতের বিকেলে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়ি। তখন নীল আকাশের নিচে নদীতে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে খুবই ভালো লাগে। সন্ধ্যা নামলে নদীর ওপর দিয়ে উড়ে যায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। সে সময়কার অনুভূতি বর্ণনাতীত।

শীতকালে শীতলক্ষ্যা: শীতকালে নদীর দুই পাড়ের চরগুলোতে মিষ্টি আলু, কাঁচামরিচ, ডাল, সরিষা প্রভৃতি চাষ হয়। নদী এসময় একেবারে শান্ত হয়ে যায়। সকাল বেলা নদীটাকে কুয়াশার চাদর ঢেকে রাখে। দুপুর বেলা নদীর শীতল পানিতে গোসল করে আমরা চরে বসে রোদ পোহাই। এসময় নদী থেকে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে।

উপসংহার: নদী একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে। শীতলক্ষ্যা বাংলাদেশের অসংখ্য নদীর একটি। এ নদীও অন্যান্য নদীর মতো বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি শীতলক্ষ্যা নদীকে খুবই ভালোবাসি। এ নদী আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নীরবে মানুষের সেবা করে যেতে হয়।

8 months ago
2.2k

প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।

প্রবন্ধ-রচনার কৌশল

প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-

১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।

২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।

৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।

৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।

৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।

৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সচরাচর দিনের বেলা খোলা আকাশের রং নীল দেখা যায়।

8 months ago
412
উত্তরঃ

রাতের বেলা আকাশের কালো রঙের উপর রূপালি রং ভালো ফোটে; তাই রুপালি চাঁদ আর ঝকঝকে অসংখ্য তারা দেখা যায়।

8 months ago
734
উত্তরঃ

দিন ও রাতে আকাশে রঙে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। দিনের বেলা সাধারণত আকাশ নীল দেখায়। বর্ষাকালে আকাশ ধূসর মেঘে ছেয়ে থাকে। আবার শরৎকালে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। ভোরে ও সন্ধ্যায় সোনালি রঙের বন্যা। অন্যদিকে রাতের আকাশ কালো দেখা যায়। কালো আকাশে ওঠে রুপালি চাঁদ আর অসংখ্য রূপালি তারা।

8 months ago
427
উত্তরঃ

আমার দেখা আকাশের সঙ্গে অনুচ্ছেদের আকাশের মিল বেশি, অনেক।

ঘুম থেকে উঠেই আমি দেখি সোনালি রোদ ছড়িয়ে আছে পুব আকাশে। আকাশ নীল। মাঝে মাঝে সাদা মেঘের ভেলা। বিকেলেই হঠাৎ দেখি আকাশজুড়ে পাংশু আর কালো মেঘ ছড়ানো। আবার সন্ধ্যার পর দেখি কালো আকাশজুড়ে রুপালি চাঁদ আর অসংখ্য জ্বলজ্বলে রুপোর মতো তারার মেলা।

8 months ago
336
উত্তরঃ

হ্যাঁ, খালি চোখে দেখা আকাশ আর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আকাশ একই। অনুচ্ছেদের দিনের বেলার এবং রাতের বেলার আকাশের রূপ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলার সূর্যের কিরণ ও আকাশের নীল রং খালি চোখে দেখা যায়। আবার রাতের কালো আকাশের রূপালি চাঁদ ও ঝকঝকে গ্রহ, তারা সবই খালি চোখে দেখা যায়।

8 months ago
348
উত্তরঃ

মাদার তেরেসার গঠিত সংঘটির নাম 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'।

8 months ago
384
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews