পরস্পর বিরোধী দুই আদর্শের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিশ্বে নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম হয়। বিশ্বের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। ঐতিহাসিকগণ এরূপ অবস্থাকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে তুলনা করেছেন।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের স্নায়ুযুদ্ধের মিল রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধ কথাটির ব্যবহার সম্ভবত ১৯৪৬ সালের গোড়া দিকে শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গ রাজ্যের ফুলটনে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তা থেকেই স্নায়ুযুদ্ধের সূত্রপাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব শক্তিগুলোর উত্থান-পতন ঘটে ও ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই বিশ্বযুদ্ধের মিত্র পক্ষে থাকলেও যুদ্ধ শেষে মতাদর্শগত পার্থক্যসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক মতবাদ এবং আমেরিকা পুঁজিবাদী মতবাদে বিশ্বাসী ছিল। ধীরে ধীরে গোটা বিশ্ব এই দুই পরাশক্তির অধীনে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিরোধ লেগেই থাকত। দুই পরাশক্তির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধভাব চলতে থাকে। দুই শক্তিই নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য NATO, SEATO, CENTO, WARSAW Pact গঠন করে। উদ্দীপকে দেখা যায় পরস্পর বিরোধী দুই আদর্শের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পেিড়। বিশ্বে নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম হয়। বিশ্বের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। পরিশেষে বলা যায় সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদী রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্যই স্নায়ু যুদ্ধের মূল কারণ এবং তাদের বৈরিতা থেকেই বিশ্বের নতুন নতুন সংগঠনের জন্ম হয়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?