Academy

উদ্দীপক-১: নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের বেশি ভাব-বন্ধুত্ব কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান- বিভিন্ন ফন্দি করে অনেক মানুষ এখন অন্যের বাচ্চা চুরি করে। সামাদ মিয়াও তো একদিন তেমন কিছু করে বসতে পারে।

উদ্দীপক-২: বারো বছর আগের ছোট্ট আবীর আজ কলেজ থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে। রক্তের জন্য বাবা-মা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। খবর পেয়ে সামাদ মিয়া ছুটে এসে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন- 'সাহেব, আবীর বাবার জন্য আমার সব রক্ত নেন, আমার নিজের ছেলেরে হারাইছি, ওরে হারাইলে আমি বাঁচুম না।'

'উদ্দীপকের সামাদ মিয়া যেন কাবুলিওয়ালা গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে।'- বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

উদ্দীপক এবং 'কাবুলিওয়ালা' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপ ফুটে ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

কাবুলিওয়ালা' গল্পে লেখক দেখিয়েছেন যে, দেশ ভিন্ন হলেও পিতৃহৃদয়ে থাকা স্নেহ-বাৎসল্যের মধ্যে কোনো ভিন্নতা নেই। দেশ আলাদা হতে পারে, সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে কিন্তু সন্তানের প্রতি সকল পিতার ভালোবাসা একরকম। সন্তানের মঙ্গল-চিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাঙ্ক্ষা। কাবুলিওয়ালা রহমত চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ সত্যই প্রকাশিত হয়েছে।

উদ্দীপক-১ অংশে দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সঙ্গে আবীরের অন্তরঙ্গতা মেনে নিতে পারেন না তার মা। এজন্য তিনি স্বামীর কাছে তার উদ্বেগের কথা জানান। কিন্তু উদ্দীপক-২ অংশে আমরা দেখি, আবীর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেই সন্দেহভাজন সামাদ মিয়াই রক্ত দিতে ছুটে আসে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত মিনিকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসত। দেশে তারও মিনির বয়সি একটি মেয়ে ছিল। তাই বহুদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সে ছুটে আসে মিনিকে দেখতে। তার জন্য নিয়ে আসে বাদাম-কিশমিশ।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের রহমত ও উদ্দীপকের সামাদ মিয়া দুজনের মাঝেই সন্তানবাৎসল্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমতের মধ্য দিয়ে পিতৃত্বের সর্বজনীন রূপটিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্দীপকের সামাদও তেমনই একজন স্নেহবৎসল পিতা। সামাদ মিয়া যেন 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূলভাবকেই ধারণ করে আছে। এ বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

8 months ago

কাবুলিওয়ালা

আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না।
সকালবেলায় আমার নভেলের সপ্তদশ পরিচ্ছেদে হাত দিয়াছি এমন সময় মিনি আসিয়াই আরম্ভ করিয়া দিল, "বাবা, রামদয়াল দরোয়ান কাককে কৌয়া বলছিল, সে কিচ্ছু জানে না। না?"
সে আমার লিখিবার টেবিলের পার্শ্বে আমার পায়ের কাছে বসিয়া নিজের দুই হাঁটু এবং হাত লইয়া অতিদ্রুত উচ্চারণে আগডুম-বাগডুম খেলিতে আরম্ভ করিয়া দিল।
আমার ঘর পথের ধারে। হঠাৎ মিনি আগডুম-বাগডুম খেলা রাখিয়া জানালার ধারে ছুটিয়া গেল এবং চিৎকার করিয়া ডাকিতে লাগিল, "কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা।"

ময়লা ঢিলা কাপড় পরা, পাগড়ি মাথায়, ঝুলি ঘাড়ে, হাতে গোটাদুই-চার আঙুরের বাক্স, এক লম্বা কাবুলিওয়ালা পথ দিয়া যাইতেছিল তাহাকে দেখিয়া আমার কন্যারত্নের কিরূপ ভাবোদয় হইল বলা শক্ত, তাহাকে ঊর্ধ্বশ্বাসে ডাকাডাকি আরম্ভ করিয়া দিল।

মিনির চিৎকারে যেমনি কাবুলিওয়ালা হাসিয়া মুখ ফিরাইল এবং আমাদের বাড়ির দিকে আসিতে লাগিল, অমনি সে ঊর্ধ্বশ্বাসে অন্তঃপুরে দৌড় দিল, তাহার আর চিহ্ন দেখিতে পাওয়া গেল না। তাহার মনের মধ্যে একটা অন্ধ বিশ্বাসের মতো ছিল যে, ঐ ঝুলিটার ভিতর সন্ধান করিলে তাহার মতো দুটো-চারটে জীবিত মানবসন্তান পাওয়া যাইতে পারে।

আমি মিনির অমূলক ভয় ভাঙাইয়া দিবার অভিপ্রায়ে তাহাকে অন্তঃপুর হইতে ডাকাইয়া আনিলাম- সে আমার গা ঘেঁষিয়া দাঁড়াইয়া রহিল। কাবুলি ঝুলির মধ্য হইতে কিসমিস, খোবানি বাহির করিয়া তাহাকে দিতে গেল, সে কিছুতেই লইল না, দ্বিগুণ সন্দেহের সহিত আমার হাঁটুর কাছে সংলগ্ন হইয়া রহিল। প্রথম পরিচয়টা এমনি ভাবে গেল।

কিছুদিন পরে একদিন সকালবেলায় বাড়ি হইতে বাহির হইবার সময় দেখি, আমার দুহিতাটি দ্বারের সমীপস্থ বেঞ্চির উপর বসিয়া অনর্গল কথা কহিয়া যাইতেছে এবং কাবুলিওয়ালা তাহার পদতলে বসিয়া সহাস্যমুখে শুনিতেছে এবং মধ্যে মধ্যে প্রসঙ্গক্রমে নিজের মতামতও ব্যক্ত করিতেছে। মিনির পঞ্চবর্ষীয় জীবনের অভিজ্ঞতায় বাবা ছাড়া এমন ধৈর্যবান শ্রোতা সে কখনো পায় নাই। আবার দেখি, তাহার ক্ষুদ্র আঁচল বাদাম-কিসমিসে পরিপূর্ণ।

সংবাদ পাইলাম, কাবুলিওয়ালার সহিত মিনির এই যে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ তাহা নহে, ইতোমধ্যে সে প্রায় প্রত্যহ আসিয়া পেস্তাবাদাম ঘুষ দিয়া মিনির ক্ষুদ্র হৃদয়টুকু অনেকটা অধিকার করিয়া লইয়াছে।

দেখিলাম, এই দুটি বন্ধুর মধ্যে গুটিকতক বাঁধা কথা এবং ঠাট্টা প্রচলিত আছে- যথা, রহমতকে দেখিবামাত্র আমার কন্যা হাসিতে হাসিতে জিজ্ঞাসা করিত, "কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা, তোমার ও ঝুলির ভিতর কী?"
রহমত একটা অনাবশ্যক চন্দ্রবিন্দু যোগ করিয়া হাসিতে হাসিতে উত্তর করিত, "হাঁতি।"
উহাদের মধ্যে আরও-একটা কথা প্রচলিত ছিল। রহমত মিনিকে বলিত, "খোঁখী, তোমি সসুরবাড়ি কখুনু যাবে না?"
কথাটার একটা কোনো জবাব না দিয়া চুপ করিয়া থাকা নিতান্ত তাহার স্বভাববিরুদ্ধ- সে উল্টিয়া জিজ্ঞাসা করিত, "তুমি শ্বশুরবাড়ি যাবে?"
রহমত কাল্পনিক শ্বশুরের প্রতি প্রকাণ্ড মোটা মুষ্টি আস্ফালন করিয়া বলিত, "হামি সসুরকে মারবে।”
শুনিয়া মিনি শ্বশুর-নামক কোনো-এক অপরিচিত জীবের দুরবস্থা কল্পনা করিয়া অত্যন্ত হাসিত।
মিনির মা অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের লোক। রহমত কাবুলিওয়ালা সম্বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিলেন না। তাহার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখিবার জন্য তিনি আমাকে বারবার অনুরোধ করিয়াছিলেন।
একদিন সকালে আমার ছোট ঘরে বসিয়া প্রুফশিট সংশোধন করিতেছি। এমন সময় রাস্তায় ভারি একটা গোল শুনা গেল।

চাহিয়া দেখি, আমাদের রহমতকে দুই পাহারাওয়ালা বাঁধিয়া লইয়া আসিতেছে- তাহার পশ্চাতে কৌতূহলী ছেলের দল চলিয়াছে। আমি দ্বারের বাহিরে গিয়া পাহারাওয়ালাকে দাঁড় করাইলাম, জিজ্ঞাসা করিলাম, ব্যাপারটা কী?
কিয়দংশ তাহার কাছে, কিয়দংশ রহমতের কাছে শুনিয়া জানিলাম যে, আমাদের প্রতিবেশী একজন লোক রামপুরী চাদরের জন্য রহমতের কাছে কিঞ্চিৎ ধারিত- মিথ্যাপূর্বক সেই দেনা সে অস্বীকার করে এবং তাহাই লইয়া বচসা করিতে করিতে রহমত তাহাকে এক ছুরি বসাইয়া দিয়াছে।
রহমত সেই মিথ্যাবাদীর উদ্দেশে নানারূপ অশ্রাব্য গালি দিতেছে, এমন সময় 'কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা' করিয়া ডাকিতে ডাকিতে মিনি ঘর হইতে বাহির হইয়া আসিল।
রহমতের মুখ মুহূর্তের মধ্যে কৌতুকহাস্যে প্রফুল্ল হইয়া উঠিল। মিনি একেবারেই তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল, "তুমি শ্বশুরবাড়ি যাবে?”
রহমত হাসিয়া কহিল, "সিখানেই যাচ্ছে।”
সাংঘাতিক আঘাত করার অপরাধে কয়েক বৎসর রহমতের কারাদণ্ড হইল।
তাহার কথা একপ্রকার ভুলিয়া গেলাম।
কত বৎসর কাটিয়া গেল। আমার ঘরে আজ রাত্রি শেষ হইতে-না-হইতে সানাই বাজিতেছে। আজ আমার মিনির বিবাহ।

আমি আমার লিখিবার ঘরে বসিয়া হিসাব দেখিতেছি, এমন সময় রহমত আসিয়া সেলাম করিয়া দাঁড়াইল।
আমি প্রথমে তাহাকে চিনিতে পারিলাম না। তাহার সে ঝুলি নাই। তাহার সে লম্বা চুল নাই, তাহার শরীরে পূর্বের মতো সে তেজ নাই। অবশেষে তাহার হাসি দেখিয়া তাহাকে চিনিলাম।
কহিলাম, "কী রে রহমত, কবে আসিলি?"
সে কহিল, "কাল সন্ধ্যাবেলা জেল হইতে খালাস পাইয়াছি।"
আমার ইচ্ছা করিতে লাগিল, আজিকার এই শুভদিনে এ লোকটা এখান হইতে গেলেই ভালো হয়।
আমি তাহাকে কহিলাম, "আজ আমাদের বাড়িতে একটা কাজ আছে, আমি কিছু ব্যস্ত আছি, তুমি আজ যাও।”
কথাটা শুনিয়াই সে তৎক্ষণাৎ চলিয়া যাইতে উদ্যত হইল, অবশেষে দরজার কাছে গিয়া একটু ইতস্তত করিয়া কহিল, "খোঁখীকে একবার দেখিতে পাইব না?"
আমি কহিলাম, "আজ বাড়িতে কাজ আছে, আজ আর কাহারও সহিত দেখা হইতে পারিবে না।"
সে যেন কিছু ক্ষুণ্ণ হইল। স্তব্ধভাবে দাঁড়াইয়া একবার স্থিরদৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে চাহিল, তারপরে 'বাবু সেলাম' বলিয়া দ্বারের বাহির হইয়া গেল।
আমার মনে কেমন একটু ব্যথা বোধ হইল। মনে করিতেছি তাহাকে ফিরিয়া ডাকিব, এমন সময়ে দেখি সে আপনি ফিরিয়া আসিতেছে।

কাছে আসিয়া কহিল, "এই আঙুর এবং কিঞ্চিৎ কিসমিস, বাদাম খোঁখীর জন্য আনিয়াছিলাম, তাহাকে দিবেন।"
আমি সেগুলি লইয়া দাম দিতে উদ্যত হইলে সে হঠাৎ আমার হাত চাপিয়া ধরিল, কহিল, "আপনার বহুৎ দয়া, আমার চিরকাল স্মরণ থাকিবে- আমাকে পয়সা দিবেন না। বাবু, তোমার যেমন একটি লড়কি আছে, তেমনি

দেশে আমারও একটি লড়কি আছে। আমি তাহারই মুখখানি স্মরণ করিয়া তোমার খোঁখীর জন্য কিছু কিছু মেওয়া হাতে লইয়া আসি, আমি তো সওদা করিতে আসি না।"
এই বলিয়া সে আপনার মস্ত ঢিলা জামাটার ভিতর হাত চালাইয়া দিয়া বুকের কাছে কোথা হইতে একটুকরা ময়লা কাগজ বাহির করিল। বহু সযত্নে ভাঁজ খুলিয়া দুই হস্তে আমার টেবিলের উপর মেলিয়া ধরিল।
দেখিলাম, কাগজের উপর একটি ছোট হাতের ছাপ। ফটোগ্রাফ নহে, তেলের ছবি নহে, হাতে খানিকটা ভুসা মাখাইয়া কাগজের উপরে তাহার চিহ্ন ধরিয়া লইয়াছে। কন্যার এই স্মরণচিহ্নটুকু বুকের কাছে লইয়া রহমত প্রতিবৎসর কলিকাতার রাস্তায় মেওয়া বেচিতে আসে।
দেখিয়া আমার চোখ ছলছল করিয়া আসিল। সেই হস্তচিহ্ন আমারই মিনিকে স্মরণ করাইয়া দিল। আমি তৎক্ষণাৎ তাহাকে অন্তঃপুর হইতে ডাকাইয়া পাঠাইলাম। অন্তঃপুরে ইহাতে অনেক আপত্তি উঠিয়াছিল। কিন্তু আমি কিছুতে কর্ণপাত করিলাম না। রাঙাচেলি-পরা কপালে-চন্দন-আঁকা বধূবেশিনী মিনি সলজ্জভাবে আমার কাছে আসিয়া দাঁড়াইল।
তাহাকে দেখিয়া কাবুলিওয়ালা প্রথমটা থতমত খাইয়া গেল, তাহাদের পুরাতন আলাপ জমাইতে পারিল না। অবশেষে হাসিয়া কহিল, "খোঁখী, তোমি সসুরবাড়ি যাবিস?"

কাবুলিওয়ালার সহিত মিনির যেদিন প্রথম সাক্ষাৎ হইয়াছিল, আমার সেই দিনের কথা মনে পড়িল। মনটা কেমন ব্যথিত হইয়া উঠিল।
মিনি চলিয়া গেলে একটা গভীর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া রহমত মাটিতে বসিয়া পড়িল। সে হঠাৎ স্পষ্ট বুঝিতে পারিল, তাহার মেয়েটিও ইতোমধ্যে এইরূপ বড় হইয়াছে।
আমি একখানি নোট লইয়া তাহাকে দিলাম। বলিলাম, "রহমত, তুমি দেশে তোমার মেয়ের কাছে ফিরিয়া যাও; তোমাদের মিলনসুখে আমার মিনির কল্যাণ হউক।"

(সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত)

Content added By

Related Question

View More

কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে ছিল তার মেয়ের ছোট্ট হাতের ছাপ।

মিনির প্রতি সন্তান-বাৎসল্যের কারণে কাবুলিওয়ালা বারবার গল্পকথকদের বাড়ি আসার বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে রহমত প্রতিবছর কলকাতায় মেওয়া বেচতে আসে। তার বাড়িতেও গল্পকথকের মেয়ে মিনির মতো এক মেয়ে আছে। ফলে মিনির মধ্যেই সে নিজের মেয়ের ছায়া দেখতে পায়। এজন্য স্নেহের টানে রহমত বারবার মিনিকে দেখতে আসে। এসময় সে মিনির জন্য আঙুর, কিশমিশ, বাদাম প্রভৃতি নিয়ে আসে। তার এখানে আসা যে কেবল স্নেহের টানেই সেটি বোঝাতেই রহমত প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।

উদ্দীপক-১ অংশে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের গল্পকথকের স্ত্রীর সন্দেহপ্রবণ মানসিকতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মা ভীতু প্রকৃতির মানুষ। তিনি কাবুলিওয়ালাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। এ কারণে তিনি কাবুলিওয়ালার সাথে মিনুর কথা বলাকে সহজভাবে নিতে পারেন না। তাই তিনি মিনুর বাবাকে বারবার কাবুলিওয়ালার দিকে নজর রাখতে বলেন।

উদ্দীপক-১-এ দেখা যায়, নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের ভাব-বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান যে, অনেক মানুষ বিভিন্ন ফন্দি করে অন্যের বাচ্চা চুরি করে নিয়ে যায়। সামাদ মিয়াও সে রকম কিছু করে বসতে পারে। 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কথকের স্ত্রীও রহমতের সঙ্গে তার মেয়ে মিনির বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না। তিনিও রহমতকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকেন। গল্পের এ দিকটিই উদ্দীপক-১-এ প্রতিফলিত হয়েছে।

কাবুলিয়ালার ঝুলি সম্পর্কে মিনির অন্ধ বিশ্বাস ছিল যে, বুঝুলির ভিতরে তার মতে দুটো-চারটে জীবিত মানব সন্তান পাওয়া যেতে পারে।

কাবুলিওয়ালা তার পিতৃসুলভ স্নেহভালোবাসা দিয়ে মিনির ক্ষুদ্র হৃদয় জয় করে নিয়েছিল।

মিনিকে দেখে কাবুলিওয়ালার দূর দেশে রেখে আসা নিজ কন্যার কথা মনে পড়ে। তাই সে প্রায় প্রতিদিনই মিনির সাথে দেখা করতে আসে। বসে বসে মিনির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। মিনির জন্য নিয়ে আসে বাদাম আর কিশমিশ। এমন করেই মিনির ক্ষুদ্র হৃদয়ে স্থান করে নেয় সে।

উদ্দীপকের ফাতেমা চরিত্রের সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মায়ের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

'কাবুলিওয়ালা' গল্পে সদা হাস্যোজ্জ্বল মিনির সঙ্গে কাবুলিওয়ালা রহমতের এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ভিন দেশি রহমতের বিষয়ে মিনির মায়ের মনে শঙ্কা তৈরি হয়। তিনি অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাই কাবুলিওয়ালার সম্পর্কে নিঃসংশয় ছিলেন না। ফলে মিনির বাবাকে কাবুলিওয়ালার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে বলেন। সন্তান হারানোর আশঙ্কায় মিনির সাথে কাবুলিওয়ালার সাক্ষাৎ তিনি পছন্দ করতেন না।

উদ্দীপকে গৃহকর্মী রাবেয়ার সাথে ছোটো মেয়ে পুতুলের স্নেহবাৎসল্যের সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। মাতৃহৃদয় তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানের স্মৃতি খুঁজে বেড়ায় ছোট্ট পুতুলের ভালোবাসায়। পুতুলের মা ফাতেমা তাদের এই বন্ধুত্ব ও স্নেহময় সম্পর্ককে শ্রদ্ধা করেন। একজন মা হিসেবে রাবেয়ার মাতৃত্বের অনুভূতির প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। পক্ষান্তরে, 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মিনির মা মিনি ও কাবুলিওয়ালার সম্পর্কে শঙ্কিত। অচেনা একজন লোকের সাথে মেয়ের বন্ধুত্ব তার মোটেও পছন্দ ছিল না। কিন্তু উদ্দীপকে ফাতেমা চরিত্রে মিনির মায়ের মতো শঙ্কা নেই। তিনি গরিব রাবেয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল, যা মিনির মায়ের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ফাতেমা চরিত্রের সাথে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মায়ের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান রয়েছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...